মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

বিশ্ব

যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ কীভাবে কাজ করে, জানুন নিয়োগের রহস্য

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ কীভাবে কাজ করে, জানুন নিয়োগের রহস্য
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের বহির্দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা ‘র’ বিশ্বের অন্যতম আলোচিত গোয়েন্দা সংস্থা। দেশের বাইরে থেকে কৌশলগত তথ্য সংগ্রহ, নিরাপত্তা বিশ্লেষণ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে এই সংস্থা।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর ভারতের গোয়েন্দা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সামনে আসে। যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্র মজুতের সঠিক তথ্য না থাকায় ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল। এর পরই আলাদা একটি বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১৯৬৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা ‘র’। সংস্থাটির প্রথম প্রধান ছিলেন রামেশ্বর নাথ কাও। তার সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শঙ্করণ নায়ার। শুরুতে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) থেকে প্রায় ২৫০ জন কর্মকর্তা নিয়ে সংস্থাটির কার্যক্রম শুরু হয়।

‘র’-এ নিয়োগের শুরু

প্রথম দিকে ‘র’-এ নিয়োগের ক্ষেত্রে সরাসরি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিভাবানদের বেছে নেওয়ার প্রথা ছিল। তবে পরে এই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়।

১৯৭৩ সালের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হয়। প্রার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা এবং একাধিক ধাপের সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে যেতে হতো।

সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, প্রার্থীদের আচরণ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করা হতো। চূড়ান্ত পর্যায়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মনোবিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড সাক্ষাৎকার নিত।

বর্তমানে কীভাবে কর্মকর্তা বাছাই হয়

বর্তমানে ‘র’-এর অধিকাংশ কর্মকর্তা ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) থেকে নির্বাচিত হন। এছাড়া অর্থনৈতিক গোয়েন্দা তথ্যের জন্য কাস্টমস ও আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদেরও নেওয়া হয়।

তবে সাবেক কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করেন, শুধু পুলিশ বাহিনী থেকে নিয়োগ যথেষ্ট নয়। কারণ আধুনিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে ভাষা দক্ষতা, সাইবার প্রযুক্তি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও কৌশলগত বিশ্লেষণের মতো বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন।

‘র’ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ

নির্বাচিত কর্মকর্তাদের শুরুতেই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাদের একটি বিদেশি ভাষা শেখানো হয় এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কাজ করার কৌশল শেখানো হয়।

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে শেখানো হয়—

  • বিদেশে তথ্য সংগ্রহের কৌশল

  • গোপন অভিযান পরিচালনা

  • ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে টিকে থাকার পদ্ধতি

  • নজরদারি এড়িয়ে কাজ করা

  • শীতল আবহাওয়া বা প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে দেশের নিরাপত্তার জন্য কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে তোলাই এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।

দীর্ঘদিন ধরে গোপনীয়তার আবরণে থাকা ‘র’ এখনো ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।

Image

#RAW_India #গুপ্তচর_নিয়োগ_প্রক্রিয়া #ভারতের_গোয়েন্দা_সংস্থা

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ কীভাবে কাজ করে, জানুন নিয়োগের রহস্য

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের বহির্দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা ‘র’ বিশ্বের অন্যতম আলোচিত গোয়েন্দা সংস্থা। দেশের বাইরে থেকে কৌশলগত তথ্য সংগ্রহ, নিরাপত্তা বিশ্লেষণ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে এই সংস্থা।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর ভারতের গোয়েন্দা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সামনে আসে। যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্র মজুতের সঠিক তথ্য না থাকায় ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল। এর পরই আলাদা একটি বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১৯৬৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা ‘র’। সংস্থাটির প্রথম প্রধান ছিলেন রামেশ্বর নাথ কাও। তার সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শঙ্করণ নায়ার। শুরুতে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) থেকে প্রায় ২৫০ জন কর্মকর্তা নিয়ে সংস্থাটির কার্যক্রম শুরু হয়।

‘র’-এ নিয়োগের শুরু

প্রথম দিকে ‘র’-এ নিয়োগের ক্ষেত্রে সরাসরি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিভাবানদের বেছে নেওয়ার প্রথা ছিল। তবে পরে এই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়।

১৯৭৩ সালের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হয়। প্রার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা এবং একাধিক ধাপের সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে যেতে হতো।

সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, প্রার্থীদের আচরণ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করা হতো। চূড়ান্ত পর্যায়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মনোবিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড সাক্ষাৎকার নিত।

বর্তমানে কীভাবে কর্মকর্তা বাছাই হয়

বর্তমানে ‘র’-এর অধিকাংশ কর্মকর্তা ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) থেকে নির্বাচিত হন। এছাড়া অর্থনৈতিক গোয়েন্দা তথ্যের জন্য কাস্টমস ও আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদেরও নেওয়া হয়।

তবে সাবেক কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করেন, শুধু পুলিশ বাহিনী থেকে নিয়োগ যথেষ্ট নয়। কারণ আধুনিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে ভাষা দক্ষতা, সাইবার প্রযুক্তি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও কৌশলগত বিশ্লেষণের মতো বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন।

‘র’ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ

নির্বাচিত কর্মকর্তাদের শুরুতেই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাদের একটি বিদেশি ভাষা শেখানো হয় এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কাজ করার কৌশল শেখানো হয়।

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে শেখানো হয়—

  • বিদেশে তথ্য সংগ্রহের কৌশল

  • গোপন অভিযান পরিচালনা

  • ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে টিকে থাকার পদ্ধতি

  • নজরদারি এড়িয়ে কাজ করা

  • শীতল আবহাওয়া বা প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে দেশের নিরাপত্তার জন্য কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে তোলাই এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।

দীর্ঘদিন ধরে গোপনীয়তার আবরণে থাকা ‘র’ এখনো ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত