বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

অতিরিক্ত টোল’ বিতর্ক, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

যাদুকাটা নদীতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ, ডিসির কাছে ব্যবসায়ীদের স্মারকলিপি

যাদুকাটা নদীতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ, ডিসির কাছে ব্যবসায়ীদের স্মারকলিপি
ছবি : চেকপোস্ট

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএ ইজারাদারের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টোল আদায়, রশিদ ছাড়া অর্থ আদায় এবং নৌ-শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে যাদুকাটা নদী নৌকা মালিক সমিতিস্টোন ক্রাশার মালিক সমিতি যৌথভাবে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি জমা দেয়।

এ সময় দুই সংগঠনের ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কামাল মিয়া, গনি মিয়া, রাখাব উদ্দিন, শামিম হায়দার সেন্টু, জাকির হোসেন ডালিম, শাহিদ মিয়া, নুরুদ্দিন, নুর আলী, সিদ্দিক মিয়া, শামসুল হক, আমির হোসেন, সুমন আহমেদ, সজীব আহমেদ, মোবাশ্বির আলম হিমেল, মোহাম্মদ জাহিদুল আলম, তুহিন আহমদ ও মাজহারুল ইসলামসহ দুই সংগঠনের সদস্যরা।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, তাহিরপুরের ফাজিলপুর এলাকায় একই পয়েন্টে বালি ও পাথরবোঝাই নৌকা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে একাধিক খাতে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সেখানে বিআইডব্লিউটিএ-এর নামে প্রতি ঘনফুটে ৩ টাকা, খাস কালেকশনের নামে ১ টাকা এবং ফাজিলপুর টোল ট্যাক্সের নামে আরও ১ টাকা ৩০ পয়সা করে মোট ৫ টাকা ৩০ পয়সা আদায় করা হচ্ছে।

এছাড়া শ্রীপুর ডাম্প বাজারসংলগ্ন পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএ-এর নির্ধারিত টোলের পাশাপাশি ‘কুটগাড়ি’ নামে প্রতি ঘনফুটে অতিরিক্ত ২ টাকা আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, টোল আদায়ের স্থানে সরকারি টোল চার্ট টাঙানো নেই এবং আদায়ের বিপরীতে কোনো বৈধ পাকা রশিদও দেওয়া হয় না। তাদের অভিযোগ, ইজারাদারের কর্মচারীরা মনগড়া হিসাব করে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করছেন।

স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নৌ-শ্রমিক ও মাঝিদের ভয়ভীতি, মারধর এবং হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। অনেক শ্রমিক প্রাণভয়ে মাঝনদীতে নৌকা রেখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, এই নৌপথ দিয়ে শত শত ব্যবসায়ী বালি, পাথর ও কয়লা পরিবহন করেন। অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বহু নৌকা মালিক ও শ্রমিক চরম সংকটে পড়বেন বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

নৌপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে টোল আদায়ের স্থানে সরকারি টোল চার্ট প্রকাশ, অর্থ আদায়ের বিপরীতে বাধ্যতামূলক পাকা রশিদ প্রদান, নৌ-শ্রমিকদের ওপর সব ধরনের নির্যাতন বন্ধ, মাঝনদীতে টোল আদায় বন্ধ করে নির্ধারিত বুথ থেকে বৈধভাবে টোল আদায় এবং নৌকা মালিক ও শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের জানানো হয়, স্মারকলিপির অনুলিপি সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার, সিলেট অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছেও পাঠানো হয়েছে।

#সুনামগঞ্জ #টোল_আদায় #যাদুকাটা

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


যাদুকাটা নদীতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ, ডিসির কাছে ব্যবসায়ীদের স্মারকলিপি

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএ ইজারাদারের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টোল আদায়, রশিদ ছাড়া অর্থ আদায় এবং নৌ-শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে যাদুকাটা নদী নৌকা মালিক সমিতিস্টোন ক্রাশার মালিক সমিতি যৌথভাবে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি জমা দেয়।

এ সময় দুই সংগঠনের ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কামাল মিয়া, গনি মিয়া, রাখাব উদ্দিন, শামিম হায়দার সেন্টু, জাকির হোসেন ডালিম, শাহিদ মিয়া, নুরুদ্দিন, নুর আলী, সিদ্দিক মিয়া, শামসুল হক, আমির হোসেন, সুমন আহমেদ, সজীব আহমেদ, মোবাশ্বির আলম হিমেল, মোহাম্মদ জাহিদুল আলম, তুহিন আহমদ ও মাজহারুল ইসলামসহ দুই সংগঠনের সদস্যরা।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, তাহিরপুরের ফাজিলপুর এলাকায় একই পয়েন্টে বালি ও পাথরবোঝাই নৌকা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে একাধিক খাতে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সেখানে বিআইডব্লিউটিএ-এর নামে প্রতি ঘনফুটে ৩ টাকা, খাস কালেকশনের নামে ১ টাকা এবং ফাজিলপুর টোল ট্যাক্সের নামে আরও ১ টাকা ৩০ পয়সা করে মোট ৫ টাকা ৩০ পয়সা আদায় করা হচ্ছে।

এছাড়া শ্রীপুর ডাম্প বাজারসংলগ্ন পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএ-এর নির্ধারিত টোলের পাশাপাশি ‘কুটগাড়ি’ নামে প্রতি ঘনফুটে অতিরিক্ত ২ টাকা আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, টোল আদায়ের স্থানে সরকারি টোল চার্ট টাঙানো নেই এবং আদায়ের বিপরীতে কোনো বৈধ পাকা রশিদও দেওয়া হয় না। তাদের অভিযোগ, ইজারাদারের কর্মচারীরা মনগড়া হিসাব করে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করছেন।

স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নৌ-শ্রমিক ও মাঝিদের ভয়ভীতি, মারধর এবং হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। অনেক শ্রমিক প্রাণভয়ে মাঝনদীতে নৌকা রেখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, এই নৌপথ দিয়ে শত শত ব্যবসায়ী বালি, পাথর ও কয়লা পরিবহন করেন। অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বহু নৌকা মালিক ও শ্রমিক চরম সংকটে পড়বেন বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

নৌপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে টোল আদায়ের স্থানে সরকারি টোল চার্ট প্রকাশ, অর্থ আদায়ের বিপরীতে বাধ্যতামূলক পাকা রশিদ প্রদান, নৌ-শ্রমিকদের ওপর সব ধরনের নির্যাতন বন্ধ, মাঝনদীতে টোল আদায় বন্ধ করে নির্ধারিত বুথ থেকে বৈধভাবে টোল আদায় এবং নৌকা মালিক ও শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের জানানো হয়, স্মারকলিপির অনুলিপি সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার, সিলেট অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছেও পাঠানো হয়েছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত