শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

শিক্ষা

কুবির প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে

কুবির প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে
ফাইল ছবি।

‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এস্টেট শাখার কর্মকর্তা খলিলুর রহমানকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা শাহজালাল ওরফে আলালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

‎

‎বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার চাঙ্গিনী দক্ষিণ মোড়ে হাফেজ মনির হোসেনের হার্ডওয়্যার দোকানে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। 

‎

‎অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বাদী খলিলুর রহমান রাত ৭.৪৫ মিনিটের দিকে চাঙ্গিনী দক্ষিণ মোড় এলাকায় বিবাদীর বড় ভাই হাফেজ মো: মনির হোসেন এর হার্ডওয়্যার দোকানে বসেন। হঠাৎ বাদীর মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। কল ধরা মাত্রই অকথ্য ভাষায় মা বাবা তুলে গালিগালাজ করতে থাকে। তখন বাদী পরিচয় জানতে চাইলে এক পর্যায়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। কিন্তু বিবাদীর সাথে বাদীর কোন পূর্ব শত্রুতাও নেই। তাই কল কাটার পর নাম্বারটি পাশের জন বি. এ. ডি. সি. সহকারী পরিচালক রেজাউল করিমকে দেখালে যুবলীগের নেতা শাহজালালের নাম্বার বলে শনাক্ত করেন। ক্ষণিক পরে বিবাদী এসে মোটা লাঠি হাতে নিয়ে বাদীকে এলোপাতারি পিটাতে থাকে।পাশের লোকজন তা ভিডিও করে। যা, সংরক্ষিত আছে। এক পর্যায়ে বিবাদী বাদীকে একেবারে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

‎

‎জানা যায়, অভিযুক্ত শাহজালাল আলাল ২৩ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতা। শাহজালাল আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের অন্যতম সহযোগী। তিনি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এলাকাধীন কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকার  সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ বাহিনীর গ্যাং লিডার। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি বিশ্বরোডে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা মহাসড়ক অবরোধ করলে সেখানে শাহজালালের নেতৃত্বে ককটেল ফাটিয়ে ত্রাসের সৃষ্টি করে এবং ব্যাপকগুলি বর্ষণ করে। হাজি বাহারের নির্দেশে শাহজালাল এ হামলা চালায়। এই ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানাধীন দায়েরকৃত মামলা নম্বর ৬৮২৪/ তারিখ ০৮/০৯/২০২৪। 

‎

‎ভুক্তভোগী খলিলুর রহমান বলেন, “গত ২৪ সেপ্টেম্বর সমকাল প্রত্রিকায় মনির হোসেনের ছেলেসহ এলাকার আরো কয়েকজন ছেলেকে নিয়ে কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসী পরিচয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ভুল নিউজের প্রতিবাদে এলাকাবাসী সামাজিক ভাবে একত্রিত হন। সেখানে আমিও উপস্থিত  ছিলাম। হঠাৎ শাহজালাল আমাকে কল করে গালিগালাজ করে এবং কসম করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে এসে সে আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করে। এতে আমি গুরুতর ব্যথ্যা পাই এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেই। পরবর্তীতে নিরাপত্তাহীনতার কথা চিন্তা করে থানায় অভিযোগ করি।”

‎

‎তিনি আরও বলেন, "আমি যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সেহেতু আমি নিজের নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটা লিখিত অভিযোগ জমা দেই।" 

‎

‎মো: শাহজালাল আলাল বলেন, "অপ্রতিম হত্যাকান্ডে কিশোর গ্যাং নিয়ে মিডিয়ায় একটি ভুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷ সেটার প্রতিবাদে একটা সংবাদ সম্মেলন করে এলাকাবাসী। সেখানে স্ক্রিপ্ট লিখে খলিল। স্ক্রিপ্টে সে 'ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা, কুমিল্লা সন্ত্রাসীদের গড ফাদার আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার। এরকম শব্দগুলা যখন ব্যবহার করছে তখন আমি বলেছি এই নামগুলা তো এখানে আসা ঠিক না, দরকারও নাই, আসলে আমিও আওয়ামীপন্থী লোক।"

‎

‎তিনি আরও বলেন, "ঘটনা একটা কিন্তু তিনি পূর্বের আওয়ামী লীগের বিষয়গুলো এখানে নিয়ে আসে। পরে সে যখন আমার ভাইয়ের দোকানে আসে তখন আমি তার সাথে একটু চিল্লাচিল্লি করি, আমার মুখের ভাষাও কিছুটা অশ্রাভ্য, বাজেই ছিলো, এবং আমি তাকে লাঠি দিয়ে মারতেও গিয়েছিলাম।" 

‎

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, "খলিলের কাছ থেকে আমরা একটা অভিযোগপত্র পেয়েছি। তিনি থানায়ও জিডি করেছেন৷ আমরা তাঁর নিরাপত্তার বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলবো।" 

‎

‎এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম বলেন, “গতকাল আমরা বাদীর অভিযোগপত্র গ্রহণ করি। পরে বাদীকে সঙ্গে নিয়ে বিবাদীকে খোঁজতে অভিযান পরিচালনা করি, কিন্তু বিবাদীকে পাওয়া যায়নি। আমরা বিবাদীকে খোঁজতে অভিযান অভ্যাহত রাখব এবং আইনের কাছে তাকে সোপর্দ করবো।”

