রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

স্বাস্থ্য

অবহেলা নয়, নজর দিন

শিশু আগের মতো খেলছে না? লুকিয়ে থাকতে পারে ৭ কারণ

শিশু আগের মতো খেলছে না? লুকিয়ে থাকতে পারে ৭ কারণ
ছবি : সংগৃহীত

যে শিশু আগে স্কুল থেকে ফিরেই খেলতে ছুটত, সারাদিন ছোটাছুটি করত, এখন যদি ঘরে ফিরেই শুয়ে পড়ে, খেলাধুলায় আগ্রহ হারায় বা পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়—তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

মাঝেমধ্যে ক্লান্ত হওয়া স্বাভাবিক। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিশুর স্বাভাবিক শক্তি কমে গেলে এর পেছনে শারীরিক বা মানসিক কোনো কারণ থাকতে পারে।

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ থাকতে পারে।

১. ঘুম ঠিকমতো না হওয়া

শিশু পর্যাপ্ত সময় ঘুমালেও ঘুমের মান ভালো না হলে দিনের বেলায় ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

রাতে বারবার জেগে ওঠা, অস্থির ঘুম, নাক ডাকা বা মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার মতো সমস্যা থাকলে শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নাও পেতে পারে।

২. আয়রনের ঘাটতি

শিশুর শরীরে আয়রনের পরিমাণ কমে গেলে দুর্বলতা, ক্লান্তি ও খিটখিটে মেজাজ দেখা দিতে পারে।

দ্রুত বেড়ে ওঠার সময়, খাবারে আয়রনের ঘাটতি থাকলে বা শিশুর খাবার বেছে খাওয়ার অভ্যাস থাকলে এ ঝুঁকি বাড়ে।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি জানা যায়।

৩. ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা

শিশু নিয়মিত জোরে নাক ডাকলে বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বিষয়টি হালকা করে দেখা উচিত নয়।

ঘুমের সমস্যা হলে দিনের বেলায় ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এমনকি আচরণে পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে।

৪. রাতে অতিরিক্ত মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার

ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল, ট্যাব বা টেলিভিশন ব্যবহারের অভ্যাস শিশুর ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে।

পর্দার আলো শরীরের ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ঘুম কমে গিয়ে দিনের বেলায় অবসাদ তৈরি হয়।

৫. থাইরয়েডের সমস্যা

কিছু ক্ষেত্রে শিশুর দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির পেছনে থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি থাকতে পারে।

ক্লান্তির পাশাপাশি ওজন বেড়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বক শুষ্ক হওয়া বা শারীরিক বৃদ্ধি ধীর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

৬. মানসিক চাপ

শিশুর ক্লান্তির কারণ সব সময় শারীরিক নয়। পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষার ভয়, বন্ধুদের সঙ্গে সমস্যা বা পারিবারিক পরিবর্তনের প্রভাবও শিশুর আচরণে দেখা দিতে পারে।

অনেক শিশু সরাসরি নিজের সমস্যার কথা বলতে পারে না। ফলে মানসিক চাপ প্রকাশ পেতে পারে চুপচাপ হয়ে যাওয়া, খেলাধুলায় অনীহা বা অতিরিক্ত ক্লান্তির মাধ্যমে।

৭. খাবারের অনিয়ম ও পানিশূন্যতা

শিশুর শরীরের জন্য প্রয়োজন সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত পানি।

সকালের নাশতা বাদ দেওয়া, অতিরিক্ত মিষ্টি বা ফাস্টফুড খাওয়া এবং পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতি থাকলে শরীরের শক্তি কমে যেতে পারে।

খাবারে প্রোটিন, শাকসবজি, ফল, আঁশযুক্ত খাবার ও পর্যাপ্ত পানি থাকা জরুরি।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

এক-দুই দিন ক্লান্ত থাকলে সাধারণত চিন্তার কারণ নেই। তবে যদি—

  • ২ থেকে ৩ সপ্তাহ ধরে ক্লান্তি থাকে
  • খেলাধুলায় আগ্রহ কমে যায়
  • পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়
  • আচরণে বড় পরিবর্তন আসে
  • শিশুকে ফ্যাকাশে দেখায়
  • ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয়

তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

বাবা-মায়ের করণীয়

শিশুর পরিবর্তন লক্ষ্য করতে নিয়মিত খেয়াল রাখুন—

  • রাতে ঘুম ঠিক হচ্ছে কি না
  • নাক ডাকছে কি না
  • খাবারের অভ্যাস কেমন
  • মোবাইল বা স্ক্রিন টাইম কতটা
  • আগের মতো খেলাধুলা করছে কি না
  • আচরণে পরিবর্তন এসেছে কি না

শিশুর ক্লান্তিকে শুধু অলসতা মনে করে বকা দেওয়া ঠিক নয়। অনেক সময় এটি শরীরের কোনো সমস্যার সংকেত হতে পারে।

সময়মতো কারণ খুঁজে বের করা গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুকে আবার স্বাভাবিক চঞ্চলতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

#শিশুর_স্বাস্থ্য #প্যারেন্টিং_টিপস #শিশুর_ক্লান্তি

চেকপোস্ট

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


শিশু আগের মতো খেলছে না? লুকিয়ে থাকতে পারে ৭ কারণ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

যে শিশু আগে স্কুল থেকে ফিরেই খেলতে ছুটত, সারাদিন ছোটাছুটি করত, এখন যদি ঘরে ফিরেই শুয়ে পড়ে, খেলাধুলায় আগ্রহ হারায় বা পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়—তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

মাঝেমধ্যে ক্লান্ত হওয়া স্বাভাবিক। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিশুর স্বাভাবিক শক্তি কমে গেলে এর পেছনে শারীরিক বা মানসিক কোনো কারণ থাকতে পারে।

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ থাকতে পারে।

১. ঘুম ঠিকমতো না হওয়া

শিশু পর্যাপ্ত সময় ঘুমালেও ঘুমের মান ভালো না হলে দিনের বেলায় ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

রাতে বারবার জেগে ওঠা, অস্থির ঘুম, নাক ডাকা বা মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার মতো সমস্যা থাকলে শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নাও পেতে পারে।

২. আয়রনের ঘাটতি

শিশুর শরীরে আয়রনের পরিমাণ কমে গেলে দুর্বলতা, ক্লান্তি ও খিটখিটে মেজাজ দেখা দিতে পারে।

দ্রুত বেড়ে ওঠার সময়, খাবারে আয়রনের ঘাটতি থাকলে বা শিশুর খাবার বেছে খাওয়ার অভ্যাস থাকলে এ ঝুঁকি বাড়ে।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি জানা যায়।

৩. ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা

শিশু নিয়মিত জোরে নাক ডাকলে বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বিষয়টি হালকা করে দেখা উচিত নয়।

ঘুমের সমস্যা হলে দিনের বেলায় ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এমনকি আচরণে পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে।

৪. রাতে অতিরিক্ত মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার

ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল, ট্যাব বা টেলিভিশন ব্যবহারের অভ্যাস শিশুর ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে।

পর্দার আলো শরীরের ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ঘুম কমে গিয়ে দিনের বেলায় অবসাদ তৈরি হয়।

৫. থাইরয়েডের সমস্যা

কিছু ক্ষেত্রে শিশুর দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির পেছনে থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি থাকতে পারে।

ক্লান্তির পাশাপাশি ওজন বেড়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বক শুষ্ক হওয়া বা শারীরিক বৃদ্ধি ধীর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

৬. মানসিক চাপ

শিশুর ক্লান্তির কারণ সব সময় শারীরিক নয়। পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষার ভয়, বন্ধুদের সঙ্গে সমস্যা বা পারিবারিক পরিবর্তনের প্রভাবও শিশুর আচরণে দেখা দিতে পারে।

অনেক শিশু সরাসরি নিজের সমস্যার কথা বলতে পারে না। ফলে মানসিক চাপ প্রকাশ পেতে পারে চুপচাপ হয়ে যাওয়া, খেলাধুলায় অনীহা বা অতিরিক্ত ক্লান্তির মাধ্যমে।

৭. খাবারের অনিয়ম ও পানিশূন্যতা

শিশুর শরীরের জন্য প্রয়োজন সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত পানি।

সকালের নাশতা বাদ দেওয়া, অতিরিক্ত মিষ্টি বা ফাস্টফুড খাওয়া এবং পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতি থাকলে শরীরের শক্তি কমে যেতে পারে।

খাবারে প্রোটিন, শাকসবজি, ফল, আঁশযুক্ত খাবার ও পর্যাপ্ত পানি থাকা জরুরি।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

এক-দুই দিন ক্লান্ত থাকলে সাধারণত চিন্তার কারণ নেই। তবে যদি—

  • ২ থেকে ৩ সপ্তাহ ধরে ক্লান্তি থাকে
  • খেলাধুলায় আগ্রহ কমে যায়
  • পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়
  • আচরণে বড় পরিবর্তন আসে
  • শিশুকে ফ্যাকাশে দেখায়
  • ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয়

তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

বাবা-মায়ের করণীয়

শিশুর পরিবর্তন লক্ষ্য করতে নিয়মিত খেয়াল রাখুন—

  • রাতে ঘুম ঠিক হচ্ছে কি না
  • নাক ডাকছে কি না
  • খাবারের অভ্যাস কেমন
  • মোবাইল বা স্ক্রিন টাইম কতটা
  • আগের মতো খেলাধুলা করছে কি না
  • আচরণে পরিবর্তন এসেছে কি না

শিশুর ক্লান্তিকে শুধু অলসতা মনে করে বকা দেওয়া ঠিক নয়। অনেক সময় এটি শরীরের কোনো সমস্যার সংকেত হতে পারে।

সময়মতো কারণ খুঁজে বের করা গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুকে আবার স্বাভাবিক চঞ্চলতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত