উচ্চ বেতনের নিরাপদ চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয়েছেন গোপালগঞ্জের তিন যুবক। অভিযোগ উঠেছে, ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সি তাদের রাশিয়ায় পাঠিয়ে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে ওই যুবকদের ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে তাদের পরিবার।
ভুক্তভোগীরা হলেন-গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বলাকইড় গ্রামের সৌরভ মোল্লা, সিতারকুল গ্রামের রনি ফকির এবং ঘোষেরচর গ্রামের পলাশ শেখ।
স্বজনদের অভিযোগ, জমিজমা বিক্রি ও ঋণ করে সন্তানদের বিদেশে পাঠানো হয়েছিল ভালো জীবনের আশায়। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের জোরপূর্বক সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ শিবিরে নেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অবস্থিত সরকারি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ‘জাবাল ই নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এর মাধ্যমে গত ৭ মে ওই তিন যুবক রাশিয়ায় যান। এজেন্সির পক্ষ থেকে নিরাপদ চাকরির আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এক ভুক্তভোগীর স্বজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল ভালো কোম্পানিতে চাকরি দেওয়া হবে। কিন্তু এখন শুনছি তাদের ক্যাম্পে আটকে রেখে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যেকোনো সময় যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অবস্থিত অভিযুক্ত এজেন্সির কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টদের ফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্বজনরা।
সচেতন মহল বলছে, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণা করে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে বাংলাদেশিদের পাচার করা মানবপাচারের ভয়ংকর রূপ। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বুধবার, ২০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
উচ্চ বেতনের নিরাপদ চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয়েছেন গোপালগঞ্জের তিন যুবক। অভিযোগ উঠেছে, ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সি তাদের রাশিয়ায় পাঠিয়ে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে ওই যুবকদের ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে তাদের পরিবার।
ভুক্তভোগীরা হলেন-গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বলাকইড় গ্রামের সৌরভ মোল্লা, সিতারকুল গ্রামের রনি ফকির এবং ঘোষেরচর গ্রামের পলাশ শেখ।
স্বজনদের অভিযোগ, জমিজমা বিক্রি ও ঋণ করে সন্তানদের বিদেশে পাঠানো হয়েছিল ভালো জীবনের আশায়। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের জোরপূর্বক সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ শিবিরে নেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অবস্থিত সরকারি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ‘জাবাল ই নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এর মাধ্যমে গত ৭ মে ওই তিন যুবক রাশিয়ায় যান। এজেন্সির পক্ষ থেকে নিরাপদ চাকরির আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এক ভুক্তভোগীর স্বজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল ভালো কোম্পানিতে চাকরি দেওয়া হবে। কিন্তু এখন শুনছি তাদের ক্যাম্পে আটকে রেখে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যেকোনো সময় যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অবস্থিত অভিযুক্ত এজেন্সির কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টদের ফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্বজনরা।
সচেতন মহল বলছে, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণা করে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে বাংলাদেশিদের পাচার করা মানবপাচারের ভয়ংকর রূপ। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
