বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

উদ্ধার ৫৯ আগ্নেয়াস্ত্র

সুন্দরবনের ৫৯ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস র‍্যাবের

সুন্দরবনের ৫৯ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস র‍্যাবের
ছবি: চেকপোস্ট

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যে নতুন করে ৫৯ জন বনদস্যু র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে ৮ জন আগে আত্মসমর্পণ করে পুনর্বাসিত হলেও পরে আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এবার আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আগের চেয়ে কার্যকর পুনর্বাসন ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবিব পলাশ।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় খুলনা র‍্যাব-৬ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি। এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সুন্দরবনের পাঁচটি বাহিনীর ৫৯ জন দস্যু র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনোয়ারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতার বাহিনীর ৮ জন এবং মিজান বাহিনীর ৭ জন রয়েছেন।

র‍্যাব জানায়, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও ৭টি ওয়াকিটকি।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৪টি শর্টগান, ৪৭টি ওয়ান শুটার গান, ৪টি পাইপগান, ৩টি এয়ারগান এবং একটি পয়েন্ট-২২ বোর রাইফেল।

র‍্যাবের ভাষ্য, সুন্দরবনের বনদস্যু দমনে র‍্যাব, কোস্টগার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, নৌপুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে ‘অপারেশন রি-স্টার্ট, পিচ ইন সুন্দরবন’ নামে বিশেষ অভিযান চলছে। গত ২ মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

র‍্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ বলেন, সুন্দরবনে বর্তমানে পাঁচটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যদের অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত সুন্দরবনের ৩১৮ জন বনদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসনের পরও কেন কেউ কেউ অপরাধে ফিরছেন, সেটিকে নতুন করে ভাবনার বিষয় হিসেবে দেখছে র‍্যাব।

র‍্যাব মহাপরিচালকের মতে, সামাজিক চাপ, রাজনৈতিক কারণ, সচেতনতার অভাব, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অনীহা এবং হয়রানির ভয়-এসব কারণে কেউ কেউ আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারেন।

তিনি বলেন, সবাইকে শতভাগ স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি আরও কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আত্মসমর্পণকারীদের বিষয়ে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং কেউ আবার অপরাধে জড়াচ্ছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আগের অভিজ্ঞতা থেকে এবার পুনর্বাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে আহসান হাবিব পলাশ বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আগের চেয়ে ভালো পুনর্বাসন ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আত্মসমর্পণকারীদের অহেতুক মামলা ও হয়রানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক করা কিংবা মামলা দেওয়া উচিত নয়। ভবিষ্যতে আত্মসমর্পণকারীরা যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।

সুন্দরবনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কোস্টগার্ডের ক্যাম্পের পাশাপাশি র‍্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে বলে জানান র‍্যাব মহাপরিচালক।

এ সময় দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরুর কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য, র‍্যাবের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করবে। কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

অভিযানে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে।

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তা, বনজীবীদের জীবন-জীবিকা এবং দেশের মূল্যবান সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান র‍্যাব মহাপরিচালক।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Image

#র‍্যাব #সুন্দরবন #বনদস্যু

চেকপোস্ট

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সুন্দরবনের ৫৯ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস র‍্যাবের

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যে নতুন করে ৫৯ জন বনদস্যু র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে ৮ জন আগে আত্মসমর্পণ করে পুনর্বাসিত হলেও পরে আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এবার আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আগের চেয়ে কার্যকর পুনর্বাসন ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবিব পলাশ।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় খুলনা র‍্যাব-৬ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি। এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সুন্দরবনের পাঁচটি বাহিনীর ৫৯ জন দস্যু র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনোয়ারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতার বাহিনীর ৮ জন এবং মিজান বাহিনীর ৭ জন রয়েছেন।

র‍্যাব জানায়, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও ৭টি ওয়াকিটকি।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৪টি শর্টগান, ৪৭টি ওয়ান শুটার গান, ৪টি পাইপগান, ৩টি এয়ারগান এবং একটি পয়েন্ট-২২ বোর রাইফেল।

র‍্যাবের ভাষ্য, সুন্দরবনের বনদস্যু দমনে র‍্যাব, কোস্টগার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, নৌপুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে ‘অপারেশন রি-স্টার্ট, পিচ ইন সুন্দরবন’ নামে বিশেষ অভিযান চলছে। গত ২ মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

র‍্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ বলেন, সুন্দরবনে বর্তমানে পাঁচটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যদের অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত সুন্দরবনের ৩১৮ জন বনদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসনের পরও কেন কেউ কেউ অপরাধে ফিরছেন, সেটিকে নতুন করে ভাবনার বিষয় হিসেবে দেখছে র‍্যাব।

র‍্যাব মহাপরিচালকের মতে, সামাজিক চাপ, রাজনৈতিক কারণ, সচেতনতার অভাব, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অনীহা এবং হয়রানির ভয়-এসব কারণে কেউ কেউ আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারেন।

তিনি বলেন, সবাইকে শতভাগ স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি আরও কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আত্মসমর্পণকারীদের বিষয়ে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং কেউ আবার অপরাধে জড়াচ্ছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আগের অভিজ্ঞতা থেকে এবার পুনর্বাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে আহসান হাবিব পলাশ বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আগের চেয়ে ভালো পুনর্বাসন ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আত্মসমর্পণকারীদের অহেতুক মামলা ও হয়রানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক করা কিংবা মামলা দেওয়া উচিত নয়। ভবিষ্যতে আত্মসমর্পণকারীরা যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।

সুন্দরবনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কোস্টগার্ডের ক্যাম্পের পাশাপাশি র‍্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে বলে জানান র‍্যাব মহাপরিচালক।

এ সময় দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরুর কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য, র‍্যাবের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করবে। কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

অভিযানে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে।

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তা, বনজীবীদের জীবন-জীবিকা এবং দেশের মূল্যবান সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান র‍্যাব মহাপরিচালক।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত