নীলফামারীর সৈয়দপুরে অটোচালকবেশী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে এক তরুণকে অজ্ঞান করে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। টাকা না পেয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
আহত তরুণ রেজওয়ান উল্লাহ (১৮) বর্তমানে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সৈয়দপুর শহরের ওয়াপদা মোড় এলাকায়। আহত রেজওয়ান উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের শ্বাষকান্দর তালতলাপাড়া গ্রামের রিকশাচালক মোশাররফ হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় টাইলস ফিটিংসের কাজ করেন।
রেজওয়ানের অভিযোগ, মোবাইল ঠিক করতে শহরে যাওয়ার পথে একটি অটোরিকশায় ওঠেন তিনি। পরে অটোরিকশায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি কৌশলে তাকে অন্যদিকে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি চলন্ত অটোরিকশায় তার নাকের কাছে কিছু ধরলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেকে একটি ঘরে আটকা অবস্থায় দেখতে পান। সেখানে থাকা ব্যক্তিরা তার পরিবারের কাছে ফোন করে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রেজওয়ান জানান, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় এবং ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে ধাক্কা দিয়ে তিনি পালিয়ে আসেন। পরে ওয়াপদা মোড় ও রেলগেটের মাঝামাঝি এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে গেলে রিকশাচালক আব্দুল মজিদ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
উদ্ধারকারী আব্দুল মজিদ বলেন, সড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা তরুণকে দেখে তিনি হাসপাতালে নিয়ে যান এবং তার পরিবারকে খবর দেন।
রেজওয়ানের বাবা মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, এটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই ও অপহরণকারী চক্রের কাজ। তার ছেলের মোবাইল ফোন ও ১২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হুদা জানান, গুরুতর জখম অবস্থায় ওই তরুণকে হাসপাতালে আনা হয়। তার হাত ও পেটের ক্ষতস্থানে মোট ২০টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
নীলফামারীর সৈয়দপুরে অটোচালকবেশী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে এক তরুণকে অজ্ঞান করে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। টাকা না পেয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
আহত তরুণ রেজওয়ান উল্লাহ (১৮) বর্তমানে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সৈয়দপুর শহরের ওয়াপদা মোড় এলাকায়। আহত রেজওয়ান উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের শ্বাষকান্দর তালতলাপাড়া গ্রামের রিকশাচালক মোশাররফ হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় টাইলস ফিটিংসের কাজ করেন।
রেজওয়ানের অভিযোগ, মোবাইল ঠিক করতে শহরে যাওয়ার পথে একটি অটোরিকশায় ওঠেন তিনি। পরে অটোরিকশায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি কৌশলে তাকে অন্যদিকে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি চলন্ত অটোরিকশায় তার নাকের কাছে কিছু ধরলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেকে একটি ঘরে আটকা অবস্থায় দেখতে পান। সেখানে থাকা ব্যক্তিরা তার পরিবারের কাছে ফোন করে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রেজওয়ান জানান, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় এবং ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে ধাক্কা দিয়ে তিনি পালিয়ে আসেন। পরে ওয়াপদা মোড় ও রেলগেটের মাঝামাঝি এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে গেলে রিকশাচালক আব্দুল মজিদ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
উদ্ধারকারী আব্দুল মজিদ বলেন, সড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা তরুণকে দেখে তিনি হাসপাতালে নিয়ে যান এবং তার পরিবারকে খবর দেন।
রেজওয়ানের বাবা মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, এটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই ও অপহরণকারী চক্রের কাজ। তার ছেলের মোবাইল ফোন ও ১২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হুদা জানান, গুরুতর জখম অবস্থায় ওই তরুণকে হাসপাতালে আনা হয়। তার হাত ও পেটের ক্ষতস্থানে মোট ২০টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
