গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নিজেকে কাজী পরিচয় দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন ও অবৈধভাবে বিয়ে নিবন্ধনের অভিযোগ উঠেছে সাইফুল খাঁ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযুক্ত সাইফুল খাঁ উপজেলার ২ নম্বর বর্ণি ইউনিয়নের বাসুড়িয়া গ্রামের মৃত সাহেব আলী খাঁর ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাইফুল খাঁ বৈধভাবে নিবন্ধিত কাজী না হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিয়ে পড়িয়ে নিজস্বভাবে সংরক্ষিত রেজিস্ট্রেশন খাতা ও কথিত ভলিউম বইয়ে তথ্য লিপিবদ্ধ করে আসছেন। এতে সংশ্লিষ্ট দম্পতিরা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন এবং সরকার নির্ধারিত রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিয়ের দেনমোহরের বিপরীতে নির্ধারিত সরকারি ফি জমা না দিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও ঘটছে। এছাড়া কোথাও বিয়ের আয়োজনের খবর পেলেই তিনি নিজেকে কাজী পরিচয় দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি উপজেলার মালেক বাজার এলাকায় একটি বিয়ে সম্পন্ন করার সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত নিবন্ধিত কাজীর কাছে নিয়ে যাওয়া হলে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ জুন বর্ণি গ্রামের ইব্রাহিম শেখের মেয়ে নাহিদা খানমের, ১১ জুন শরসপুর গ্রামের লিটন সর্দারের মেয়ে রুপার এবং একই দিনে গিমাডাঙ্গা মুন্সিরচর গ্রামের আনারউদ্দিন শেখের মেয়ে ইজমা আক্তারের বিয়ে তিনি সম্পন্ন করেন। এছাড়া গজালিয়া গ্রামের শুকুর মোল্লার মেয়ে মুক্তা খানমের বিয়েও তিনি পড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ওই বিয়ের তারিখ নথিতে উল্লেখ করা হয়নি বলেও জানা গেছে।
সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত নিবন্ধিত কাজী হাসমত শেখ বলেন, তিনি একাধিকবার সাইফুল খাঁকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিলেও তা মানা হয়নি। তিনি অভিযুক্তের ব্যবহৃত কথিত রেজিস্ট্রেশন খাতা ও ভলিউম বই জব্দ করে তদন্তের দাবি জানান।
অন্যদিকে সাইফুল খাঁ বলেন, তিনি সরকারি নিবন্ধিত কাজী নন। তবে পাশের কুশলী ইউনিয়নের একজন নিবন্ধিত কাজীর সহকারী হিসেবে বিভিন্ন বিয়ে পড়িয়েছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, অভিযোগটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলাজুড়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অবৈধভাবে বিয়ে নিবন্ধনের মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নিজেকে কাজী পরিচয় দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন ও অবৈধভাবে বিয়ে নিবন্ধনের অভিযোগ উঠেছে সাইফুল খাঁ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযুক্ত সাইফুল খাঁ উপজেলার ২ নম্বর বর্ণি ইউনিয়নের বাসুড়িয়া গ্রামের মৃত সাহেব আলী খাঁর ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাইফুল খাঁ বৈধভাবে নিবন্ধিত কাজী না হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিয়ে পড়িয়ে নিজস্বভাবে সংরক্ষিত রেজিস্ট্রেশন খাতা ও কথিত ভলিউম বইয়ে তথ্য লিপিবদ্ধ করে আসছেন। এতে সংশ্লিষ্ট দম্পতিরা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন এবং সরকার নির্ধারিত রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিয়ের দেনমোহরের বিপরীতে নির্ধারিত সরকারি ফি জমা না দিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও ঘটছে। এছাড়া কোথাও বিয়ের আয়োজনের খবর পেলেই তিনি নিজেকে কাজী পরিচয় দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি উপজেলার মালেক বাজার এলাকায় একটি বিয়ে সম্পন্ন করার সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত নিবন্ধিত কাজীর কাছে নিয়ে যাওয়া হলে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ জুন বর্ণি গ্রামের ইব্রাহিম শেখের মেয়ে নাহিদা খানমের, ১১ জুন শরসপুর গ্রামের লিটন সর্দারের মেয়ে রুপার এবং একই দিনে গিমাডাঙ্গা মুন্সিরচর গ্রামের আনারউদ্দিন শেখের মেয়ে ইজমা আক্তারের বিয়ে তিনি সম্পন্ন করেন। এছাড়া গজালিয়া গ্রামের শুকুর মোল্লার মেয়ে মুক্তা খানমের বিয়েও তিনি পড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ওই বিয়ের তারিখ নথিতে উল্লেখ করা হয়নি বলেও জানা গেছে।
সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত নিবন্ধিত কাজী হাসমত শেখ বলেন, তিনি একাধিকবার সাইফুল খাঁকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিলেও তা মানা হয়নি। তিনি অভিযুক্তের ব্যবহৃত কথিত রেজিস্ট্রেশন খাতা ও ভলিউম বই জব্দ করে তদন্তের দাবি জানান।
অন্যদিকে সাইফুল খাঁ বলেন, তিনি সরকারি নিবন্ধিত কাজী নন। তবে পাশের কুশলী ইউনিয়নের একজন নিবন্ধিত কাজীর সহকারী হিসেবে বিভিন্ন বিয়ে পড়িয়েছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, অভিযোগটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলাজুড়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অবৈধভাবে বিয়ে নিবন্ধনের মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
