টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে রাঙামাটিতে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড় ধসে একজনের মৃত্যু, পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরেকজনের প্রাণহানি এবং পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন রাঙামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে জেলা প্রশাসন, রাঙামাটি পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টিম মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
এদিকে বাঘাইছড়ি পৌরসভার পশ্চিম লাইল্যাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে লক্ষী বিলাশ চাকমা (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি দ্রোণাচার্য চাকমার ছেলে।
নিহতের বড় ভাই বিমলেন্দু চাকমা জানান, সোমবার রাতের টানা বৃষ্টিতে বসতঘরের পাশের পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ধসে পড়া মাটি সরাতে গেলে পুনরায় গাছের গুঁড়িসহ মাটি ধসে তার ওপর পড়ে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা মাটি সরিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসরতদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এ ঘটনায় বাঘাইছড়ি থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করেছে।
অন্যদিকে, লংগদু উপজেলার মহাজনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেনসন চাকমা (৩০) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বালুচরা এলাকায় পাহাড় ধস ও গাছ উপড়ে পড়ায় কাপ্তাই-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। সড়ক সচল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে বসবাসরত সবাইকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে রাঙামাটিতে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড় ধসে একজনের মৃত্যু, পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরেকজনের প্রাণহানি এবং পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন রাঙামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে জেলা প্রশাসন, রাঙামাটি পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টিম মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
এদিকে বাঘাইছড়ি পৌরসভার পশ্চিম লাইল্যাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে লক্ষী বিলাশ চাকমা (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি দ্রোণাচার্য চাকমার ছেলে।
নিহতের বড় ভাই বিমলেন্দু চাকমা জানান, সোমবার রাতের টানা বৃষ্টিতে বসতঘরের পাশের পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ধসে পড়া মাটি সরাতে গেলে পুনরায় গাছের গুঁড়িসহ মাটি ধসে তার ওপর পড়ে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা মাটি সরিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসরতদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এ ঘটনায় বাঘাইছড়ি থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করেছে।
অন্যদিকে, লংগদু উপজেলার মহাজনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেনসন চাকমা (৩০) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বালুচরা এলাকায় পাহাড় ধস ও গাছ উপড়ে পড়ায় কাপ্তাই-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। সড়ক সচল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে বসবাসরত সবাইকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
