রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

জাতীয়

আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ক্যাম্পের শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত: শামা ওবায়েদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ক্যাম্পের শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত: শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগে ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ‘অক্সফাম’ ও ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত যৌথ সেমিনারে তিনি এ আহ্বান জানান।

সেমিনারে শামা ওবায়েদ বলেন, ২০১৭ সালের পর রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের দ্রুত পরিচয় যাচাই করা জরুরি। তাদের জন্য নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের সংকটের সময় মানবিক কারণে বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছিল। বর্তমানে ১২ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। সীমিত ভূমি, ঘনবসতি ও পরিবেশের ওপর চাপ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ব থেকে তাদের আশ্রয়, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা দিয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিতে পারে, কিন্তু এই সংকট বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি। তাই এর সমাধান একা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়।”

রোহিঙ্গা তহবিলে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার (জেআরপি) বাজেট কমানো হলেও রোহিঙ্গাদের মানবিক প্রয়োজন কমেনি। খাদ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন, শিক্ষা ও নিরাপত্তা তাদের মৌলিক অধিকার।

তিনি জানান, সংকট সমাধানে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ।

সেমিনারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ এবং এর সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। তিনি রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে বহুপক্ষীয় উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

মাইকেল মিলার রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়নে ১৪ মিলিয়ন ইউরো সহায়তার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, দীর্ঘস্থায়ী এই সমস্যার সমাধান কোনো একক পক্ষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বহুপক্ষীয় আলোচনা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

সেমিনারে অক্সফাম ও ডিক্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

#মানবিক_সহায়তা #রোহিঙ্গা_প্রত্যাবাসন #বাংলাদেশ_রোহিঙ্গা_সংকট

চেকপোস্ট

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ক্যাম্পের শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত: শামা ওবায়েদ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগে ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ‘অক্সফাম’ ও ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত যৌথ সেমিনারে তিনি এ আহ্বান জানান।

সেমিনারে শামা ওবায়েদ বলেন, ২০১৭ সালের পর রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের দ্রুত পরিচয় যাচাই করা জরুরি। তাদের জন্য নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের সংকটের সময় মানবিক কারণে বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছিল। বর্তমানে ১২ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। সীমিত ভূমি, ঘনবসতি ও পরিবেশের ওপর চাপ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ব থেকে তাদের আশ্রয়, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা দিয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিতে পারে, কিন্তু এই সংকট বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি। তাই এর সমাধান একা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়।”

রোহিঙ্গা তহবিলে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার (জেআরপি) বাজেট কমানো হলেও রোহিঙ্গাদের মানবিক প্রয়োজন কমেনি। খাদ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন, শিক্ষা ও নিরাপত্তা তাদের মৌলিক অধিকার।

তিনি জানান, সংকট সমাধানে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ।

সেমিনারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ এবং এর সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। তিনি রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে বহুপক্ষীয় উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

মাইকেল মিলার রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়নে ১৪ মিলিয়ন ইউরো সহায়তার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, দীর্ঘস্থায়ী এই সমস্যার সমাধান কোনো একক পক্ষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বহুপক্ষীয় আলোচনা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

সেমিনারে অক্সফাম ও ডিক্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত