রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

মতামত

ধূমপানের বিষে ঝুঁকিতে প্রজন্ম, কাগজেই সীমাবদ্ধ আইন

ধূমপানের বিষে ঝুঁকিতে প্রজন্ম, কাগজেই সীমাবদ্ধ আইন
ধূমপান: আইন ও বাস্তবতা : প্রতিকী ছবি

বিশ্বজুড়ে পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন কার্যকর রয়েছে। আইন অমান্য করলে অনেক দেশে তাৎক্ষণিক জরিমানা ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। বাংলাদেশও ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল’ (FCTC)-এ স্বাক্ষর করে এবং ২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে।

সম্প্রতি ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করা হয়েছে। প্রকাশ্যে ধূমপানের জরিমানা বাড়ানো এবং ই-সিগারেট নিষিদ্ধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আইন থাকলেও যথাযথ তদারকি ও কার্যকর প্রয়োগের অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই ধূমপান নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসছে না।

ধূমপানের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি

চিকিৎসা গবেষণায় প্রমাণিত, তামাকের ধোঁয়ায় হাজার হাজার ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে, যার মধ্যে বহু উপাদান ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। নিয়মিত ধূমপান ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, COPDসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে লাখো মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যায়। একজন নিয়মিত ধূমপায়ীর আয়ুও অধূমপায়ীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

ক্ষতি শুধু ধূমপায়ীর নয়

ধূমপানের ক্ষতি কেবল সেবনকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পাশে থাকা মানুষও পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে ক্ষতির শিকার হন।

পরোক্ষ ধূমপানের কারণে অধূমপায়ীদের হৃদরোগ ও ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ঘরের পরিবেশে ধোঁয়ার ক্ষতিকর কণা দীর্ঘসময় থেকে শিশু ও পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা

ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব শিশুদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ে। গর্ভাবস্থায় ধূমপান বা পরোক্ষ ধূমপানের কারণে শিশুর অকাল জন্ম, কম ওজন এবং নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

পরোক্ষ ধূমপানে শিশুদের ফুসফুসের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিসসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি বড়দের ধূমপান দেখে শিশুরাও তামাকের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে।

আইন প্রয়োগে বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আইনের যথাযথ প্রয়োগের ঘাটতি। অনেক সময় আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেও প্রকাশ্যে ধূমপানের প্রবণতা দেখা যায়।

এছাড়া নিয়মিত অভিযান না হওয়া, জরিমানার ধারাবাহিকতা না থাকা এবং সামাজিকভাবে প্রকাশ্যে ধূমপানকে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করার প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করছে।

ইসলামি মূল্যবোধেও নিরুৎসাহিত ধূমপান

ইসলামে নিজের জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষা এবং অন্যের ক্ষতি থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না।” (সূরা আল-বাকারা: ১৯৫)

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা অনুযায়ী, নিজের বা অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি করাও এই নীতির বিরোধী।

প্রয়োজন কঠোর প্রয়োগ সামাজিক পরিবর্তন

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন করলেই ধূমপান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; প্রয়োজন কঠোর প্রয়োগ, জনসচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ।

স্কুল-কলেজে সচেতনতা বৃদ্ধি, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রচার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং প্রকাশ্যে ধূমপানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

আইনের সঠিক প্রয়োগ ও মানুষের সচেতনতার সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি তামাকমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ।

#স্বাস্থ্য_সচেতনতা #তামাকমুক্ত_বাংলাদেশ #ধূমপান_নিয়ন্ত্রণ

চেকপোস্ট

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


ধূমপানের বিষে ঝুঁকিতে প্রজন্ম, কাগজেই সীমাবদ্ধ আইন

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিশ্বজুড়ে পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন কার্যকর রয়েছে। আইন অমান্য করলে অনেক দেশে তাৎক্ষণিক জরিমানা ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। বাংলাদেশও ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল’ (FCTC)-এ স্বাক্ষর করে এবং ২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে।

সম্প্রতি ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করা হয়েছে। প্রকাশ্যে ধূমপানের জরিমানা বাড়ানো এবং ই-সিগারেট নিষিদ্ধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আইন থাকলেও যথাযথ তদারকি ও কার্যকর প্রয়োগের অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই ধূমপান নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসছে না।

ধূমপানের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি

চিকিৎসা গবেষণায় প্রমাণিত, তামাকের ধোঁয়ায় হাজার হাজার ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে, যার মধ্যে বহু উপাদান ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। নিয়মিত ধূমপান ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, COPDসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে লাখো মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যায়। একজন নিয়মিত ধূমপায়ীর আয়ুও অধূমপায়ীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

ক্ষতি শুধু ধূমপায়ীর নয়

ধূমপানের ক্ষতি কেবল সেবনকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পাশে থাকা মানুষও পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে ক্ষতির শিকার হন।

পরোক্ষ ধূমপানের কারণে অধূমপায়ীদের হৃদরোগ ও ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ঘরের পরিবেশে ধোঁয়ার ক্ষতিকর কণা দীর্ঘসময় থেকে শিশু ও পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা

ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব শিশুদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ে। গর্ভাবস্থায় ধূমপান বা পরোক্ষ ধূমপানের কারণে শিশুর অকাল জন্ম, কম ওজন এবং নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

পরোক্ষ ধূমপানে শিশুদের ফুসফুসের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিসসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি বড়দের ধূমপান দেখে শিশুরাও তামাকের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে।

আইন প্রয়োগে বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আইনের যথাযথ প্রয়োগের ঘাটতি। অনেক সময় আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেও প্রকাশ্যে ধূমপানের প্রবণতা দেখা যায়।

এছাড়া নিয়মিত অভিযান না হওয়া, জরিমানার ধারাবাহিকতা না থাকা এবং সামাজিকভাবে প্রকাশ্যে ধূমপানকে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করার প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করছে।

ইসলামি মূল্যবোধেও নিরুৎসাহিত ধূমপান

ইসলামে নিজের জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষা এবং অন্যের ক্ষতি থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না।” (সূরা আল-বাকারা: ১৯৫)

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা অনুযায়ী, নিজের বা অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি করাও এই নীতির বিরোধী।

প্রয়োজন কঠোর প্রয়োগ সামাজিক পরিবর্তন

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন করলেই ধূমপান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; প্রয়োজন কঠোর প্রয়োগ, জনসচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ।

স্কুল-কলেজে সচেতনতা বৃদ্ধি, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রচার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং প্রকাশ্যে ধূমপানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

আইনের সঠিক প্রয়োগ ও মানুষের সচেতনতার সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি তামাকমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত