হবিগঞ্জের মাধবপুরে ৪০ লাখ টাকা দিয়ে দুই শতক জমি কিনে নিজের নামে নামজারি করেও দখল বুঝে পাচ্ছেন না মো. সাজিদ মিয়া। তাঁর অভিযোগ, জমি কেনার পরও মো. মোশাররফ হোসেন ওরফে সুমন মিয়া জমিটি দখল করে রেখেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমন মিয়া আওয়ামী যুবলীগের নোয়াপাড়া ইউনিয়ন শাখার কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
দলিল ও ভূমি অফিসের নথি অনুযায়ী, মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ইটাখোলা গ্রামের ইটাখোলা মৌজায় বিরোধপূর্ণ জমিটির অবস্থান। মৌজাটির জে.এল. নম্বর ৩৮। জমিটির এসএ খতিয়ান নম্বর ১১২৪, বিএস ফাইনাল খতিয়ান নম্বর ১০৬৬ এবং নামজারি খতিয়ান নম্বর ২৬২৬। এসএ দাগ নম্বর ১২৫০ ও বিএস দাগ নম্বর ১০৬৪।
দলিলের তফসিল অনুযায়ী, বিএস দাগে মোট জমির পরিমাণ ১০ শতক। এর মধ্যে ‘চারা’ শ্রেণির দুই শতক জমি সাজিদ মিয়ার কাছে বিক্রি করা হয়। দলিলে ওই দুই শতক জমির মূল্য ৪০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট চারাভাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে ৫৬৪০ নম্বর সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি সাজিদ মিয়ার নামে নিবন্ধন করা হয়। পরে তিনি নিজের নামে নামজারির আবেদন করেন। ভূমি অফিসের নথিতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট করা ওই আবেদনের মিউটেশন মামলা নম্বর ২৬৮৪ (IX-1)/২০২৫-২৬ এবং আবেদন নম্বর ৩৫৬০৫৮২। নামজারি খতিয়ানেও মালিক হিসেবে সাজিদ মিয়ার নাম রয়েছে।
সাজিদ মিয়ার অভিযোগ, জমি রেজিস্ট্রির পর সুমন মিয়া তাঁর টিনসেট ঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক মাস সময় চান। মানবিক কারণে তিনি সময় দেন। কিন্তু এক মাস পার হওয়ার পরও সুমন জমির দখল বুঝিয়ে দেননি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে এখনো জমিটি দখলে রেখেছেন।
সাজিদ মিয়া বলেন, “৪০ লাখ টাকা দিয়ে দুই শতক জমি কিনেছি। দলিল ও নামজারি—দুটিই আমার নামে হয়েছে। রেজিস্ট্রির পর সুমন মিয়া টিনসেট ঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক মাস সময় চেয়েছিলেন। আমি সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু এক মাস পরও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এখন জোরপূর্বক জমিটি দখল করে রেখেছেন। আমি আইন অনুযায়ী জমির দখল বুঝে পেতে চাই।”
স্থানীয়রা জানান, সাজিদ মিয়ার ক্রয় করা জমির ওপর সুমন মিয়া যে টিনসেট ঘরটি নির্মাণ করে রেখেছেন, সেখানে কোনো লোকজন বসবাস করেন না। ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারও করা হচ্ছে না বলে স্থানীয়রা জানান।
তাঁদের অভিযোগ, মূলত নামে মাত্র একটি টিনসেট ঘর তুলে জমিটি দখলে রাখা হয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে ঘরটি সরানো হচ্ছে না। স্থানীয় কয়েকজন জানান, ঘরটিতে নিয়মিত বসবাস না থাকায় এটি বসতঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন কোনো দৃশ্যও তাঁদের চোখে পড়েনি।
অভিযোগের বিষয়ে মো. মোশাররফ হোসেন ওরফে সুমন মিয়া বলেন, “এটা আমার বাবার সম্পত্তি। আমার মা ও বোন আমাকে না জানিয়ে জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। আমি এই জমিতে দখলে আছি এবং থাকব। জমি ছাড়ব না। আমি এলাকার বড় ভাইদের মাধ্যমে জমির মূল্য ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি।”
তবে সুমনের এ বক্তব্য অস্বীকার করে সাজিদ মিয়া বলেন, জমি রেজিস্ট্রির পর তাঁর কাছে জমির মূল্য ফেরত দেওয়ার কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি বিক্রির বিষয়টি সুমন মিয়া আগে থেকেই জানতেন। জমি রেজিস্ট্রি হওয়ার পর টিনসেট ঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য সাজিদের কাছে এক মাস সময় চেয়েছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি।
জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন মধ্যস্থতাকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জমি বিক্রির সময় সুমন বিষয়টি জানতেন। রেজিস্ট্রির পর তিনি ঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় চেয়েছিলেন। পরে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে জমিটি দখলে রাখেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, সাজিদ মিয়া নিয়ম মেনেই জমিটি কিনেছেন এবং তাঁর জমি কেনার বিষয়ে তাঁদের জানামতে কোনো জটিলতা নেই।

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ৪০ লাখ টাকা দিয়ে দুই শতক জমি কিনে নিজের নামে নামজারি করেও দখল বুঝে পাচ্ছেন না মো. সাজিদ মিয়া। তাঁর অভিযোগ, জমি কেনার পরও মো. মোশাররফ হোসেন ওরফে সুমন মিয়া জমিটি দখল করে রেখেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমন মিয়া আওয়ামী যুবলীগের নোয়াপাড়া ইউনিয়ন শাখার কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
দলিল ও ভূমি অফিসের নথি অনুযায়ী, মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ইটাখোলা গ্রামের ইটাখোলা মৌজায় বিরোধপূর্ণ জমিটির অবস্থান। মৌজাটির জে.এল. নম্বর ৩৮। জমিটির এসএ খতিয়ান নম্বর ১১২৪, বিএস ফাইনাল খতিয়ান নম্বর ১০৬৬ এবং নামজারি খতিয়ান নম্বর ২৬২৬। এসএ দাগ নম্বর ১২৫০ ও বিএস দাগ নম্বর ১০৬৪।
দলিলের তফসিল অনুযায়ী, বিএস দাগে মোট জমির পরিমাণ ১০ শতক। এর মধ্যে ‘চারা’ শ্রেণির দুই শতক জমি সাজিদ মিয়ার কাছে বিক্রি করা হয়। দলিলে ওই দুই শতক জমির মূল্য ৪০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট চারাভাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে ৫৬৪০ নম্বর সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি সাজিদ মিয়ার নামে নিবন্ধন করা হয়। পরে তিনি নিজের নামে নামজারির আবেদন করেন। ভূমি অফিসের নথিতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট করা ওই আবেদনের মিউটেশন মামলা নম্বর ২৬৮৪ (IX-1)/২০২৫-২৬ এবং আবেদন নম্বর ৩৫৬০৫৮২। নামজারি খতিয়ানেও মালিক হিসেবে সাজিদ মিয়ার নাম রয়েছে।
সাজিদ মিয়ার অভিযোগ, জমি রেজিস্ট্রির পর সুমন মিয়া তাঁর টিনসেট ঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক মাস সময় চান। মানবিক কারণে তিনি সময় দেন। কিন্তু এক মাস পার হওয়ার পরও সুমন জমির দখল বুঝিয়ে দেননি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে এখনো জমিটি দখলে রেখেছেন।
সাজিদ মিয়া বলেন, “৪০ লাখ টাকা দিয়ে দুই শতক জমি কিনেছি। দলিল ও নামজারি—দুটিই আমার নামে হয়েছে। রেজিস্ট্রির পর সুমন মিয়া টিনসেট ঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক মাস সময় চেয়েছিলেন। আমি সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু এক মাস পরও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এখন জোরপূর্বক জমিটি দখল করে রেখেছেন। আমি আইন অনুযায়ী জমির দখল বুঝে পেতে চাই।”
স্থানীয়রা জানান, সাজিদ মিয়ার ক্রয় করা জমির ওপর সুমন মিয়া যে টিনসেট ঘরটি নির্মাণ করে রেখেছেন, সেখানে কোনো লোকজন বসবাস করেন না। ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারও করা হচ্ছে না বলে স্থানীয়রা জানান।
তাঁদের অভিযোগ, মূলত নামে মাত্র একটি টিনসেট ঘর তুলে জমিটি দখলে রাখা হয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে ঘরটি সরানো হচ্ছে না। স্থানীয় কয়েকজন জানান, ঘরটিতে নিয়মিত বসবাস না থাকায় এটি বসতঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন কোনো দৃশ্যও তাঁদের চোখে পড়েনি।
অভিযোগের বিষয়ে মো. মোশাররফ হোসেন ওরফে সুমন মিয়া বলেন, “এটা আমার বাবার সম্পত্তি। আমার মা ও বোন আমাকে না জানিয়ে জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। আমি এই জমিতে দখলে আছি এবং থাকব। জমি ছাড়ব না। আমি এলাকার বড় ভাইদের মাধ্যমে জমির মূল্য ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি।”
তবে সুমনের এ বক্তব্য অস্বীকার করে সাজিদ মিয়া বলেন, জমি রেজিস্ট্রির পর তাঁর কাছে জমির মূল্য ফেরত দেওয়ার কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি বিক্রির বিষয়টি সুমন মিয়া আগে থেকেই জানতেন। জমি রেজিস্ট্রি হওয়ার পর টিনসেট ঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য সাজিদের কাছে এক মাস সময় চেয়েছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি।
জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন মধ্যস্থতাকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জমি বিক্রির সময় সুমন বিষয়টি জানতেন। রেজিস্ট্রির পর তিনি ঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় চেয়েছিলেন। পরে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে জমিটি দখলে রাখেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, সাজিদ মিয়া নিয়ম মেনেই জমিটি কিনেছেন এবং তাঁর জমি কেনার বিষয়ে তাঁদের জানামতে কোনো জটিলতা নেই।
