অনেকেই মনে করেন, হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ করেই ঘটে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন বা এমনকি এক থেকে দুই সপ্তাহ আগেই শরীর বিভিন্ন সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসব লক্ষণকে অনেকেই সাধারণ ক্লান্তি, গ্যাস্ট্রিক, বদহজম বা মানসিক চাপের সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। অথচ সময়মতো এসব উপসর্গ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিলে হার্টের মারাত্মক ক্ষতি এড়ানো এবং জীবন বাঁচানো সম্ভব।
তবে সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায় না। নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো অনেক সময় ভিন্ন হতে পারে।
১. অস্বাভাবিক ক্লান্তি
কোনো কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ক্লান্তি বা সামান্য কাজেই অবসাদ অনুভব করা হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।
২. বুকে চাপ বা অস্বস্তি
বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী লাগা, টান ধরা, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি অনুভূত হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। এই অনুভূতি বারবার আসা-যাওয়া করতে পারে।
৩. শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
অল্প হাঁটা বা সিঁড়ি ভাঙার সময় হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তা হৃদরোগের সতর্কবার্তা হতে পারে। অনেক সময় বুকে ব্যথা ছাড়াই শুধু শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
৪. বমি বমি ভাব বা বদহজম
বুকজ্বালা, বদহজম, বমি বমি ভাব বা পেটে অস্বস্তি অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের আগাম লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে এর সঙ্গে বুকে চাপ বা ঘাম থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
৫. অতিরিক্ত বা ঠান্ডা ঘাম
ঠান্ডা পরিবেশেও হঠাৎ অস্বাভাবিক ঘাম হওয়া হার্ট অ্যাটাকের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা বুকের অস্বস্তি থাকলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
৬. ব্যথা ছড়িয়ে পড়া
বুকের ব্যথা বাম হাত, দুই হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল, পিঠ বা উপরের পেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন ব্যথাকে সাধারণ পেশির ব্যথা ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়।
৭. মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা
হঠাৎ মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানো বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করাও হার্টের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
৮. হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক লাগা
হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত, খুব ধীরে বা অনিয়মিত মনে হলে এবং এর সঙ্গে অন্য উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৯. ঘুমের সমস্যা ও অস্থিরতা
হার্ট অ্যাটাকের কয়েক দিন বা সপ্তাহ আগে অনেকের ঘুমে সমস্যা, অকারণ অস্থিরতা বা অজানা দুশ্চিন্তা দেখা দিতে পারে। নারীদের মধ্যে এই লক্ষণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন—
চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ। যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, তত বেশি হার্টের পেশি রক্ষা করা সম্ভব।
বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপানের অভ্যাস, স্থূলতা বা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের এসব লক্ষণ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন থাকা উচিত। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
অনেকেই মনে করেন, হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ করেই ঘটে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন বা এমনকি এক থেকে দুই সপ্তাহ আগেই শরীর বিভিন্ন সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসব লক্ষণকে অনেকেই সাধারণ ক্লান্তি, গ্যাস্ট্রিক, বদহজম বা মানসিক চাপের সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। অথচ সময়মতো এসব উপসর্গ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিলে হার্টের মারাত্মক ক্ষতি এড়ানো এবং জীবন বাঁচানো সম্ভব।
তবে সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায় না। নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো অনেক সময় ভিন্ন হতে পারে।
১. অস্বাভাবিক ক্লান্তি
কোনো কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ক্লান্তি বা সামান্য কাজেই অবসাদ অনুভব করা হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।
২. বুকে চাপ বা অস্বস্তি
বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী লাগা, টান ধরা, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি অনুভূত হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। এই অনুভূতি বারবার আসা-যাওয়া করতে পারে।
৩. শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
অল্প হাঁটা বা সিঁড়ি ভাঙার সময় হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তা হৃদরোগের সতর্কবার্তা হতে পারে। অনেক সময় বুকে ব্যথা ছাড়াই শুধু শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
৪. বমি বমি ভাব বা বদহজম
বুকজ্বালা, বদহজম, বমি বমি ভাব বা পেটে অস্বস্তি অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের আগাম লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে এর সঙ্গে বুকে চাপ বা ঘাম থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
৫. অতিরিক্ত বা ঠান্ডা ঘাম
ঠান্ডা পরিবেশেও হঠাৎ অস্বাভাবিক ঘাম হওয়া হার্ট অ্যাটাকের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা বুকের অস্বস্তি থাকলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
৬. ব্যথা ছড়িয়ে পড়া
বুকের ব্যথা বাম হাত, দুই হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল, পিঠ বা উপরের পেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন ব্যথাকে সাধারণ পেশির ব্যথা ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়।
৭. মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা
হঠাৎ মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানো বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করাও হার্টের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
৮. হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক লাগা
হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত, খুব ধীরে বা অনিয়মিত মনে হলে এবং এর সঙ্গে অন্য উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৯. ঘুমের সমস্যা ও অস্থিরতা
হার্ট অ্যাটাকের কয়েক দিন বা সপ্তাহ আগে অনেকের ঘুমে সমস্যা, অকারণ অস্থিরতা বা অজানা দুশ্চিন্তা দেখা দিতে পারে। নারীদের মধ্যে এই লক্ষণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন—
চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ। যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, তত বেশি হার্টের পেশি রক্ষা করা সম্ভব।
বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপানের অভ্যাস, স্থূলতা বা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের এসব লক্ষণ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন থাকা উচিত। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
