হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) টিএসসিতে শিক্ষার্থীদের চাপের তুলনায় চেয়ার সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বসার জায়গা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী। কেউ কেউ আবার বাধ্য হয়ে মেঝেতে বিছানো কার্পেটে বসেই প্রয়োজনীয় কাজ সারছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, অ্যাকাডেমিক কাজ, প্রজেক্ট ও গ্রুপ স্টাডিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে টিএসসিতে শিক্ষার্থীদের ভিড় বাড়ছে। তবে এর বিপরীতে পর্যাপ্ত চেয়ার না থাকায় অনেককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ মেঝেতে বসে পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজ করছেন।
সম্প্রতি গরমের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এবং ক্যাম্পাসের পাশের মেসগুলোতে লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত টিএসসিতে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। অনেক শিক্ষার্থী লাইব্রেরিতে জায়গা না পেয়ে টিএসসিতে পড়াশোনা করছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রমও টিএসসিকেন্দ্রিক হওয়ায় সেখানে শিক্ষার্থীদের চাপ আরও বাড়ছে।
প্রায় বছরখানেক আগে পুরো টিএসসি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত করার পাশাপাশি পুরোনো টেবিলের পরিবর্তে নতুন টেবিল দেওয়া হয়। তবে এরপর শিক্ষার্থীদের বাড়তি চাপ সামলাতে আসন বা চেয়ার বাড়ানোর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে চেয়ার সংকট আরও প্রকট হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
টিএসসিতে আসা শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার বলেন, টিএসসিতে এসি থাকায় বিভিন্ন প্রয়োজনে এখানে আসতে অনেকেই আগ্রহী। ফলে আগের তুলনায় চাপ বেড়েছে। জায়গা পেতে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, টিএসসিতে আগেও চেয়ার সংকট ছিল। এসি দেওয়ার পর তা আরও বেড়েছে। মেসে লোডশেডিং থাকায় টিএসসিই এখন অনেকের পছন্দের জায়গা। ফলে এখানে এসেও অনেক সময় জায়গা পাওয়া যায় না এবং কমপক্ষে ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
চেয়ার সংকটের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. এস. এম. এমদাদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংকট সমাধানের আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা টিএসসি থেকে চেয়ার নিয়ে নিজেদের কক্ষে ব্যবহার করায় সংকট তৈরি হচ্ছে। নতুন চেয়ার দেওয়ার আগে হলের বিভিন্ন কক্ষে থাকা টিএসসির চেয়ারগুলো সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অধ্যাপক ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান বলেন, চেয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য আমরা উদ্যোগ নেবো। নতুন চেয়ার দেওয়ার আগে হলের বিভিন্ন কক্ষে টিএসসির যে চেয়ারগুলো আছে সেগুলো সংগ্রহ করতে হবে। এ বিষয়ে দ্রুত হল সুপারদের নির্দেশনা দেওয়া হবে। হলগুলোতে টিএসসির যে চেয়ার আছে সেগুলো সংগ্রহ করতে পারলে চেয়ার সংকট অনেকটাই কমে যাবে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতাও প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, টিএসসিতে চেয়ার সংকট দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি বাড়তি শিক্ষার্থী চাপ বিবেচনায় পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থা করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) টিএসসিতে শিক্ষার্থীদের চাপের তুলনায় চেয়ার সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বসার জায়গা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী। কেউ কেউ আবার বাধ্য হয়ে মেঝেতে বিছানো কার্পেটে বসেই প্রয়োজনীয় কাজ সারছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, অ্যাকাডেমিক কাজ, প্রজেক্ট ও গ্রুপ স্টাডিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে টিএসসিতে শিক্ষার্থীদের ভিড় বাড়ছে। তবে এর বিপরীতে পর্যাপ্ত চেয়ার না থাকায় অনেককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ মেঝেতে বসে পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজ করছেন।
সম্প্রতি গরমের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এবং ক্যাম্পাসের পাশের মেসগুলোতে লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত টিএসসিতে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। অনেক শিক্ষার্থী লাইব্রেরিতে জায়গা না পেয়ে টিএসসিতে পড়াশোনা করছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রমও টিএসসিকেন্দ্রিক হওয়ায় সেখানে শিক্ষার্থীদের চাপ আরও বাড়ছে।
প্রায় বছরখানেক আগে পুরো টিএসসি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত করার পাশাপাশি পুরোনো টেবিলের পরিবর্তে নতুন টেবিল দেওয়া হয়। তবে এরপর শিক্ষার্থীদের বাড়তি চাপ সামলাতে আসন বা চেয়ার বাড়ানোর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে চেয়ার সংকট আরও প্রকট হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
টিএসসিতে আসা শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার বলেন, টিএসসিতে এসি থাকায় বিভিন্ন প্রয়োজনে এখানে আসতে অনেকেই আগ্রহী। ফলে আগের তুলনায় চাপ বেড়েছে। জায়গা পেতে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, টিএসসিতে আগেও চেয়ার সংকট ছিল। এসি দেওয়ার পর তা আরও বেড়েছে। মেসে লোডশেডিং থাকায় টিএসসিই এখন অনেকের পছন্দের জায়গা। ফলে এখানে এসেও অনেক সময় জায়গা পাওয়া যায় না এবং কমপক্ষে ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
চেয়ার সংকটের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. এস. এম. এমদাদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংকট সমাধানের আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা টিএসসি থেকে চেয়ার নিয়ে নিজেদের কক্ষে ব্যবহার করায় সংকট তৈরি হচ্ছে। নতুন চেয়ার দেওয়ার আগে হলের বিভিন্ন কক্ষে থাকা টিএসসির চেয়ারগুলো সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অধ্যাপক ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান বলেন, চেয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য আমরা উদ্যোগ নেবো। নতুন চেয়ার দেওয়ার আগে হলের বিভিন্ন কক্ষে টিএসসির যে চেয়ারগুলো আছে সেগুলো সংগ্রহ করতে হবে। এ বিষয়ে দ্রুত হল সুপারদের নির্দেশনা দেওয়া হবে। হলগুলোতে টিএসসির যে চেয়ার আছে সেগুলো সংগ্রহ করতে পারলে চেয়ার সংকট অনেকটাই কমে যাবে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতাও প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, টিএসসিতে চেয়ার সংকট দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি বাড়তি শিক্ষার্থী চাপ বিবেচনায় পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থা করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
