বাংলাদেশে পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতে সরকারি বরাদ্দ ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৬) অর্জন এবং জলবায়ু সহনশীলতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কস।
বুধবার (২০ মে) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-এর সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, জাতীয় ওয়াশ খাতের বরাদ্দ গত তিন বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে শহরকেন্দ্রিক বৈষম্যের কারণে গ্রামীণ ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী মারাত্মক সংকটে পড়ছে।
ওয়াটারএইড বাংলাদেশ এবং পিপিআরসি পরিচালিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। পরবর্তী তিন অর্থবছরে তা কমে ১০ হাজার ৯০১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
ব্রিফিংয়ে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, জাতীয় উন্নয়ন বাজেট বাড়লেও পানি, স্যানিটেশন ও জনস্বাস্থ্যের মতো মৌলিক খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, দেশের মোট ওয়াশ উন্নয়ন বাজেটের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শহরাঞ্চল ও ওয়াসাগুলোর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা ওয়াসা একাই জাতীয় ওয়াশ বরাদ্দের প্রায় ২৯ শতাংশ পাচ্ছে। অন্যদিকে চর, হাওর, উপকূল ও পাহাড়ি এলাকার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো পাচ্ছে মাত্র ১০ দশমিক ২২ শতাংশ বরাদ্দ।
ফাইযাজউদ্দিন আহমদ জানান, দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ উন্নত পানির উৎস ব্যবহার করলেও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার আওতায় সুপেয় পানি পাচ্ছে মাত্র ৫৫ শতাংশ মানুষ। শহরে এ হার ৭১ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৮ শতাংশ।
বক্তারা বলেন, মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতেও ভয়াবহ সংকট রয়েছে। শহরে নিরাপদ বর্জ্য অপসারণের হার মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশ এবং গ্রামে তা প্রায় শূন্য।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে ওয়াশ খাতের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াশ বাজেট বৃদ্ধি, গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে বরাদ্দ বাড়ানো, দরিদ্র পরিবারের জন্য সরাসরি ওয়াশ ভাতা চালু, স্কুলে জেন্ডার-বান্ধব ওয়াশ ব্লক স্থাপন এবং জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সংকট ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
বাংলাদেশে পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতে সরকারি বরাদ্দ ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৬) অর্জন এবং জলবায়ু সহনশীলতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কস।
বুধবার (২০ মে) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-এর সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, জাতীয় ওয়াশ খাতের বরাদ্দ গত তিন বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে শহরকেন্দ্রিক বৈষম্যের কারণে গ্রামীণ ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী মারাত্মক সংকটে পড়ছে।
ওয়াটারএইড বাংলাদেশ এবং পিপিআরসি পরিচালিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। পরবর্তী তিন অর্থবছরে তা কমে ১০ হাজার ৯০১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
ব্রিফিংয়ে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, জাতীয় উন্নয়ন বাজেট বাড়লেও পানি, স্যানিটেশন ও জনস্বাস্থ্যের মতো মৌলিক খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, দেশের মোট ওয়াশ উন্নয়ন বাজেটের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শহরাঞ্চল ও ওয়াসাগুলোর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা ওয়াসা একাই জাতীয় ওয়াশ বরাদ্দের প্রায় ২৯ শতাংশ পাচ্ছে। অন্যদিকে চর, হাওর, উপকূল ও পাহাড়ি এলাকার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো পাচ্ছে মাত্র ১০ দশমিক ২২ শতাংশ বরাদ্দ।
ফাইযাজউদ্দিন আহমদ জানান, দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ উন্নত পানির উৎস ব্যবহার করলেও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার আওতায় সুপেয় পানি পাচ্ছে মাত্র ৫৫ শতাংশ মানুষ। শহরে এ হার ৭১ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৮ শতাংশ।
বক্তারা বলেন, মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতেও ভয়াবহ সংকট রয়েছে। শহরে নিরাপদ বর্জ্য অপসারণের হার মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশ এবং গ্রামে তা প্রায় শূন্য।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে ওয়াশ খাতের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াশ বাজেট বৃদ্ধি, গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে বরাদ্দ বাড়ানো, দরিদ্র পরিবারের জন্য সরাসরি ওয়াশ ভাতা চালু, স্কুলে জেন্ডার-বান্ধব ওয়াশ ব্লক স্থাপন এবং জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সংকট ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
