লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। খাবার হজমে সহায়তা করা, রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ দূর করা, পুষ্টি সঞ্চয় এবং শরীরের বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে এর বড় ভূমিকা রয়েছে।
তবে লিভারের অনেক সমস্যা শুরুতে নীরবে বাড়তে থাকে। অনেক সময় কোনো ব্যথা বা স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় মানুষ বুঝতে পারেন না যে ভেতরে ভেতরে লিভারের ক্ষতি হচ্ছে।
বিশেষ করে ফ্যাটি লিভার ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু লিভার রোগ দীর্ঘদিন প্রায় কোনো লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। তবে শরীর কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে সতর্ক সংকেত দিতে পারে।
লিভারের সমস্যার অন্যতম পরিচিত লক্ষণ হলো জন্ডিস। এতে চোখের সাদা অংশ বা ত্বক হলুদ হয়ে যেতে পারে।
রক্তের লাল কণিকা ভাঙার সময় তৈরি হওয়া বিলিরুবিন লিভার প্রক্রিয়াজাত করে শরীর থেকে বের করে দেয়। লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে বা পিত্ত প্রবাহে সমস্যা হলে শরীরে বিলিরুবিন জমে গিয়ে চোখে হলুদ ভাব দেখা দিতে পারে।
তবে চোখ হলুদ হওয়া মানেই শুধু লিভারের রোগ নয়, অন্য কারণও থাকতে পারে। তাই এমন পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কম পানি পান করলে প্রস্রাব গাঢ় হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি খাওয়ার পরও যদি প্রস্রাব বারবার গাঢ় হলুদ, বাদামি বা চায়ের রঙের হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
লিভার বা পিত্তনালির সমস্যায় শরীর থেকে বিলিরুবিন বের হওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে, যার প্রভাব প্রস্রাবের রঙে দেখা যায়।
পায়খানার স্বাভাবিক বাদামি রঙের পেছনে পিত্তের ভূমিকা রয়েছে। লিভার থেকে পিত্ত অন্ত্রে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় সমস্যা হলে পায়খানা ফ্যাকাশে, ধূসর বা মাটির মতো রঙের হতে পারে।
এক-দুদিনের পরিবর্তন খাবারের কারণেও হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন এমন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
র্যাশ বা অ্যালার্জি ছাড়াই দীর্ঘদিন শরীরে চুলকানি থাকলে বিষয়টি খেয়াল করা দরকার।
লিভারের কিছু সমস্যায় পিত্তের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে শরীরে চুলকানি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে চোখ হলুদ হওয়া বা প্রস্রাব গাঢ় হওয়ার মতো লক্ষণের সঙ্গে থাকলে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
সামান্য আঘাতেই বারবার কালশিটে পড়া বা কোনো কারণ ছাড়াই শরীরে কালচে দাগ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া উচিত।
লিভার রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান তৈরি করে। লিভারের কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তবে রক্তের সমস্যা বা কিছু ওষুধের কারণেও এমন হতে পারে।
লিভারের গুরুতর সমস্যায় শরীরে তরল জমে পেট ফুলে যেতে পারে। অনেক সময় পা ও গোড়ালিতেও ফোলা দেখা দেয়।
এ ধরনের পরিবর্তন দীর্ঘদিন থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কিছু লিভার রোগে ত্বকের ওপর ছোট ছোট মাকড়সার জালের মতো রক্তনালি দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে মুখ, বুক বা বাহুর অংশে এমন পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভালো।
কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন দুর্বল লাগা, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত ক্লান্তিও লিভারের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
লিভারের সমস্যা শুরুতেই ধরা পড়লে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই শরীরের এসব পরিবর্তনকে অবহেলা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
তবে একটি লক্ষণ দেখেই লিভারের রোগ নিশ্চিত বলা যায় না। সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার।

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। খাবার হজমে সহায়তা করা, রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ দূর করা, পুষ্টি সঞ্চয় এবং শরীরের বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে এর বড় ভূমিকা রয়েছে।
তবে লিভারের অনেক সমস্যা শুরুতে নীরবে বাড়তে থাকে। অনেক সময় কোনো ব্যথা বা স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় মানুষ বুঝতে পারেন না যে ভেতরে ভেতরে লিভারের ক্ষতি হচ্ছে।
বিশেষ করে ফ্যাটি লিভার ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু লিভার রোগ দীর্ঘদিন প্রায় কোনো লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। তবে শরীর কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে সতর্ক সংকেত দিতে পারে।
লিভারের সমস্যার অন্যতম পরিচিত লক্ষণ হলো জন্ডিস। এতে চোখের সাদা অংশ বা ত্বক হলুদ হয়ে যেতে পারে।
রক্তের লাল কণিকা ভাঙার সময় তৈরি হওয়া বিলিরুবিন লিভার প্রক্রিয়াজাত করে শরীর থেকে বের করে দেয়। লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে বা পিত্ত প্রবাহে সমস্যা হলে শরীরে বিলিরুবিন জমে গিয়ে চোখে হলুদ ভাব দেখা দিতে পারে।
তবে চোখ হলুদ হওয়া মানেই শুধু লিভারের রোগ নয়, অন্য কারণও থাকতে পারে। তাই এমন পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কম পানি পান করলে প্রস্রাব গাঢ় হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি খাওয়ার পরও যদি প্রস্রাব বারবার গাঢ় হলুদ, বাদামি বা চায়ের রঙের হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
লিভার বা পিত্তনালির সমস্যায় শরীর থেকে বিলিরুবিন বের হওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে, যার প্রভাব প্রস্রাবের রঙে দেখা যায়।
পায়খানার স্বাভাবিক বাদামি রঙের পেছনে পিত্তের ভূমিকা রয়েছে। লিভার থেকে পিত্ত অন্ত্রে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় সমস্যা হলে পায়খানা ফ্যাকাশে, ধূসর বা মাটির মতো রঙের হতে পারে।
এক-দুদিনের পরিবর্তন খাবারের কারণেও হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন এমন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
র্যাশ বা অ্যালার্জি ছাড়াই দীর্ঘদিন শরীরে চুলকানি থাকলে বিষয়টি খেয়াল করা দরকার।
লিভারের কিছু সমস্যায় পিত্তের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে শরীরে চুলকানি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে চোখ হলুদ হওয়া বা প্রস্রাব গাঢ় হওয়ার মতো লক্ষণের সঙ্গে থাকলে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
সামান্য আঘাতেই বারবার কালশিটে পড়া বা কোনো কারণ ছাড়াই শরীরে কালচে দাগ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া উচিত।
লিভার রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান তৈরি করে। লিভারের কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তবে রক্তের সমস্যা বা কিছু ওষুধের কারণেও এমন হতে পারে।
লিভারের গুরুতর সমস্যায় শরীরে তরল জমে পেট ফুলে যেতে পারে। অনেক সময় পা ও গোড়ালিতেও ফোলা দেখা দেয়।
এ ধরনের পরিবর্তন দীর্ঘদিন থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কিছু লিভার রোগে ত্বকের ওপর ছোট ছোট মাকড়সার জালের মতো রক্তনালি দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে মুখ, বুক বা বাহুর অংশে এমন পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভালো।
কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন দুর্বল লাগা, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত ক্লান্তিও লিভারের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
লিভারের সমস্যা শুরুতেই ধরা পড়লে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই শরীরের এসব পরিবর্তনকে অবহেলা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
তবে একটি লক্ষণ দেখেই লিভারের রোগ নিশ্চিত বলা যায় না। সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার।