চেকপোস্ট

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


কুবির প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এস্টেট শাখার কর্মকর্তা খলিলুর রহমানকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা শাহজালাল ওরফে আলালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

‎

‎বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার চাঙ্গিনী দক্ষিণ মোড়ে হাফেজ মনির হোসেনের হার্ডওয়্যার দোকানে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। 

‎

‎অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বাদী খলিলুর রহমান রাত ৭.৪৫ মিনিটের দিকে চাঙ্গিনী দক্ষিণ মোড় এলাকায় বিবাদীর বড় ভাই হাফেজ মো: মনির হোসেন এর হার্ডওয়্যার দোকানে বসেন। হঠাৎ বাদীর মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। কল ধরা মাত্রই অকথ্য ভাষায় মা বাবা তুলে গালিগালাজ করতে থাকে। তখন বাদী পরিচয় জানতে চাইলে এক পর্যায়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। কিন্তু বিবাদীর সাথে বাদীর কোন পূর্ব শত্রুতাও নেই। তাই কল কাটার পর নাম্বারটি পাশের জন বি. এ. ডি. সি. সহকারী পরিচালক রেজাউল করিমকে দেখালে যুবলীগের নেতা শাহজালালের নাম্বার বলে শনাক্ত করেন। ক্ষণিক পরে বিবাদী এসে মোটা লাঠি হাতে নিয়ে বাদীকে এলোপাতারি পিটাতে থাকে।পাশের লোকজন তা ভিডিও করে। যা, সংরক্ষিত আছে। এক পর্যায়ে বিবাদী বাদীকে একেবারে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

‎

‎জানা যায়, অভিযুক্ত শাহজালাল আলাল ২৩ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতা। শাহজালাল আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের অন্যতম সহযোগী। তিনি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এলাকাধীন কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকার  সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ বাহিনীর গ্যাং লিডার। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি বিশ্বরোডে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা মহাসড়ক অবরোধ করলে সেখানে শাহজালালের নেতৃত্বে ককটেল ফাটিয়ে ত্রাসের সৃষ্টি করে এবং ব্যাপকগুলি বর্ষণ করে। হাজি বাহারের নির্দেশে শাহজালাল এ হামলা চালায়। এই ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানাধীন দায়েরকৃত মামলা নম্বর ৬৮২৪/ তারিখ ০৮/০৯/২০২৪। 

‎

‎ভুক্তভোগী খলিলুর রহমান বলেন, “গত ২৪ সেপ্টেম্বর সমকাল প্রত্রিকায় মনির হোসেনের ছেলেসহ এলাকার আরো কয়েকজন ছেলেকে নিয়ে কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসী পরিচয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ভুল নিউজের প্রতিবাদে এলাকাবাসী সামাজিক ভাবে একত্রিত হন। সেখানে আমিও উপস্থিত  ছিলাম। হঠাৎ শাহজালাল আমাকে কল করে গালিগালাজ করে এবং কসম করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে এসে সে আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করে। এতে আমি গুরুতর ব্যথ্যা পাই এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেই। পরবর্তীতে নিরাপত্তাহীনতার কথা চিন্তা করে থানায় অভিযোগ করি।”

‎

‎তিনি আরও বলেন, "আমি যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সেহেতু আমি নিজের নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটা লিখিত অভিযোগ জমা দেই।" 

‎

‎মো: শাহজালাল আলাল বলেন, "অপ্রতিম হত্যাকান্ডে কিশোর গ্যাং নিয়ে মিডিয়ায় একটি ভুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷ সেটার প্রতিবাদে একটা সংবাদ সম্মেলন করে এলাকাবাসী। সেখানে স্ক্রিপ্ট লিখে খলিল। স্ক্রিপ্টে সে 'ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা, কুমিল্লা সন্ত্রাসীদের গড ফাদার আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার। এরকম শব্দগুলা যখন ব্যবহার করছে তখন আমি বলেছি এই নামগুলা তো এখানে আসা ঠিক না, দরকারও নাই, আসলে আমিও আওয়ামীপন্থী লোক।"

‎

‎তিনি আরও বলেন, "ঘটনা একটা কিন্তু তিনি পূর্বের আওয়ামী লীগের বিষয়গুলো এখানে নিয়ে আসে। পরে সে যখন আমার ভাইয়ের দোকানে আসে তখন আমি তার সাথে একটু চিল্লাচিল্লি করি, আমার মুখের ভাষাও কিছুটা অশ্রাভ্য, বাজেই ছিলো, এবং আমি তাকে লাঠি দিয়ে মারতেও গিয়েছিলাম।" 

‎

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, "খলিলের কাছ থেকে আমরা একটা অভিযোগপত্র পেয়েছি। তিনি থানায়ও জিডি করেছেন৷ আমরা তাঁর নিরাপত্তার বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলবো।" 

‎

‎এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম বলেন, “গতকাল আমরা বাদীর অভিযোগপত্র গ্রহণ করি। পরে বাদীকে সঙ্গে নিয়ে বিবাদীকে খোঁজতে অভিযান পরিচালনা করি, কিন্তু বিবাদীকে পাওয়া যায়নি। আমরা বিবাদীকে খোঁজতে অভিযান অভ্যাহত রাখব এবং আইনের কাছে তাকে সোপর্দ করবো।”


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত