বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সর্বশেষ

জমি-সম্পত্তি ভাগ করে দেওয়ার পরও ঠাঁই হয়নি ৯৫ বছরের বৃদ্ধের, গাছতলায় কাটছে দিন

জমি-সম্পত্তি ভাগ করে দেওয়ার পরও ঠাঁই হয়নি ৯৫ বছরের বৃদ্ধের, গাছতলায় কাটছে দিন
চেকপোস্ট

জমি-সম্পত্তি ভাগ করে দেওয়ার পরও ঠাঁই হয়নি ৯৫ বছরের বৃদ্ধের, গাছতলায় কাটছে দিন

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়ার পর শেষ বয়সে এসে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ৯৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লা। ছয় সন্তান থাকা সত্ত্বেও তাঁর দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কেউ। ফলে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচেই এখন আশ্রয় নিতে হচ্ছে এই বৃদ্ধকে।

শামসুল হক মোল্লার বাড়ি কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামে। তিনি ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে। তাঁর পরিবারে রয়েছেন দুই ছেলে ও চার মেয়ে। বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায় ফেরিওয়ালা, আর ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার। চার মেয়ের মধ্যে মায়া, সাবিনা ও সালমা বিবাহিত। অন্য মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে নিজের জমি বিক্রি করে পবিত্র হজ পালন করেন শামসুল হক। এরপর অবশিষ্ট সম্পত্তিও সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন তিনি। কিন্তু স্ত্রী মারা যাওয়ার পর বার্ধক্যে এসে নিজের সন্তানদের কাছেই যেন অনাকাঙ্ক্ষিত হয়ে পড়েছেন তিনি। ছোট মেয়ে কাজুলী ছাড়া অন্য পাঁচ সন্তানের কেউই বর্তমানে তাঁর দায়িত্ব নিতে চাইছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি কয়েক দিন বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন শামসুল হক। মঙ্গলবার সকালে মায়া তাঁকে দুই ছেলের বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে আশ্রয় মেলেনি বৃদ্ধ বাবার। অভিযোগ রয়েছে, দুই ছেলে ও তাঁদের স্ত্রীরা মিলে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে থাকতে বাধ্য হন তিনি।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সন্তানদের এমন আচরণ নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

বাবাকে নিজের কাছে রাখতে না পারার কারণ হিসেবে মায়া বেগম জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী অসুস্থ। পাশাপাশি শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলীও তাঁর বাড়িতে থাকেন। এ অবস্থায় বৃদ্ধ বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব নেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে মেজ মেয়ে সাবিনা বেগমের বক্তব্য, বাবার কাছ থেকে জমি বিক্রির অর্থ হিসেবে চার বোন প্রত্যেকে চার লাখ টাকা করে পেয়েছেন। আর দুই ভাই নগদ অর্থের পাশাপাশি আট কাঠা করে জমি পেয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব শুধু মেয়েদের ওপর বর্তাবে কেন, সে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দুই ছেলে আজিজুল মোল্লা ও রেয়াজুল মোল্লার বাড়িতে যাওয়া হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের স্ত্রীরাও এ নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক নারী জানান, শামসুল হকের সম্পত্তি সন্তানদের নামে ভাগ করে দেওয়ার পরও তাঁকে এভাবে অসহায় অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। তাঁর মতে, সম্পত্তি সন্তানদের হাতে তুলে দেওয়ার পর বাবার প্রতি এমন অবহেলা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এদিকে নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বৃদ্ধ শামসুল হক। তিনি জানান, জীবনের দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে সন্তানদের বড় করেছেন। অথচ জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তাঁদের কাছেই নিজের জায়গা হচ্ছে না। এখন কোথায় যাবেন, কীভাবে দিন কাটাবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি সম্পর্কে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। সন্তানরা যদি বাবার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন’ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


জমি-সম্পত্তি ভাগ করে দেওয়ার পরও ঠাঁই হয়নি ৯৫ বছরের বৃদ্ধের, গাছতলায় কাটছে দিন

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

জমি-সম্পত্তি ভাগ করে দেওয়ার পরও ঠাঁই হয়নি ৯৫ বছরের বৃদ্ধের, গাছতলায় কাটছে দিন


গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়ার পর শেষ বয়সে এসে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ৯৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লা। ছয় সন্তান থাকা সত্ত্বেও তাঁর দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কেউ। ফলে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচেই এখন আশ্রয় নিতে হচ্ছে এই বৃদ্ধকে।


শামসুল হক মোল্লার বাড়ি কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামে। তিনি ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে। তাঁর পরিবারে রয়েছেন দুই ছেলে ও চার মেয়ে। বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায় ফেরিওয়ালা, আর ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার। চার মেয়ের মধ্যে মায়া, সাবিনা ও সালমা বিবাহিত। অন্য মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে নিজের জমি বিক্রি করে পবিত্র হজ পালন করেন শামসুল হক। এরপর অবশিষ্ট সম্পত্তিও সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন তিনি। কিন্তু স্ত্রী মারা যাওয়ার পর বার্ধক্যে এসে নিজের সন্তানদের কাছেই যেন অনাকাঙ্ক্ষিত হয়ে পড়েছেন তিনি। ছোট মেয়ে কাজুলী ছাড়া অন্য পাঁচ সন্তানের কেউই বর্তমানে তাঁর দায়িত্ব নিতে চাইছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।


সম্প্রতি কয়েক দিন বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন শামসুল হক। মঙ্গলবার সকালে মায়া তাঁকে দুই ছেলের বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে আশ্রয় মেলেনি বৃদ্ধ বাবার। অভিযোগ রয়েছে, দুই ছেলে ও তাঁদের স্ত্রীরা মিলে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে থাকতে বাধ্য হন তিনি।


এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সন্তানদের এমন আচরণ নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা।


বাবাকে নিজের কাছে রাখতে না পারার কারণ হিসেবে মায়া বেগম জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী অসুস্থ। পাশাপাশি শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলীও তাঁর বাড়িতে থাকেন। এ অবস্থায় বৃদ্ধ বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব নেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।


অন্যদিকে মেজ মেয়ে সাবিনা বেগমের বক্তব্য, বাবার কাছ থেকে জমি বিক্রির অর্থ হিসেবে চার বোন প্রত্যেকে চার লাখ টাকা করে পেয়েছেন। আর দুই ভাই নগদ অর্থের পাশাপাশি আট কাঠা করে জমি পেয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব শুধু মেয়েদের ওপর বর্তাবে কেন, সে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।


এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দুই ছেলে আজিজুল মোল্লা ও রেয়াজুল মোল্লার বাড়িতে যাওয়া হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের স্ত্রীরাও এ নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক নারী জানান, শামসুল হকের সম্পত্তি সন্তানদের নামে ভাগ করে দেওয়ার পরও তাঁকে এভাবে অসহায় অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। তাঁর মতে, সম্পত্তি সন্তানদের হাতে তুলে দেওয়ার পর বাবার প্রতি এমন অবহেলা অত্যন্ত দুঃখজনক।


এদিকে নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বৃদ্ধ শামসুল হক। তিনি জানান, জীবনের দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে সন্তানদের বড় করেছেন। অথচ জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তাঁদের কাছেই নিজের জায়গা হচ্ছে না। এখন কোথায় যাবেন, কীভাবে দিন কাটাবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।


ঘটনাটি সম্পর্কে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। সন্তানরা যদি বাবার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন’ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত