মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

একাধিক আইনে মামলা দায়েরের নির্দেশ

গোপালগঞ্জে অবৈধ মাটি কাটায় প্রশাসনের অভিযান, ভেকু জব্দ; মামলার নির্দেশ

গোপালগঞ্জে অবৈধ মাটি কাটায় প্রশাসনের অভিযান, ভেকু জব্দ; মামলার নির্দেশ
ছবি : চেকপোস্ট

গোপালগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন। অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক সড়কের করপাড়া ও বৌলতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কোনো অনুমতি ছাড়াই মাটি কেটে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করে আসছিল। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত ও সম্প্রসারিত আঞ্চলিক সড়ক ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষিজমিরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল।

বিষয়টি নিয়ে পরিবেশবাদী, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। পরে পরিবেশবাদী ও গণমাধ্যমকর্মী কে এম সাইফুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ "Press Saifur"-এ এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে সদর উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রুহুল আমিন শরিফ।

অভিযান চলাকালে দেখা যায়, অনুমোদন ছাড়া পুকুর খননের মাধ্যমে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং মহাসড়কের পাশ থেকে অবৈধভাবে মাটি অপসারণ করে তা বিক্রি করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বড় ভেকু মেশিন জব্দ করা হলেও প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

পরে জব্দ করা ভেকু মেশিনটি সাময়িকভাবে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়। একই সঙ্গে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০, মহাসড়ক আইন, ২০২১, দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া জব্দ করা মেশিনটি থানা হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি জমি দখল, অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন, কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং বাণিজ্যিকভাবে মাটি বিক্রির মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান চলবে। পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে আপস করবে না বলেও তারা জানান।

#গোপালগঞ্জ_সংবাদ #মোবাইলকোর্ট #অবৈধমাটিকাটা

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


গোপালগঞ্জে অবৈধ মাটি কাটায় প্রশাসনের অভিযান, ভেকু জব্দ; মামলার নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন। অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক সড়কের করপাড়া ও বৌলতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কোনো অনুমতি ছাড়াই মাটি কেটে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করে আসছিল। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত ও সম্প্রসারিত আঞ্চলিক সড়ক ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষিজমিরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল।

বিষয়টি নিয়ে পরিবেশবাদী, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। পরে পরিবেশবাদী ও গণমাধ্যমকর্মী কে এম সাইফুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ "Press Saifur"-এ এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে সদর উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রুহুল আমিন শরিফ।

অভিযান চলাকালে দেখা যায়, অনুমোদন ছাড়া পুকুর খননের মাধ্যমে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং মহাসড়কের পাশ থেকে অবৈধভাবে মাটি অপসারণ করে তা বিক্রি করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বড় ভেকু মেশিন জব্দ করা হলেও প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

পরে জব্দ করা ভেকু মেশিনটি সাময়িকভাবে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়। একই সঙ্গে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০, মহাসড়ক আইন, ২০২১, দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া জব্দ করা মেশিনটি থানা হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি জমি দখল, অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন, কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং বাণিজ্যিকভাবে মাটি বিক্রির মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান চলবে। পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে আপস করবে না বলেও তারা জানান।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত