মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

অনুষ্ঠিত সচেতনতা কর্মসূচি

রাঙামাটিতে নারী ফুটবলারদের নিয়ে সহিংসতা প্রতিরোধ ও সচেতনতা সেমিনার

রাঙামাটিতে নারী ফুটবলারদের নিয়ে সহিংসতা প্রতিরোধ ও সচেতনতা সেমিনার
ছবি : চেকপোস্ট

নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সচেতনতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং জেন্ডার সমতা বিষয়ে রাঙামাটিতে সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে চিংহা মং চৌধুরী মারি স্টেডিয়ামে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে তিন পার্বত্য জেলার বাছাইকৃত প্রমিলা ফুটবল খেলোয়াড়রা অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, প্রকল্পের আওতায় তিন পার্বত্য জেলার প্রতিটি জেলা থেকে ২২ জন করে মোট ১৯৮ জন নারী ফুটবল খেলোয়াড়কে নিয়ে ৯টি সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের যুগ্মসচিব ও ভাইস-চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ।

সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, আইনি সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথম পর্বে শিশু ও কিশোরীদের পুষ্টি, বয়ঃসন্ধিকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য, মাসিককালীন স্বাস্থ্যবিধি এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

দ্বিতীয় পর্বে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিশু অধিকার আইন নিয়ে আইনি সচেতনতা দেওয়া হয়।

এছাড়া তৃতীয় পর্বে সাইবার নিরাপত্তা, জেন্ডার সমতা, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ক্রীড়ার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সেমিনারে স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচক হিসেবে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের লেকচারার ডা. পম্পী চাকমা, আইনি সুরক্ষা বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, রাঙামাটির পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক এবং নারী ও শিশু বিষয়ক সচেতনতা নিয়ে উইমেন রিসোর্স নেটওয়ার্কের সদস্য নুকু চাকমা বক্তব্য দেন।

অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক বলেন, বাল্যবিয়ে, যৌতুক ও পারিবারিক সহিংসতা নারীর প্রতি সহিংসতার অন্যতম কারণ। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্যাতনের শিকার হলে নারীদের নীরব না থেকে পরিবার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি নারী ফুটবলারদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আয়োজকরা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের নারী ফুটবলারদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, সহিংসতা ও সাইবার হয়রানি থেকে সুরক্ষিত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

তাদের মতে, খেলাধুলার মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব বিকাশে উৎসাহিত করার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার মতো রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলাই এ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।

Image

#রাঙামাটি #নারীফুটবল #সহিংসতাপ্রতিরোধ

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


রাঙামাটিতে নারী ফুটবলারদের নিয়ে সহিংসতা প্রতিরোধ ও সচেতনতা সেমিনার

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সচেতনতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং জেন্ডার সমতা বিষয়ে রাঙামাটিতে সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে চিংহা মং চৌধুরী মারি স্টেডিয়ামে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে তিন পার্বত্য জেলার বাছাইকৃত প্রমিলা ফুটবল খেলোয়াড়রা অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, প্রকল্পের আওতায় তিন পার্বত্য জেলার প্রতিটি জেলা থেকে ২২ জন করে মোট ১৯৮ জন নারী ফুটবল খেলোয়াড়কে নিয়ে ৯টি সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের যুগ্মসচিব ও ভাইস-চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ।

সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, আইনি সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথম পর্বে শিশু ও কিশোরীদের পুষ্টি, বয়ঃসন্ধিকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য, মাসিককালীন স্বাস্থ্যবিধি এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

দ্বিতীয় পর্বে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিশু অধিকার আইন নিয়ে আইনি সচেতনতা দেওয়া হয়।

এছাড়া তৃতীয় পর্বে সাইবার নিরাপত্তা, জেন্ডার সমতা, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ক্রীড়ার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সেমিনারে স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচক হিসেবে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের লেকচারার ডা. পম্পী চাকমা, আইনি সুরক্ষা বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, রাঙামাটির পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক এবং নারী ও শিশু বিষয়ক সচেতনতা নিয়ে উইমেন রিসোর্স নেটওয়ার্কের সদস্য নুকু চাকমা বক্তব্য দেন।

অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক বলেন, বাল্যবিয়ে, যৌতুক ও পারিবারিক সহিংসতা নারীর প্রতি সহিংসতার অন্যতম কারণ। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্যাতনের শিকার হলে নারীদের নীরব না থেকে পরিবার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি নারী ফুটবলারদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আয়োজকরা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের নারী ফুটবলারদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, সহিংসতা ও সাইবার হয়রানি থেকে সুরক্ষিত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

তাদের মতে, খেলাধুলার মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব বিকাশে উৎসাহিত করার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার মতো রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলাই এ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত