রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

ধরমণ্ডলে কিশোরী নির্যাতনের সালিশে জরিমানা ৫০ হাজার, পরিবার পেল ৬ হাজার; বাকি ৪৪ হাজার কোথায়?

ধরমণ্ডলে কিশোরী নির্যাতনের সালিশে জরিমানা ৫০ হাজার, পরিবার পেল ৬ হাজার; বাকি ৪৪ হাজার কোথায়?
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে দূরসম্পর্কের আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কিশোরীর পরিবারের হাতে মাত্র ৬ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সালিশে নির্ধারিত বাকি ৪৪ হাজার টাকা কোথায় গেছে, এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কিশোরীর অভিযোগ, গৃহকর্মী হিসেবে তাকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ভয়ভীতি দেখানো ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। একপর্যায়ে সুযোগ পেয়ে সে সেখান থেকে পালিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসে। পরে তাকে আবারও জোর করে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে কিশোরী।

ঘটনাটি জানাজানি হলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ধরমণ্ডল এলাকায় এ নিয়ে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। তবে কিশোরীর পরিবারের হাতে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বাকি ৪৪ হাজার টাকা কোথায় গেল, কার কাছে রয়েছে কিংবা কীভাবে তা বণ্টন করা হয়েছে—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ধরমণ্ডল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাফিকুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের ঘটনা সালিশে মীমাংসার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীর সঙ্গে কথা বলেছে। তবে কিশোরীর পরিবার মামলা করতে রাজি হয়নি।

এদিকে, কিশোরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি মেয়েকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি কীভাবে স্থানীয় সালিশে নেওয়া হলো এবং সালিশে নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ৬ হাজার টাকা দেওয়ার পর বাকি ৪৪ হাজার টাকার কী হয়েছে—সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে সালিশে নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকার বাকি ৪৪ হাজার টাকা কোথায় গেছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সালিশকারীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চেকপোস্ট

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


ধরমণ্ডলে কিশোরী নির্যাতনের সালিশে জরিমানা ৫০ হাজার, পরিবার পেল ৬ হাজার; বাকি ৪৪ হাজার কোথায়?

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে দূরসম্পর্কের আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কিশোরীর পরিবারের হাতে মাত্র ৬ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সালিশে নির্ধারিত বাকি ৪৪ হাজার টাকা কোথায় গেছে, এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কিশোরীর অভিযোগ, গৃহকর্মী হিসেবে তাকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ভয়ভীতি দেখানো ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। একপর্যায়ে সুযোগ পেয়ে সে সেখান থেকে পালিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসে। পরে তাকে আবারও জোর করে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে কিশোরী।

ঘটনাটি জানাজানি হলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ধরমণ্ডল এলাকায় এ নিয়ে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। তবে কিশোরীর পরিবারের হাতে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বাকি ৪৪ হাজার টাকা কোথায় গেল, কার কাছে রয়েছে কিংবা কীভাবে তা বণ্টন করা হয়েছে—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ধরমণ্ডল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাফিকুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের ঘটনা সালিশে মীমাংসার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীর সঙ্গে কথা বলেছে। তবে কিশোরীর পরিবার মামলা করতে রাজি হয়নি।

এদিকে, কিশোরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি মেয়েকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি কীভাবে স্থানীয় সালিশে নেওয়া হলো এবং সালিশে নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ৬ হাজার টাকা দেওয়ার পর বাকি ৪৪ হাজার টাকার কী হয়েছে—সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে সালিশে নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকার বাকি ৪৪ হাজার টাকা কোথায় গেছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সালিশকারীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত