খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অগ্নিকান্ড পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশব্যাপী হাসপাতাল গুলোতে আধুনিক চিকিৎসা সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবার মান্নোন্নয়নে আগামী বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে ১ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাজেট পাস হলে দেশের হাসপাতাল গুলোকে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে সমৃদ্ধ করা হবে। আজ ২০ মে দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যখাতে তেমন কিছু কেনা হয়নি শুধু লুটপাট হয়েছে। বিগত সরকার ও অন্তবর্তী সরকারও এ খাতে নজর দেয়নি। আমরা ইনশাআল্লাহ বাজেট বৃদ্ধি করছি। বাজেট পাস হলে আগামী অর্থ বছরে হাসপাতাল গুলোতে যতটুকু সম্ভব আধুনিক মেশিন ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে। তিনি আরো জানান, আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে খুলনা সহ দেশের পাঁচ বিভাগীয় শহরে নির্মানাধীন অত্যাধুনিক পাঁচটি শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এতে শিশু স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন স্বস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদের পর দেশের প্রতিটি উপজেলায় একজন প্লাটুন কমান্ডারের নেতৃত্বে ১০ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি হাসপাতাল ইউনিটে আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে। পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের রান্নাঘরে রোগীদের জন্য তৈরি করা কুমড়োর সবজি মুখে দিয়ে ফেলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের তরকারি আপনাদের বাসায় রান্না হলে কি খেতেন? এসময় সুপারিন্টেন্ডেন্টকে ভালো মানের তরকারি সরবরাহের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এরপর তিনি রেবিট ভ্যাকসিন কর্নার পরিদর্শন করেন। সেখানে রোগীরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় বাহিরে থেকে টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে জবাবদিহির মুখে ফেলেন। মন্ত্রী জানতে চান কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জবাবে তত্ত্বাবধায়ক জানান, সরবরাহ সংকটের কারনে সমস্যা হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে ঢাকায় ফোন করে মন্ত্রী জানতে পারেন, ভ্যাকসিন আনার জন্য যথাযথ কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় তিনি দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং সাংবাদিকদের বলেন, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা কোনভাবেই সহ্য করা হবে না। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, হাসপাতালের শৌচাগার ব্যবহারের অনুপযোগী। পুরো হাসপাতাল পরিস্কার - পরিচ্ছন্ন রাখতে কতৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হবে। এসময় হাসপাতালের নানা অবিয়ম ও রোগীদের দুর্ভোগ দেখে মন্ত্রী আরোও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দেন। জনবল সংকট নিরসনে ঈদের পর এক লাখ জনবল নিয়োগের কথাও জানান। তিনি বলেন, নতুন নিয়োগে চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ থাকবেন। এছাড়া বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে আরোও চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর আগে মন্ত্রী আজ ভোর ৬ টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবনে তৃতীয় তলায় অগ্নিকান্ডের ঘটনার পরপর ঘটনাস্থল ঢাকা থেকে এসে স্বরজমিনে পরিদর্শন করেন৷ এসময় তিনি হাসপাতালে ভর্তি বিভিন্ন রোগী ও তার স্বজনদের সাথে কথা বলেন। এদিকে আজ ভোর ৬ টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ভবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পর হুড়োহুড়ির মধ্যে নামতে গিয়ে অন্তত পাচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্য তৌহিদ আহতদের মধ্যে দুই নার্সকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় রেজাউল জানান, ধারনা করা হচ্ছে স্টোর রুম থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে। আগুন ও ঘন ধোঁয়ায় অপারেশন থিয়েটার ( ওটি) ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছু দেখাই দেখা যাচ্ছিল না। পরে পোস্ট অপারেটিভ রুম থেকে গুরুতর রোগীদের পেছনের দরজা দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আইসিইউর কিছু রোগীকে ও স্থানান্তর করা হয়। তিনি আরো জানান, ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় বেশ কয়েকজন নার্সকে উদ্ধার করা হয়। এসময় দুজন নার্স অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাদেরকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তিন তলা থেকে নামার সময় আরোও একজন নার্স আহত হন। তবে কোন রোগী আহত হননি বলে তিনি দাবি করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় ১ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ বলেন, ভোর ৬ টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে বয়রা থেকে তিনটি ঘটনাস্থলে যায়। পরে আরোও সাতটি ইউনিট যোগ দেয়৷ প্রায় ১ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তিনি আরো জানান, ভবনের সব গেট তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশে কিছুটা সমস্যা হয়। পরে তালা ভেঙে উদ্ধার কাজ চালানো হয় এবং বেলকনি থেকে কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়। রোগী ও স্বজনেরা জানান, ভোরের দিকে বেশিরভাগ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ ধোঁয়ায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই দ্রুত নিরাপদ স্থানে নেমে আসেন। অনেক রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ওটিতে ২৪ ঘন্টা অপারেশন চললেও এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রহস্যজনক। সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা: হোসেন আলী জানান, প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট বা এসি বিস্ফোরন থেকে আগুনের সুত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারন জানা যাবে। হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী আবসার কমান্ডার এসিপি মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রনের সময় গ্রিল কাটতে গিয়ে সেটি ভেঙে পড়ে দুজন স্টাফ নার্স ও ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য আহত হন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে খুমেক হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হুড়োহুড়ির মধ্যে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া এই রোগীর নাম নাসরিন নাহার। তিনি খুলনা কয়রা উপজেলার নেছার আলীর মেয়ে। হাসপাতাল সুত্রে জানাগেছে, জন্মগত ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা নিয়ে গত রোববার হাসপাতালে ভর্তি হন নাসরিন। আজ সকালে ওটিতে আগুন লাগার পর পুরো হাসপাতালে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র ( আইসিইউ) থেকে রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়।স্বজনদের অভিযোগ, তাড়াহুড়ো করে নামানোর সময় নাসরিনের অক্সিজেন মাস্ক খুলে যায়। এতে অক্সিজেনের অভাবে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান দিলিপ কুমার কুন্ডু বলেন, নাসরিন বাহার নামের ওই রোগী ভেন্টিলেশনে ছিলেন। আইসিইউতে মোট ১৫ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে ঔই রোগীকে তার স্বজনরাই নামাচ্ছিলেন। নিচে নামানোর পথেই তার মৃত্যু হয়। তিনি আরো বলেন, হাসাপাতালে অগ্নিকাণ্ডে বেশির ভাগ যন্ত্রাংশ,বেড থেকে শুরু করে বেশিরভাগ পুড়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অগ্নিকান্ড পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশব্যাপী হাসপাতাল গুলোতে আধুনিক চিকিৎসা সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবার মান্নোন্নয়নে আগামী বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে ১ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাজেট পাস হলে দেশের হাসপাতাল গুলোকে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে সমৃদ্ধ করা হবে। আজ ২০ মে দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যখাতে তেমন কিছু কেনা হয়নি শুধু লুটপাট হয়েছে। বিগত সরকার ও অন্তবর্তী সরকারও এ খাতে নজর দেয়নি। আমরা ইনশাআল্লাহ বাজেট বৃদ্ধি করছি। বাজেট পাস হলে আগামী অর্থ বছরে হাসপাতাল গুলোতে যতটুকু সম্ভব আধুনিক মেশিন ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে। তিনি আরো জানান, আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে খুলনা সহ দেশের পাঁচ বিভাগীয় শহরে নির্মানাধীন অত্যাধুনিক পাঁচটি শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এতে শিশু স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন স্বস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদের পর দেশের প্রতিটি উপজেলায় একজন প্লাটুন কমান্ডারের নেতৃত্বে ১০ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি হাসপাতাল ইউনিটে আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে। পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের রান্নাঘরে রোগীদের জন্য তৈরি করা কুমড়োর সবজি মুখে দিয়ে ফেলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের তরকারি আপনাদের বাসায় রান্না হলে কি খেতেন? এসময় সুপারিন্টেন্ডেন্টকে ভালো মানের তরকারি সরবরাহের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এরপর তিনি রেবিট ভ্যাকসিন কর্নার পরিদর্শন করেন। সেখানে রোগীরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় বাহিরে থেকে টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে জবাবদিহির মুখে ফেলেন। মন্ত্রী জানতে চান কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জবাবে তত্ত্বাবধায়ক জানান, সরবরাহ সংকটের কারনে সমস্যা হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে ঢাকায় ফোন করে মন্ত্রী জানতে পারেন, ভ্যাকসিন আনার জন্য যথাযথ কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় তিনি দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং সাংবাদিকদের বলেন, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা কোনভাবেই সহ্য করা হবে না। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, হাসপাতালের শৌচাগার ব্যবহারের অনুপযোগী। পুরো হাসপাতাল পরিস্কার - পরিচ্ছন্ন রাখতে কতৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হবে। এসময় হাসপাতালের নানা অবিয়ম ও রোগীদের দুর্ভোগ দেখে মন্ত্রী আরোও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দেন। জনবল সংকট নিরসনে ঈদের পর এক লাখ জনবল নিয়োগের কথাও জানান। তিনি বলেন, নতুন নিয়োগে চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ থাকবেন। এছাড়া বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে আরোও চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর আগে মন্ত্রী আজ ভোর ৬ টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবনে তৃতীয় তলায় অগ্নিকান্ডের ঘটনার পরপর ঘটনাস্থল ঢাকা থেকে এসে স্বরজমিনে পরিদর্শন করেন৷ এসময় তিনি হাসপাতালে ভর্তি বিভিন্ন রোগী ও তার স্বজনদের সাথে কথা বলেন। এদিকে আজ ভোর ৬ টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ভবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পর হুড়োহুড়ির মধ্যে নামতে গিয়ে অন্তত পাচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্য তৌহিদ আহতদের মধ্যে দুই নার্সকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় রেজাউল জানান, ধারনা করা হচ্ছে স্টোর রুম থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে। আগুন ও ঘন ধোঁয়ায় অপারেশন থিয়েটার ( ওটি) ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছু দেখাই দেখা যাচ্ছিল না। পরে পোস্ট অপারেটিভ রুম থেকে গুরুতর রোগীদের পেছনের দরজা দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আইসিইউর কিছু রোগীকে ও স্থানান্তর করা হয়। তিনি আরো জানান, ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় বেশ কয়েকজন নার্সকে উদ্ধার করা হয়। এসময় দুজন নার্স অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাদেরকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তিন তলা থেকে নামার সময় আরোও একজন নার্স আহত হন। তবে কোন রোগী আহত হননি বলে তিনি দাবি করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় ১ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ বলেন, ভোর ৬ টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে বয়রা থেকে তিনটি ঘটনাস্থলে যায়। পরে আরোও সাতটি ইউনিট যোগ দেয়৷ প্রায় ১ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তিনি আরো জানান, ভবনের সব গেট তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশে কিছুটা সমস্যা হয়। পরে তালা ভেঙে উদ্ধার কাজ চালানো হয় এবং বেলকনি থেকে কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়। রোগী ও স্বজনেরা জানান, ভোরের দিকে বেশিরভাগ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ ধোঁয়ায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই দ্রুত নিরাপদ স্থানে নেমে আসেন। অনেক রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ওটিতে ২৪ ঘন্টা অপারেশন চললেও এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রহস্যজনক। সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা: হোসেন আলী জানান, প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট বা এসি বিস্ফোরন থেকে আগুনের সুত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারন জানা যাবে। হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী আবসার কমান্ডার এসিপি মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রনের সময় গ্রিল কাটতে গিয়ে সেটি ভেঙে পড়ে দুজন স্টাফ নার্স ও ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য আহত হন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে খুমেক হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হুড়োহুড়ির মধ্যে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া এই রোগীর নাম নাসরিন নাহার। তিনি খুলনা কয়রা উপজেলার নেছার আলীর মেয়ে। হাসপাতাল সুত্রে জানাগেছে, জন্মগত ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা নিয়ে গত রোববার হাসপাতালে ভর্তি হন নাসরিন। আজ সকালে ওটিতে আগুন লাগার পর পুরো হাসপাতালে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র ( আইসিইউ) থেকে রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়।স্বজনদের অভিযোগ, তাড়াহুড়ো করে নামানোর সময় নাসরিনের অক্সিজেন মাস্ক খুলে যায়। এতে অক্সিজেনের অভাবে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান দিলিপ কুমার কুন্ডু বলেন, নাসরিন বাহার নামের ওই রোগী ভেন্টিলেশনে ছিলেন। আইসিইউতে মোট ১৫ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে ঔই রোগীকে তার স্বজনরাই নামাচ্ছিলেন। নিচে নামানোর পথেই তার মৃত্যু হয়। তিনি আরো বলেন, হাসাপাতালে অগ্নিকাণ্ডে বেশির ভাগ যন্ত্রাংশ,বেড থেকে শুরু করে বেশিরভাগ পুড়ে গেছে।
