রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে বাণিজ্য

মাধবপুরে প্রকাশ্যে সিলিকা বালুর হরিলুট, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা

মাধবপুরে প্রকাশ্যে সিলিকা বালুর হরিলুট, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা
ছবি : চেকপোস্ট

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো বৈধ ইজারা ছাড়াই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও নদী-প্রকৃতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সোনাই নদীর মনতলা, মনতলা চৌমুহনী, রসুলপুর ও শাহজীবাজার ছড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রকাশ্যে সিলিকা বালু উত্তোলন হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না প্রশাসন। এসব মহাল ইজারা দেওয়া হলে সরকারের কোষাগারে প্রায় ১০ কোটি টাকার রাজস্ব জমা হতে পারত বলে দাবি সচেতন মহলের।

খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রসুলপুর, মনতলা ও মনতলা চৌমুহনী বালুমহাল ইজারা দিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছিল। তবে ওই ইজারার মেয়াদ ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল শেষ হওয়ার পর নতুন করে কোনো সিলিকা বালুমহালের ইজারা দেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রঘুনন্দন পাহাড়, শাহজীবাজার রাবার বাগান, সুরমা ও তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বিভিন্ন ছড়া এবং সোনাই নদীর একাধিক স্থানে শতাধিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পাহাড়, নদী ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে সোনাই নদীর দুটি রাবার ড্যাম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে এ কাজে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু চক্রের যোগসাজশ থাকায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলেও অভিযোগ তাদের।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মাধবপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ মিয়া বলেন, তারা কেবল ইজারাকৃত সাধারণ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছেন।

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। জব্দ করা কিছু বালুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ বলেন, বর্তমানে সিলিকা বালুমহালের কোনো ইজারা নেই। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চোরাই বালু পরিবহন বন্ধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

#হবিগঞ্জ #মাধবপুর #সিলিকাবালু #বালুউত্তোলন

চেকপোস্ট

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


মাধবপুরে প্রকাশ্যে সিলিকা বালুর হরিলুট, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো বৈধ ইজারা ছাড়াই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও নদী-প্রকৃতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সোনাই নদীর মনতলা, মনতলা চৌমুহনী, রসুলপুর ও শাহজীবাজার ছড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রকাশ্যে সিলিকা বালু উত্তোলন হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না প্রশাসন। এসব মহাল ইজারা দেওয়া হলে সরকারের কোষাগারে প্রায় ১০ কোটি টাকার রাজস্ব জমা হতে পারত বলে দাবি সচেতন মহলের।

খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রসুলপুর, মনতলা ও মনতলা চৌমুহনী বালুমহাল ইজারা দিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছিল। তবে ওই ইজারার মেয়াদ ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল শেষ হওয়ার পর নতুন করে কোনো সিলিকা বালুমহালের ইজারা দেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রঘুনন্দন পাহাড়, শাহজীবাজার রাবার বাগান, সুরমা ও তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বিভিন্ন ছড়া এবং সোনাই নদীর একাধিক স্থানে শতাধিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পাহাড়, নদী ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে সোনাই নদীর দুটি রাবার ড্যাম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে এ কাজে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু চক্রের যোগসাজশ থাকায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলেও অভিযোগ তাদের।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মাধবপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ মিয়া বলেন, তারা কেবল ইজারাকৃত সাধারণ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছেন।

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। জব্দ করা কিছু বালুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ বলেন, বর্তমানে সিলিকা বালুমহালের কোনো ইজারা নেই। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চোরাই বালু পরিবহন বন্ধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত