প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রংপুর সফরকে সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। সড়কের ডিভাইডারে নতুন রং করা হচ্ছে, পরিষ্কার করা হচ্ছে ফুটপাত ও সড়কের পাশের গাছপালা। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনা বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) শহরের বিভিন্ন এলাকায় পৌর কর্তৃপক্ষের এসব কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। তবে সফর উপলক্ষে নেওয়া এই উদ্যোগের প্রশংসার পাশাপাশি শহরের দীর্ঘদিনের সড়ক, ড্রেনেজ ও যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সফর ঘিরে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন
আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরে আসার কথা রয়েছে। ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে তাঁর।
এ সফরকে সামনে রেখে সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন সড়কের ডিভাইডারে পুরোনো রঙের ওপর নতুন করে রং করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফুটপাত ও সড়কের দুই পাশ পরিষ্কার করার কাজও চলছে। কয়েক দিন ধরে এসব কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।
তবে শহরের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লার ভাগাড় বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, আবর্জনা ঢেকে না রেখে যথাযথভাবে অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো জরুরি।
সড়ক, ড্রেনেজ ও যানজট নিয়ে ক্ষোভ
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগের মধ্যে সৈয়দপুরের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, তীব্র যানজট এবং চলাচলে ভোগান্তি নগরবাসীর নিত্যদিনের সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ও দৃশ্যমান উদ্যোগের অভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিশেষ কোনো সফর বা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ না করে নিয়মিতভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে শহরের পরিবেশ আরও ভালো রাখা সম্ভব।
উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন
সৈয়দপুরের শেরেবাংলা সড়ক এবং শহীদ জহুরুল হক সড়কের (বিচালীহাটি) উন্নয়ন ও ড্রেন নির্মাণের কাজ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া এসব প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন আগে শুরু হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি রয়েছে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এ বিষয়ে পৌর প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
এসব অভিযোগ ও প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় আসছে। স্থানীয়দের দাবি, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে কাজের মান নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের তৎপরতা
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতাও বেড়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে তারেক রহমানের ছবি ও দলীয় নেতাকর্মীদের ছবি সংবলিত শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পোস্টার লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি শুভেচ্ছা মিছিল এবং প্রস্তুতিমূলক সভার আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
সাময়িক উদ্যোগের পাশাপাশি স্থায়ী উন্নয়ন চান বাসিন্দারা
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুরের বাস্তব সমস্যা ও উন্নয়নসংক্রান্ত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে। সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, যানজট নিরসন এবং চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তাঁদের মতে, শুধু বিশেষ সফরকে কেন্দ্র করে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সৈয়দপুরকে পরিচ্ছন্ন, যানজটমুক্ত ও নাগরিকবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রংপুর সফরকে সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। সড়কের ডিভাইডারে নতুন রং করা হচ্ছে, পরিষ্কার করা হচ্ছে ফুটপাত ও সড়কের পাশের গাছপালা। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনা বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) শহরের বিভিন্ন এলাকায় পৌর কর্তৃপক্ষের এসব কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। তবে সফর উপলক্ষে নেওয়া এই উদ্যোগের প্রশংসার পাশাপাশি শহরের দীর্ঘদিনের সড়ক, ড্রেনেজ ও যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সফর ঘিরে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন
আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরে আসার কথা রয়েছে। ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে তাঁর।
এ সফরকে সামনে রেখে সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন সড়কের ডিভাইডারে পুরোনো রঙের ওপর নতুন করে রং করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফুটপাত ও সড়কের দুই পাশ পরিষ্কার করার কাজও চলছে। কয়েক দিন ধরে এসব কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।
তবে শহরের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লার ভাগাড় বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, আবর্জনা ঢেকে না রেখে যথাযথভাবে অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো জরুরি।
সড়ক, ড্রেনেজ ও যানজট নিয়ে ক্ষোভ
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগের মধ্যে সৈয়দপুরের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, তীব্র যানজট এবং চলাচলে ভোগান্তি নগরবাসীর নিত্যদিনের সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ও দৃশ্যমান উদ্যোগের অভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিশেষ কোনো সফর বা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ না করে নিয়মিতভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে শহরের পরিবেশ আরও ভালো রাখা সম্ভব।
উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন
সৈয়দপুরের শেরেবাংলা সড়ক এবং শহীদ জহুরুল হক সড়কের (বিচালীহাটি) উন্নয়ন ও ড্রেন নির্মাণের কাজ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া এসব প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন আগে শুরু হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি রয়েছে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এ বিষয়ে পৌর প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
এসব অভিযোগ ও প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় আসছে। স্থানীয়দের দাবি, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে কাজের মান নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের তৎপরতা
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতাও বেড়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে তারেক রহমানের ছবি ও দলীয় নেতাকর্মীদের ছবি সংবলিত শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পোস্টার লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি শুভেচ্ছা মিছিল এবং প্রস্তুতিমূলক সভার আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
সাময়িক উদ্যোগের পাশাপাশি স্থায়ী উন্নয়ন চান বাসিন্দারা
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুরের বাস্তব সমস্যা ও উন্নয়নসংক্রান্ত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে। সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, যানজট নিরসন এবং চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তাঁদের মতে, শুধু বিশেষ সফরকে কেন্দ্র করে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সৈয়দপুরকে পরিচ্ছন্ন, যানজটমুক্ত ও নাগরিকবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
