সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

দাবি অভিযুক্ত ও গ্রামবাসীর

সুনামগঞ্জে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে অভিযোগ, যা বললেন অভিযুক্ত

সুনামগঞ্জে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে অভিযোগ, যা বললেন অভিযুক্ত
ছবি : চেকপোস্ট

সুনামগঞ্জে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে অভিযোগ, অভিযুক্তের বক্তব্যে নতুন তথ্য সরকারি খাস জমির জারুলগাছ কাটার অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন; গ্রামবাসীর দাবি, পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্তেই কাটা হয়েছে মৃতপ্রায় গাছ।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ী মৌজায় সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত কবরস্থানের একটি জারুলগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য সামনে এসেছে। অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার অভিযোগ তুলে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. সারাজ উদ্দিন। তবে অভিযুক্ত আফজাল নূরের দাবি, গ্রামের মুরুব্বি ও বাসিন্দাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই কবরস্থানের রাস্তার পাশের মৃতপ্রায় গাছটি কাটা হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) পাওয়া লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ী মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ১৯২ নম্বর দাগের কবরস্থান শ্রেণিভুক্ত সরকারি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে।

আবেদনকারীর অভিযোগ, গত ৩০ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ওই কবরস্থানের জমি থেকে একটি জারুলগাছ কাটা হয়। গাছটির আনুমানিক মূল্য ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল নূর ও আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনে কাটা গাছের কাঠ জব্দ, প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ এবং অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আফজাল নূর বলেন, কবরস্থান মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। প্রায় ২০০ বছর ধরে গ্রামের মানুষ কবরস্থানটির রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন। বিশেষ করে মাইজবাড়ী পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দারা নিয়মিত এর পরিচর্যা ও দেখভাল করেন।

তিনি আরও বলেন, কবরস্থানের রাস্তার পাশে থাকা গাছটি মরে যাওয়ায় চলাচলে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে গ্রামের মুরুব্বি ও স্থানীয় বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নেন। গাছ বিক্রির অর্থ কবরস্থানের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। এখানে কারও ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। সরেজমিনে তদন্ত করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

এদিকে মাইজবাড়ী গ্রামের একাধিক বাসিন্দা মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, গ্রামের পঞ্চায়েতের সর্বসম্মতিক্রমে গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কবরস্থানের উন্নয়ন ও সার্বিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে মৃতপ্রায় গাছটি অপসারণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কবরস্থানের সরকারি জমি থেকে গাছ কাটার ঘটনাটি নিয়ে এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং গাছ কাটার সিদ্ধান্তের বৈধতা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Image

#সুনামগঞ্জের_খবর #কবরস্থানের_গাছ_কাটা #সুনামগঞ্জ_জেলা

চেকপোস্ট

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


সুনামগঞ্জে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে অভিযোগ, যা বললেন অভিযুক্ত

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জে কবরস্থানের গাছ কাটা নিয়ে অভিযোগ, অভিযুক্তের বক্তব্যে নতুন তথ্য সরকারি খাস জমির জারুলগাছ কাটার অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন; গ্রামবাসীর দাবি, পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্তেই কাটা হয়েছে মৃতপ্রায় গাছ।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ী মৌজায় সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত কবরস্থানের একটি জারুলগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য সামনে এসেছে। অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার অভিযোগ তুলে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. সারাজ উদ্দিন। তবে অভিযুক্ত আফজাল নূরের দাবি, গ্রামের মুরুব্বি ও বাসিন্দাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই কবরস্থানের রাস্তার পাশের মৃতপ্রায় গাছটি কাটা হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) পাওয়া লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ী মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ১৯২ নম্বর দাগের কবরস্থান শ্রেণিভুক্ত সরকারি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে।

আবেদনকারীর অভিযোগ, গত ৩০ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ওই কবরস্থানের জমি থেকে একটি জারুলগাছ কাটা হয়। গাছটির আনুমানিক মূল্য ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল নূর ও আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনে কাটা গাছের কাঠ জব্দ, প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ এবং অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আফজাল নূর বলেন, কবরস্থান মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। প্রায় ২০০ বছর ধরে গ্রামের মানুষ কবরস্থানটির রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন। বিশেষ করে মাইজবাড়ী পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দারা নিয়মিত এর পরিচর্যা ও দেখভাল করেন।

তিনি আরও বলেন, কবরস্থানের রাস্তার পাশে থাকা গাছটি মরে যাওয়ায় চলাচলে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে গ্রামের মুরুব্বি ও স্থানীয় বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নেন। গাছ বিক্রির অর্থ কবরস্থানের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। এখানে কারও ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। সরেজমিনে তদন্ত করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

এদিকে মাইজবাড়ী গ্রামের একাধিক বাসিন্দা মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, গ্রামের পঞ্চায়েতের সর্বসম্মতিক্রমে গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কবরস্থানের উন্নয়ন ও সার্বিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে মৃতপ্রায় গাছটি অপসারণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কবরস্থানের সরকারি জমি থেকে গাছ কাটার ঘটনাটি নিয়ে এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং গাছ কাটার সিদ্ধান্তের বৈধতা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত