মদিনার মসজিদে নববির সবুজ গম্বুজ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পরিচিত প্রতীক। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজার কাছাকাছি অবস্থিত এই গম্বুজ দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মুসল্লির হৃদয়ে জাগে গভীর আবেগ ও ভালোবাসা।
নবীপ্রেমিকদের কাছে সবুজ গম্বুজ শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক আবেগের প্রতীক। মদিনায় আগত দর্শনার্থীদের চোখে প্রথমে ধরা পড়ে এই গম্বুজ, যা রওজায়ে রাসুলের অবস্থান নির্দেশ করে।
মসজিদে নববির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত এই গম্বুজটি ‘আল-কুব্বাতুল খাজরা’ বা সবুজ গম্বুজ নামে পরিচিত। ইতিহাসে এটি আল-কুব্বাতুল বায়দা ও ফায়হা নামেও পরিচিত ছিল।
তবে সাহাবি ও তাবেয়িদের যুগে মহানবী (সা.)-এর রওজার ওপর কোনো গম্বুজ ছিল না। তখন রওজা শরিফ সাধারণ দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল। ইতিহাস অনুযায়ী, ৬৭৮ হিজরি বা ১২৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মামলুক শাসনামলে সর্বপ্রথম এই গম্বুজ নির্মাণ করা হয়।
প্রথম দিকে গম্বুজটি ছিল কাঠের তৈরি। বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা করতে কাঠের কাঠামোর ওপর সিসার পাত ব্যবহার করা হয়। এর নিচের অংশ ছিল চতুর্ভুজ এবং ওপরের অংশ অষ্টভুজ আকৃতির। তখন এতে কোনো নির্দিষ্ট রং ছিল না।
পরবর্তী সময়ে সংস্কারের সময় গম্বুজে সাদা ও নীল রং ব্যবহার করা হয়। ৮৮১ হিজরি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এর মেরামত করা হয়। উসমানি সুলতান সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিশেন্টের আমলে গম্বুজের সিসার আবরণ সংস্কার করা হয় এবং এর চূড়ায় তুর্কি প্রতীক স্থাপন করা হয়।
১২৩৩ হিজরিতে গম্বুজের শীর্ষ অংশে ফাটল দেখা দিলে তা পুনর্নির্মাণ করা হয়। পরে সুলতান আবদুল হামিদ দ্বিতীয় ১২৫৩ হিজরিতে গম্বুজটিকে নীলের পরিবর্তে সবুজ রঙে রাঙানোর নির্দেশ দেন। এটিই ছিল প্রথমবার সবুজ রঙের ব্যবহার।
এরপর ১৮৩৭ সালে উসমানি সুলতান মাহমুদ দ্বিতীয়ের আমলে গম্বুজে আবার সবুজ রং করা হয়। সেই সময়ের পর থেকেই মসজিদে নববির গম্বুজটি স্থায়ীভাবে সবুজ রঙের পরিচিতি লাভ করে।
ইতিহাসে এই গম্বুজ একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত ও সংস্কার করা হয়েছে। ১২৫৬ হিজরিতে আগুনে মসজিদে নববির ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরে ১৪৮১ সালে আরেক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গম্বুজ ধসে পড়ে। এরপর মামলুক সুলতান সাইফউদ্দিন কায়েতবাইয়ের উদ্যোগে মসজিদ সংস্কার ও গম্বুজ পুনর্নির্মাণ করা হয়। সে সময় গম্বুজের রং ছিল সাদা, পরে তা নীল রঙে পরিবর্তিত হয়।
শত শত বছরের ইতিহাস পেরিয়ে আজকের সবুজ গম্বুজ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোটি কোটি মুসলমানের ভালোবাসা, আবেগ ও নবীপ্রেম।

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
মদিনার মসজিদে নববির সবুজ গম্বুজ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পরিচিত প্রতীক। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজার কাছাকাছি অবস্থিত এই গম্বুজ দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মুসল্লির হৃদয়ে জাগে গভীর আবেগ ও ভালোবাসা।
নবীপ্রেমিকদের কাছে সবুজ গম্বুজ শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক আবেগের প্রতীক। মদিনায় আগত দর্শনার্থীদের চোখে প্রথমে ধরা পড়ে এই গম্বুজ, যা রওজায়ে রাসুলের অবস্থান নির্দেশ করে।
মসজিদে নববির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত এই গম্বুজটি ‘আল-কুব্বাতুল খাজরা’ বা সবুজ গম্বুজ নামে পরিচিত। ইতিহাসে এটি আল-কুব্বাতুল বায়দা ও ফায়হা নামেও পরিচিত ছিল।
তবে সাহাবি ও তাবেয়িদের যুগে মহানবী (সা.)-এর রওজার ওপর কোনো গম্বুজ ছিল না। তখন রওজা শরিফ সাধারণ দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল। ইতিহাস অনুযায়ী, ৬৭৮ হিজরি বা ১২৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মামলুক শাসনামলে সর্বপ্রথম এই গম্বুজ নির্মাণ করা হয়।
প্রথম দিকে গম্বুজটি ছিল কাঠের তৈরি। বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা করতে কাঠের কাঠামোর ওপর সিসার পাত ব্যবহার করা হয়। এর নিচের অংশ ছিল চতুর্ভুজ এবং ওপরের অংশ অষ্টভুজ আকৃতির। তখন এতে কোনো নির্দিষ্ট রং ছিল না।
পরবর্তী সময়ে সংস্কারের সময় গম্বুজে সাদা ও নীল রং ব্যবহার করা হয়। ৮৮১ হিজরি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এর মেরামত করা হয়। উসমানি সুলতান সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিশেন্টের আমলে গম্বুজের সিসার আবরণ সংস্কার করা হয় এবং এর চূড়ায় তুর্কি প্রতীক স্থাপন করা হয়।
১২৩৩ হিজরিতে গম্বুজের শীর্ষ অংশে ফাটল দেখা দিলে তা পুনর্নির্মাণ করা হয়। পরে সুলতান আবদুল হামিদ দ্বিতীয় ১২৫৩ হিজরিতে গম্বুজটিকে নীলের পরিবর্তে সবুজ রঙে রাঙানোর নির্দেশ দেন। এটিই ছিল প্রথমবার সবুজ রঙের ব্যবহার।
এরপর ১৮৩৭ সালে উসমানি সুলতান মাহমুদ দ্বিতীয়ের আমলে গম্বুজে আবার সবুজ রং করা হয়। সেই সময়ের পর থেকেই মসজিদে নববির গম্বুজটি স্থায়ীভাবে সবুজ রঙের পরিচিতি লাভ করে।
ইতিহাসে এই গম্বুজ একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত ও সংস্কার করা হয়েছে। ১২৫৬ হিজরিতে আগুনে মসজিদে নববির ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরে ১৪৮১ সালে আরেক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গম্বুজ ধসে পড়ে। এরপর মামলুক সুলতান সাইফউদ্দিন কায়েতবাইয়ের উদ্যোগে মসজিদ সংস্কার ও গম্বুজ পুনর্নির্মাণ করা হয়। সে সময় গম্বুজের রং ছিল সাদা, পরে তা নীল রঙে পরিবর্তিত হয়।
শত শত বছরের ইতিহাস পেরিয়ে আজকের সবুজ গম্বুজ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোটি কোটি মুসলমানের ভালোবাসা, আবেগ ও নবীপ্রেম।
