শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

বিশ্ব

আগেই উড়ানে নিষেধাজ্ঞা, তবু পেলেন চাকরি

১৭৪ যাত্রীর বিমান ধ্বংসের চেষ্টা, কো-পাইলটের ভয়ংকর অতীত!

১৭৪ যাত্রীর বিমান ধ্বংসের চেষ্টা, কো-পাইলটের ভয়ংকর অতীত!
ওমানের নাগরিক হাম্মাম আল-হাম্মামি। ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ককপিটের ভেতর হামলার ঘটনায় ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামিকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই ফ্লাইটে ১৭০-এর বেশি যাত্রী ছিলেন। উড্ডয়নের পর কো-পাইলট ক্যাপ্টেনকে হামলা করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাম আল-হামামি ওমানি নাগরিক। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্মগ্রহণ করেন; তার বাবা ওমানি এবং মা সিরীয়। তবে তার পরিচয় ও অতীত নিয়ে পাওয়া তথ্যের বড় একটি অংশ তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এসেছে। তার বিরুদ্ধে কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের এয়ারলাইন ওমান এয়ারে কাজ করার সময় হামামের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী মতাদর্শের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তাকে উড়ান প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে প্রশাসনিক কাজে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ওমানে তার উড়ান-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার কথাও উঠে এসেছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কী ধরনের মতাদর্শ বা উপকরণের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং সেই তথ্য পরবর্তীতে অন্য এয়ারলাইনকে জানানো হয়েছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

হামামের নামে থাকা একটি পরে মুছে ফেলা লিংকডইন প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেছিলেন। এরপর ২০২৫ সালে রয়্যাল এয়ার মরক্কোতে যোগ দেন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেখান থেকে চলে যান। পরে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন।

তার ফ্লাইদুবাইয়ে কাজের সময়কাল ছিল তুলনামূলকভাবে কম প্রতিবেদনগুলোতে প্রায় আট মাসের কথা বলা হয়েছে।

সিএনএন ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে হামামের নামে থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের কিছু পোস্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পোস্টে ইসরায়েলি বিমান ও আল-কায়েদার সাবেক নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির ছবি-সংবলিত কনটেন্ট থাকার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে এসব পোস্টের প্রকৃত মালিকানা ও হামলার সঙ্গে সেগুলোর সরাসরি সম্পর্ক তদন্তের বিষয়।

ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট FZ1073 দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠার পর বিমানটি হঠাৎ দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। একপর্যায়ে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকের দিকে জরুরি অবতরণ করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, কো-পাইলট ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করে এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা হস্তক্ষেপ করেন এবং বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলটও নিয়ন্ত্রণ নিতে সহায়তা করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করে।

এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। কিছু তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামামের উদ্দেশ্য বিমানটি ইসরায়েলে বিধ্বস্ত করা হতে পারে। তবে তিনি একাই কাজ করেছিলেন, নাকি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল তা এখনো তদন্তাধীন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং হামামের সম্ভাব্য উগ্রবাদী প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তবে তদন্তকারীরা এখনো হামলার পূর্ণ উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি।

হামামের আগের কর্মজীবনে যদি সত্যিই উড়ান-সংক্রান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে কীভাবে তিনি পরবর্তীতে অন্য এয়ারলাইনে কো-পাইলট হিসেবে কাজের সুযোগ পেলেন এটাই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ওমানের আগের উদ্বেগ অন্য কর্তৃপক্ষ বা এয়ারলাইনকে জানানো হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর ফ্লাইদুবাইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পাইলট যাচাই এবং আন্তর্জাতিক রুটে কর্মীদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য যোগসূত্র সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। 

#ফ্লাইদুবাই #কো_পাইলট #বিমান_নিরাপত্তা

চেকপোস্ট

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


১৭৪ যাত্রীর বিমান ধ্বংসের চেষ্টা, কো-পাইলটের ভয়ংকর অতীত!

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ককপিটের ভেতর হামলার ঘটনায় ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামিকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই ফ্লাইটে ১৭০-এর বেশি যাত্রী ছিলেন। উড্ডয়নের পর কো-পাইলট ক্যাপ্টেনকে হামলা করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাম আল-হামামি ওমানি নাগরিক। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্মগ্রহণ করেন; তার বাবা ওমানি এবং মা সিরীয়। তবে তার পরিচয় ও অতীত নিয়ে পাওয়া তথ্যের বড় একটি অংশ তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এসেছে। তার বিরুদ্ধে কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের এয়ারলাইন ওমান এয়ারে কাজ করার সময় হামামের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী মতাদর্শের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তাকে উড়ান প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে প্রশাসনিক কাজে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ওমানে তার উড়ান-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার কথাও উঠে এসেছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কী ধরনের মতাদর্শ বা উপকরণের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং সেই তথ্য পরবর্তীতে অন্য এয়ারলাইনকে জানানো হয়েছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

হামামের নামে থাকা একটি পরে মুছে ফেলা লিংকডইন প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেছিলেন। এরপর ২০২৫ সালে রয়্যাল এয়ার মরক্কোতে যোগ দেন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেখান থেকে চলে যান। পরে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন।

তার ফ্লাইদুবাইয়ে কাজের সময়কাল ছিল তুলনামূলকভাবে কম প্রতিবেদনগুলোতে প্রায় আট মাসের কথা বলা হয়েছে।

সিএনএন ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে হামামের নামে থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের কিছু পোস্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পোস্টে ইসরায়েলি বিমান ও আল-কায়েদার সাবেক নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির ছবি-সংবলিত কনটেন্ট থাকার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে এসব পোস্টের প্রকৃত মালিকানা ও হামলার সঙ্গে সেগুলোর সরাসরি সম্পর্ক তদন্তের বিষয়।

ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট FZ1073 দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠার পর বিমানটি হঠাৎ দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। একপর্যায়ে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকের দিকে জরুরি অবতরণ করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, কো-পাইলট ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করে এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা হস্তক্ষেপ করেন এবং বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলটও নিয়ন্ত্রণ নিতে সহায়তা করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করে।

এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। কিছু তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামামের উদ্দেশ্য বিমানটি ইসরায়েলে বিধ্বস্ত করা হতে পারে। তবে তিনি একাই কাজ করেছিলেন, নাকি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল তা এখনো তদন্তাধীন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং হামামের সম্ভাব্য উগ্রবাদী প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তবে তদন্তকারীরা এখনো হামলার পূর্ণ উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি।

হামামের আগের কর্মজীবনে যদি সত্যিই উড়ান-সংক্রান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে কীভাবে তিনি পরবর্তীতে অন্য এয়ারলাইনে কো-পাইলট হিসেবে কাজের সুযোগ পেলেন এটাই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ওমানের আগের উদ্বেগ অন্য কর্তৃপক্ষ বা এয়ারলাইনকে জানানো হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর ফ্লাইদুবাইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পাইলট যাচাই এবং আন্তর্জাতিক রুটে কর্মীদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য যোগসূত্র সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। 


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত