ঘুমের সময় মুখ হাঁ করে শ্বাস নেওয়াকে অনেকেই স্বাভাবিক বিষয় মনে করেন। বিশেষ করে নাক বন্ধ থাকা, সর্দি বা অ্যালার্জির সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া সহজ মনে হতে পারে। তবে নিয়মিতভাবে রাতে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া সবসময় গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। তবে এটি অনেক সময় নাক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে না পারার ইঙ্গিত হতে পারে। নাক বন্ধ থাকা, অ্যালার্জি, নাকের হাড় বাঁকা, নাকের পলিপ, টনসিল বা অ্যাডিনয়েড বড় হওয়া এবং স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যার কারণে এমন হতে পারে।
নাক শুধু বাতাস প্রবেশের পথ নয়, এটি বাতাসকে পরিশোধন, আর্দ্র ও উষ্ণ করার কাজ করে। নাকের ভেতরের সূক্ষ্ম লোম ও মিউকাস ধুলো, জীবাণু ও ক্ষুদ্র কণাকে আটকে রাখতে সাহায্য করে।
এ কারণে স্বাভাবিক অবস্থায় নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়াই শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারী।
ঘুমের সময় দীর্ঘক্ষণ মুখ খোলা থাকলে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে। এতে লালা কমে গিয়ে মুখের দুর্গন্ধ, দাঁতে ক্যাভিটি ও মাড়ির সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ শুকনো লাগা, গলা খসখসে হওয়া বা মুখে দুর্গন্ধ থাকলে রাতে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার বিষয়টি খেয়াল করা দরকার।
মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া এবং নাক ডাকার মধ্যে সম্পর্ক থাকতে পারে। নাক বন্ধ থাকা বা শ্বাসনালিতে বাধা থাকলে অনেকেই ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে শুরু করেন। একই কারণে নাক ডাকার সমস্যাও বাড়তে পারে।
তবে শুধু মুখ দিয়ে শ্বাস নিলেই স্লিপ অ্যাপনিয়া রয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
কিছু ক্ষেত্রে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া স্লিপ অ্যাপনিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। এই সমস্যায় ঘুমের সময় শ্বাসনালি বারবার বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।
স্লিপ অ্যাপনিয়ার সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
শিশুরা নিয়মিত মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। বড় টনসিল, অ্যাডিনয়েড, অ্যালার্জি বা নাক বন্ধ থাকার কারণে এমন হতে পারে।
দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে শিশুর ঘুম, মনোযোগ ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।
মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার পেছনে থাকতে পারে—
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুমের সময় মুখে টেপ লাগানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য মুখ বন্ধ রেখে নাক দিয়ে শ্বাস নিতে উৎসাহ দেওয়া।
তবে সবার জন্য এটি নিরাপদ নয়। নাক বন্ধ থাকা, নাক ডাকা বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা থাকলে মুখে টেপ লাগানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তাই সমস্যার কারণ না জেনে নিজের ইচ্ছায় এমন পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত নয়।
নিচের লক্ষণগুলো নিয়মিত থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো
ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া সবসময় আতঙ্কের বিষয় নয়। তবে এটি যদি নিয়মিত হয়, তাহলে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সঠিক কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সমস্যা কমানো সম্ভব।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঘুমের সময় মুখ হাঁ করে শ্বাস নেওয়াকে অনেকেই স্বাভাবিক বিষয় মনে করেন। বিশেষ করে নাক বন্ধ থাকা, সর্দি বা অ্যালার্জির সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া সহজ মনে হতে পারে। তবে নিয়মিতভাবে রাতে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া সবসময় গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। তবে এটি অনেক সময় নাক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে না পারার ইঙ্গিত হতে পারে। নাক বন্ধ থাকা, অ্যালার্জি, নাকের হাড় বাঁকা, নাকের পলিপ, টনসিল বা অ্যাডিনয়েড বড় হওয়া এবং স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যার কারণে এমন হতে পারে।
নাক শুধু বাতাস প্রবেশের পথ নয়, এটি বাতাসকে পরিশোধন, আর্দ্র ও উষ্ণ করার কাজ করে। নাকের ভেতরের সূক্ষ্ম লোম ও মিউকাস ধুলো, জীবাণু ও ক্ষুদ্র কণাকে আটকে রাখতে সাহায্য করে।
এ কারণে স্বাভাবিক অবস্থায় নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়াই শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারী।
ঘুমের সময় দীর্ঘক্ষণ মুখ খোলা থাকলে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে। এতে লালা কমে গিয়ে মুখের দুর্গন্ধ, দাঁতে ক্যাভিটি ও মাড়ির সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ শুকনো লাগা, গলা খসখসে হওয়া বা মুখে দুর্গন্ধ থাকলে রাতে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার বিষয়টি খেয়াল করা দরকার।
মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া এবং নাক ডাকার মধ্যে সম্পর্ক থাকতে পারে। নাক বন্ধ থাকা বা শ্বাসনালিতে বাধা থাকলে অনেকেই ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে শুরু করেন। একই কারণে নাক ডাকার সমস্যাও বাড়তে পারে।
তবে শুধু মুখ দিয়ে শ্বাস নিলেই স্লিপ অ্যাপনিয়া রয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
কিছু ক্ষেত্রে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া স্লিপ অ্যাপনিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। এই সমস্যায় ঘুমের সময় শ্বাসনালি বারবার বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।
স্লিপ অ্যাপনিয়ার সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
শিশুরা নিয়মিত মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। বড় টনসিল, অ্যাডিনয়েড, অ্যালার্জি বা নাক বন্ধ থাকার কারণে এমন হতে পারে।
দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে শিশুর ঘুম, মনোযোগ ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।
মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার পেছনে থাকতে পারে—
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুমের সময় মুখে টেপ লাগানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য মুখ বন্ধ রেখে নাক দিয়ে শ্বাস নিতে উৎসাহ দেওয়া।
তবে সবার জন্য এটি নিরাপদ নয়। নাক বন্ধ থাকা, নাক ডাকা বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা থাকলে মুখে টেপ লাগানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তাই সমস্যার কারণ না জেনে নিজের ইচ্ছায় এমন পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত নয়।
নিচের লক্ষণগুলো নিয়মিত থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো
ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া সবসময় আতঙ্কের বিষয় নয়। তবে এটি যদি নিয়মিত হয়, তাহলে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সঠিক কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সমস্যা কমানো সম্ভব।
