রোববার, ১৭ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

জাতীয়

চার মাসে পাঁচ ধরনের অপরাধে ১৩ হাজার মামলা, প্রতিদিন গড়ে ১১০

চার মাসে পাঁচ ধরনের অপরাধে ১৩ হাজার মামলা, প্রতিদিন গড়ে ১১০
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশে খুন, অপহরণ, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি এবং নারী-শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এসব ঘটনায় সারা দেশে মোট ১৩ হাজার ২২১টি মামলা হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে তিন হাজার ৩০৫টি এবং প্রতিদিন প্রায় ১১০টি মামলা দায়ের হয়েছে। একই সময়ে খুন হয়েছেন এক হাজার ১৪২ জন।

পুলিশ সদর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, জোরপূর্বক অর্থ আদায়, আর্থিক অস্থিরতা, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের ঘাটতির কারণে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি এবং অনেক ঘটনায় মূল আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।

গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করা হয়। আলোচিত এ ঘটনায় এখনো জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের একটি “ছকের ভেতর” আনতে সক্ষম হয়েছেন।

মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, টিটন হত্যার মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তিনি জানান, খুনিদের মোটরসাইকেলে রায়েরবাজার পর্যন্ত যাওয়ার তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে তদন্ত এগিয়ে চলছে।

এদিকে শুক্রবার বরিশাল নগরে বাবু শিকদার নামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে ১৩ মে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পুকুরপাড়ে পুঁতে রাখা মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া ৮ মে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাও দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, টহল জোরদার, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তবে সংঘবদ্ধ ও নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবেলায় সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

রাজধানীতে ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণের মতো ঘটনা নিয়ন্ত্রণে থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন, আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হচ্ছেন। এ কারণে নাগরিক সমাজকে পুলিশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশ সদর দপ্তরের মাসিক অপরাধ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে হত্যা মামলার সংখ্যা ছিল এক হাজার ১৪২টি। এছাড়া দস্যুতার ঘটনায় ৫৯১টি, ডাকাতির ঘটনায় ১৮৪টি, চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় চার হাজার ৯৯টি, অপহরণের ঘটনায় ৩৪৭টি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় পাঁচ হাজার ৯৯৮টি মামলা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাই সবচেয়ে বেশি। এ ধরনের ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ৫০টির বেশি মামলা হয়েছে। অন্যদিকে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ৩৪টি মামলা দায়ের হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর দেশজুড়ে মোট এক লাখ ৮১ হাজার ৭৩৭টি মামলা হয়েছিল। সে হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে মামলা ছিল ১৫ হাজার ১৪৫টি।

টাঙ্গাইলের মাওলানা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. উমর ফারুক বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের তুলনায় বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। তার মতে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে যেভাবে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার প্রয়োজন ছিল, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে অপরাধীরা আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে।

চেকপোস্ট

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


চার মাসে পাঁচ ধরনের অপরাধে ১৩ হাজার মামলা, প্রতিদিন গড়ে ১১০

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশে খুন, অপহরণ, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি এবং নারী-শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এসব ঘটনায় সারা দেশে মোট ১৩ হাজার ২২১টি মামলা হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে তিন হাজার ৩০৫টি এবং প্রতিদিন প্রায় ১১০টি মামলা দায়ের হয়েছে। একই সময়ে খুন হয়েছেন এক হাজার ১৪২ জন।

পুলিশ সদর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, জোরপূর্বক অর্থ আদায়, আর্থিক অস্থিরতা, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের ঘাটতির কারণে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি এবং অনেক ঘটনায় মূল আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।

গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করা হয়। আলোচিত এ ঘটনায় এখনো জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের একটি “ছকের ভেতর” আনতে সক্ষম হয়েছেন।

মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, টিটন হত্যার মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তিনি জানান, খুনিদের মোটরসাইকেলে রায়েরবাজার পর্যন্ত যাওয়ার তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে তদন্ত এগিয়ে চলছে।

এদিকে শুক্রবার বরিশাল নগরে বাবু শিকদার নামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে ১৩ মে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পুকুরপাড়ে পুঁতে রাখা মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া ৮ মে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাও দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, টহল জোরদার, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তবে সংঘবদ্ধ ও নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবেলায় সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

রাজধানীতে ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণের মতো ঘটনা নিয়ন্ত্রণে থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন, আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হচ্ছেন। এ কারণে নাগরিক সমাজকে পুলিশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশ সদর দপ্তরের মাসিক অপরাধ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে হত্যা মামলার সংখ্যা ছিল এক হাজার ১৪২টি। এছাড়া দস্যুতার ঘটনায় ৫৯১টি, ডাকাতির ঘটনায় ১৮৪টি, চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় চার হাজার ৯৯টি, অপহরণের ঘটনায় ৩৪৭টি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় পাঁচ হাজার ৯৯৮টি মামলা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাই সবচেয়ে বেশি। এ ধরনের ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ৫০টির বেশি মামলা হয়েছে। অন্যদিকে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ৩৪টি মামলা দায়ের হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর দেশজুড়ে মোট এক লাখ ৮১ হাজার ৭৩৭টি মামলা হয়েছিল। সে হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে মামলা ছিল ১৫ হাজার ১৪৫টি।

টাঙ্গাইলের মাওলানা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. উমর ফারুক বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের তুলনায় বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। তার মতে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে যেভাবে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার প্রয়োজন ছিল, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে অপরাধীরা আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত