নারীদের কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা ত্রিশালের মহিলা বিপনি বিতান এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায়। দীর্ঘদিন ধরে নামমাত্র সরকারি ভাড়ায় পরিচালিত দোকানগুলো থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
ত্রিশাল পৌরসভার চকবাজার এলাকায় অবস্থিত এই বিপনি বিতানে মোট আটটি দোকান রয়েছে। একসময় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও পরে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে দোকানগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি কোষাগারে মাসিক মাত্র ৩০০ টাকা জমা হলেও ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নেওয়া হতো আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত।
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পরও এই অনিয়ম বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি স্বল্প সময়ের নোটিশে দোকান খালি করতে বলা হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে স্থানীয়দের বাধার মুখে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসন দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারদরের তুলনায় অতিরিক্ত টাকা আদায়ের শর্তে একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও পরে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের কাছে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, আটটি দোকানের মধ্যে একটি দোকান দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করতেন ব্যবসায়ী ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবিরের পরিবার।
অভিযোগকারীদের দাবি, দোকানপ্রতি আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, পাঁচটি দোকানের জন্য এক লাখ টাকা এবং একটি দোকানের জন্য দেড় লাখ টাকা অফেরতযোগ্য জামানত নেওয়া হয়েছে।
দোকান না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি লেখেন, ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পুরস্কার হিসেবে প্রশাসন আমার পেটে লাথি দিল।
এ বিষয়ে পৌর প্রকৌশলী লুৎফুল ইসলাম বলেন, তিনবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েও সাড়া না পাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সক্ষমতার ভিত্তিতে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
নারীদের কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা ত্রিশালের মহিলা বিপনি বিতান এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায়। দীর্ঘদিন ধরে নামমাত্র সরকারি ভাড়ায় পরিচালিত দোকানগুলো থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
ত্রিশাল পৌরসভার চকবাজার এলাকায় অবস্থিত এই বিপনি বিতানে মোট আটটি দোকান রয়েছে। একসময় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও পরে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে দোকানগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি কোষাগারে মাসিক মাত্র ৩০০ টাকা জমা হলেও ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নেওয়া হতো আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত।
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পরও এই অনিয়ম বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি স্বল্প সময়ের নোটিশে দোকান খালি করতে বলা হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে স্থানীয়দের বাধার মুখে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসন দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারদরের তুলনায় অতিরিক্ত টাকা আদায়ের শর্তে একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও পরে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের কাছে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, আটটি দোকানের মধ্যে একটি দোকান দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করতেন ব্যবসায়ী ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবিরের পরিবার।
অভিযোগকারীদের দাবি, দোকানপ্রতি আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, পাঁচটি দোকানের জন্য এক লাখ টাকা এবং একটি দোকানের জন্য দেড় লাখ টাকা অফেরতযোগ্য জামানত নেওয়া হয়েছে।
দোকান না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি লেখেন, ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পুরস্কার হিসেবে প্রশাসন আমার পেটে লাথি দিল।
এ বিষয়ে পৌর প্রকৌশলী লুৎফুল ইসলাম বলেন, তিনবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েও সাড়া না পাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সক্ষমতার ভিত্তিতে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।
