রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন, হুমকিতে পরিবেশ ও অবকাঠামো

শাহজীবাজারে রাতের আঁধারে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ

শাহজীবাজারে রাতের আঁধারে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ
ছবি: চেকপোস্ট

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজীবাজার এলাকায় কোনো ধরনের সরকারি ইজারা বা অনুমোদন ছাড়াই পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রাতের আঁধারে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহজীবাজারের ফতেগাজী মাজারের পূর্ব পাশে ফুটবল খেলার মাঠসংলগ্ন পাহাড়ি ছড়া থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ছড়া থেকে বালু তুলে পরে ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরপুর গ্রামের হাসান আলীর ছেলে আল আমীন, ইসমাঈল মিয়ার ছেলে আব্দুল কাইয়ুম মিয়া এবং মানিকপুর গ্রামের মো. বিপ্লব মিয়াসহ একটি প্রভাবশালী মহল এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। পাশাপাশি নির্বিচারে ড্রেজিংয়ের ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বালু উত্তোলন ও পরিবহনের কারণে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ড্রেজার ও ভারী যানবাহনের শব্দ, ধুলাবালি এবং বালু পরিবহনে জনদুর্ভোগও বাড়ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ের তীরবর্তী ফসলি জমি ও চা-বাগানের ছড়ার পাড় ভেঙে পড়ছে।

এ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বিভিন্ন সেতু ও কালভার্টের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এতে বড় ধরনের ধস ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

অবৈধ বালু উত্তোলনের পেছনে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী একটি মহল জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই বালু বাণিজ্য চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমেও কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা শংকর বিষু বলেন, “রাতের আঁধারে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কিশোর রায় বলেন, “গভীর রাতে একটি মহল সিলিকা বালু উত্তোলন করেছে বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বালু উত্তোলনকারীদের শনাক্ত করে ধরতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ, কৃষিজমি, সেতু-কালভার্ট ও স্থানীয় সড়ক রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

চেকপোস্ট

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


শাহজীবাজারে রাতের আঁধারে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজীবাজার এলাকায় কোনো ধরনের সরকারি ইজারা বা অনুমোদন ছাড়াই পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রাতের আঁধারে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহজীবাজারের ফতেগাজী মাজারের পূর্ব পাশে ফুটবল খেলার মাঠসংলগ্ন পাহাড়ি ছড়া থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ছড়া থেকে বালু তুলে পরে ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরপুর গ্রামের হাসান আলীর ছেলে আল আমীন, ইসমাঈল মিয়ার ছেলে আব্দুল কাইয়ুম মিয়া এবং মানিকপুর গ্রামের মো. বিপ্লব মিয়াসহ একটি প্রভাবশালী মহল এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। পাশাপাশি নির্বিচারে ড্রেজিংয়ের ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বালু উত্তোলন ও পরিবহনের কারণে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ড্রেজার ও ভারী যানবাহনের শব্দ, ধুলাবালি এবং বালু পরিবহনে জনদুর্ভোগও বাড়ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ের তীরবর্তী ফসলি জমি ও চা-বাগানের ছড়ার পাড় ভেঙে পড়ছে।

এ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বিভিন্ন সেতু ও কালভার্টের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এতে বড় ধরনের ধস ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

অবৈধ বালু উত্তোলনের পেছনে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী একটি মহল জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই বালু বাণিজ্য চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমেও কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা শংকর বিষু বলেন, “রাতের আঁধারে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কিশোর রায় বলেন, “গভীর রাতে একটি মহল সিলিকা বালু উত্তোলন করেছে বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বালু উত্তোলনকারীদের শনাক্ত করে ধরতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ, কৃষিজমি, সেতু-কালভার্ট ও স্থানীয় সড়ক রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত