বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

শিক্ষা

অভিযোগ অস্বীকার, ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ দাবি

জাবিপ্রবিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রক্টরকে পদত্যাগে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ

জাবিপ্রবিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রক্টরকে পদত্যাগে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ
ছবি : চেকপোস্ট

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমানকে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে নিজেদের ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয় দিয়ে একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করে প্রক্টরের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এ সময় তাঁরা আগে থেকে প্রস্তুত করে আনা একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে চাপ দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পুরো ঘটনায় বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা প্রক্টরকে কক্ষে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

বর্তমানে ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের পাশাপাশি ফিশারিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন। এ কারণে তাঁর দপ্তরেই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈঠকে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। যদিও তাঁরা নিজেদের সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন, বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের দাবি, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই ছাত্রদলের নেতা-কর্মী।

ঘটনার একপর্যায়ে সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার সেখানে উপস্থিত হলে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদকর্মীদেরও কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই একটি পদত্যাগপত্র লিখে নিয়ে এসেছিলেন এবং সেটিতে স্বাক্ষর করতে বলেন। তবে ওই পত্রে তাঁর নামের বানানে ভুল থাকায় তিনি তা সংশোধন করে পুনরায় জমা দিতে বলেন।

পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাঁকে ১৫ মিনিট সময় দিয়ে কক্ষের বাইরে চলে যান। নির্ধারিত সময় শেষে আবারও বৈঠক শুরু হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আমির হোসেন মুঠোফোনে প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলে পরদিন বুধবার পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দেন। উপাচার্যের পরামর্শের পর তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগে অপারগতা প্রকাশ করেন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর।

দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান ও সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা দাবি করেন, তাঁরা কোনো দলীয় পরিচয়ে সেখানে যাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতেই সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে প্রক্টরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে তাঁদের দাবি।

#জাবিপ্রবি #ছাত্ররাজনীতি #প্রক্টর

চেকপোস্ট

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


জাবিপ্রবিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রক্টরকে পদত্যাগে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমানকে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে নিজেদের ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয় দিয়ে একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করে প্রক্টরের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এ সময় তাঁরা আগে থেকে প্রস্তুত করে আনা একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে চাপ দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পুরো ঘটনায় বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা প্রক্টরকে কক্ষে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

বর্তমানে ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের পাশাপাশি ফিশারিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন। এ কারণে তাঁর দপ্তরেই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈঠকে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। যদিও তাঁরা নিজেদের সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন, বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের দাবি, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই ছাত্রদলের নেতা-কর্মী।

ঘটনার একপর্যায়ে সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার সেখানে উপস্থিত হলে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদকর্মীদেরও কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই একটি পদত্যাগপত্র লিখে নিয়ে এসেছিলেন এবং সেটিতে স্বাক্ষর করতে বলেন। তবে ওই পত্রে তাঁর নামের বানানে ভুল থাকায় তিনি তা সংশোধন করে পুনরায় জমা দিতে বলেন।

পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাঁকে ১৫ মিনিট সময় দিয়ে কক্ষের বাইরে চলে যান। নির্ধারিত সময় শেষে আবারও বৈঠক শুরু হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আমির হোসেন মুঠোফোনে প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলে পরদিন বুধবার পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দেন। উপাচার্যের পরামর্শের পর তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগে অপারগতা প্রকাশ করেন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর।

দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান ও সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা দাবি করেন, তাঁরা কোনো দলীয় পরিচয়ে সেখানে যাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতেই সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে প্রক্টরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে তাঁদের দাবি।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত