"জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এ সময় জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা ও মহানগর ইউনিট, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল, কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক দলের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এবং নগরীর বসুপাড়া কবরস্থানে জুলাই শহীদ শেখ সাকিব রায়হানের কবর জিয়ারত করা হয়।
এ উপলক্ষে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধারা দেশকে গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় থেকেই তারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে অন্যায় বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। বক্তব্য রাখেন রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং জুলাই শহীদ শেখ সাকিব রায়হানের বাবা শেখ আজিজুর রহমান ও মা নুর নাহার। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি উপলক্ষে নগরীর শিববাড়ি মোড়, শহীদ হাদিস পার্ক, ময়লাপোতা মোড়, জোড়াগেট, গল্লামারী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রূপসা মোড়, নতুন রাস্তা ও খালিশপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এছাড়া বাদ জোহর মসজিদে বিশেষ দোয়া, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ, আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল এবং বিকেলে জেলা স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা হয়।
দিনব্যাপী সরকারি-বেসরকারি জাদুঘর ও বিনোদন কেন্দ্র শিশু ও সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে শহরজুড়ে জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন, আলোকসজ্জা ও গ্রাফিতির মাধ্যমে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। জেলার সব উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
"জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এ সময় জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা ও মহানগর ইউনিট, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল, কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক দলের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এবং নগরীর বসুপাড়া কবরস্থানে জুলাই শহীদ শেখ সাকিব রায়হানের কবর জিয়ারত করা হয়।
এ উপলক্ষে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধারা দেশকে গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় থেকেই তারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে অন্যায় বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। বক্তব্য রাখেন রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং জুলাই শহীদ শেখ সাকিব রায়হানের বাবা শেখ আজিজুর রহমান ও মা নুর নাহার। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি উপলক্ষে নগরীর শিববাড়ি মোড়, শহীদ হাদিস পার্ক, ময়লাপোতা মোড়, জোড়াগেট, গল্লামারী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রূপসা মোড়, নতুন রাস্তা ও খালিশপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এছাড়া বাদ জোহর মসজিদে বিশেষ দোয়া, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ, আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল এবং বিকেলে জেলা স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা হয়।
দিনব্যাপী সরকারি-বেসরকারি জাদুঘর ও বিনোদন কেন্দ্র শিশু ও সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে শহরজুড়ে জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন, আলোকসজ্জা ও গ্রাফিতির মাধ্যমে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। জেলার সব উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
