শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

ইসলাম

বর্ণনা ইসলামী ইতিহাস

কাবা ধ্বংসে আবরাহার অভিযান, ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির আক্রমণ

কাবা ধ্বংসে আবরাহার অভিযান, ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির আক্রমণ
সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত কাবাঘর ঘিরে নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা। ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ইতিহাসে ‘আসহাবুল ফিল’ বা হস্তীবাহিনীর ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ইয়েমেনের শাসক আবরাহা বিশাল হস্তীবাহিনী নিয়ে মক্কার পবিত্র কাবাঘর ধ্বংস করতে অগ্রসর হন। কিন্তু পবিত্র কোরআনের সুরা ফিলে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়ে সেই বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। পাখিগুলো তাদের ওপর পাথরখণ্ড নিক্ষেপ করে এবং বাহিনীকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেওয়া হয়।

কেন কাবাঘর ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন আবরাহা?

ইসলামী ইতিহাস ও তাফসিরের বিভিন্ন বর্ণনায় বলা হয়েছে, ইয়েমেনের সানআ শহরে আবরাহা একটি জাঁকজমকপূর্ণ গির্জা নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, আরবসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ যেন মক্কার কাবাঘরের পরিবর্তে ওই গির্জায় আসেন।

কিন্তু তাঁর সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। মক্কার কাবাঘরের প্রতি মানুষের আকর্ষণ ও ধর্মীয় গুরুত্ব অটুট থাকায় আবরাহা ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে তিনি কাবাঘর ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেন এবং হাতিসহ বিশাল বাহিনী নিয়ে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

আবদুল মুত্তালিবের সঙ্গে আবরাহার সাক্ষাৎ

বর্ণনা অনুযায়ী, মক্কার পথে আবরাহার বাহিনী কুরাইশদের উট আটক করে। সেগুলোর মধ্যে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দাদা আবদুল মুত্তালিবেরও প্রায় ২০০টি উট ছিল।

আবদুল মুত্তালিব আবরাহার সঙ্গে দেখা করে নিজের উটগুলো ফেরত চান। এতে আবরাহা বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করেন, কাবাঘর ধ্বংসের বিষয়ে তিনি কিছু না বলে উট ফেরত চাইলেন কেন।

জবাবে আবদুল মুত্তালিব বলেন, উটের মালিক তিনি, তাই উটের ব্যাপারে তাঁর দায়িত্ব রয়েছে। আর কাবাঘর আল্লাহর ঘর, এর রক্ষক আল্লাহ নিজেই।

প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, উটগুলো ফেরত পাওয়ার পর আবদুল মুত্তালিব মক্কাবাসীকে নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে যান। যাওয়ার আগে তাঁরা কাবাঘরের কাছে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন।

ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির আগমন

ইসলামী বর্ণনা অনুসারে, আবরাহার বাহিনী মক্কার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি তাদের ওপর উপস্থিত হয়। পাখিগুলো পাথরখণ্ড নিক্ষেপ করে, যার ফলে বাহিনী ধ্বংস হয়ে যায়।

পবিত্র কোরআনের সুরা ফিলে এ ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ রয়েছে। আল্লাহ বলেন, তিনি কি হাতিওয়ালাদের কৌশল ব্যর্থ করে দেননি? তিনি তাদের বিরুদ্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়েছিলেন, যারা তাদের ওপর পোড়ামাটির পাথর নিক্ষেপ করেছিল। অতঃপর তিনি তাদের ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেন।

সূত্র: পবিত্র কোরআন, সুরা ফিল, আয়াত ১–৫।

আবরাহার পরিণতি নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা

তাফসির ও ইসলামী ইতিহাসের বিভিন্ন গ্রন্থে আবরাহার পরিণতি নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। কোনো কোনো বর্ণনায় বলা হয়েছে, তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান। তবে এসব বিবরণের ক্ষেত্রে গ্রন্থভেদে বর্ণনার পার্থক্য রয়েছে।

ইবনে কাসিরের তাফসিরসহ বিভিন্ন ইসলামী গ্রন্থে পাখিগুলোর রং, আকৃতি ও পাথর নিক্ষেপের বিবরণও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অতিরিক্ত বিবরণকে মূল কোরআনিক বক্তব্য থেকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

‘আসহাবুল ফিল’ ও মহানবী (সা.)-এর জন্ম

কাবাঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আবরাহার হস্তীবাহিনীর অভিযানের ঘটনাটি ইসলামী ঐতিহ্যে ‘আসহাবুল ফিল’ নামে পরিচিত। আরবের ইতিহাসে ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রচলিত ঐতিহাসিক মত অনুযায়ী, এ ঘটনার কাছাকাছি সময়েই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন।

সুরা ফিলের মূল শিক্ষা হলো অহংকার, অন্যায় ও শক্তির দম্ভের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং আল্লাহর ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রতি বিশ্বাস রাখা।

Image

#আসহাবুলফিল #সুরাফিল #কাবাঘর

চেকপোস্ট

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


কাবা ধ্বংসে আবরাহার অভিযান, ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির আক্রমণ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসলামী ইতিহাসে ‘আসহাবুল ফিল’ বা হস্তীবাহিনীর ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ইয়েমেনের শাসক আবরাহা বিশাল হস্তীবাহিনী নিয়ে মক্কার পবিত্র কাবাঘর ধ্বংস করতে অগ্রসর হন। কিন্তু পবিত্র কোরআনের সুরা ফিলে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়ে সেই বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। পাখিগুলো তাদের ওপর পাথরখণ্ড নিক্ষেপ করে এবং বাহিনীকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেওয়া হয়।

কেন কাবাঘর ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন আবরাহা?

ইসলামী ইতিহাস ও তাফসিরের বিভিন্ন বর্ণনায় বলা হয়েছে, ইয়েমেনের সানআ শহরে আবরাহা একটি জাঁকজমকপূর্ণ গির্জা নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, আরবসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ যেন মক্কার কাবাঘরের পরিবর্তে ওই গির্জায় আসেন।

কিন্তু তাঁর সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। মক্কার কাবাঘরের প্রতি মানুষের আকর্ষণ ও ধর্মীয় গুরুত্ব অটুট থাকায় আবরাহা ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে তিনি কাবাঘর ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেন এবং হাতিসহ বিশাল বাহিনী নিয়ে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

আবদুল মুত্তালিবের সঙ্গে আবরাহার সাক্ষাৎ

বর্ণনা অনুযায়ী, মক্কার পথে আবরাহার বাহিনী কুরাইশদের উট আটক করে। সেগুলোর মধ্যে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দাদা আবদুল মুত্তালিবেরও প্রায় ২০০টি উট ছিল।

আবদুল মুত্তালিব আবরাহার সঙ্গে দেখা করে নিজের উটগুলো ফেরত চান। এতে আবরাহা বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করেন, কাবাঘর ধ্বংসের বিষয়ে তিনি কিছু না বলে উট ফেরত চাইলেন কেন।

জবাবে আবদুল মুত্তালিব বলেন, উটের মালিক তিনি, তাই উটের ব্যাপারে তাঁর দায়িত্ব রয়েছে। আর কাবাঘর আল্লাহর ঘর, এর রক্ষক আল্লাহ নিজেই।

প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, উটগুলো ফেরত পাওয়ার পর আবদুল মুত্তালিব মক্কাবাসীকে নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে যান। যাওয়ার আগে তাঁরা কাবাঘরের কাছে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন।

ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির আগমন

ইসলামী বর্ণনা অনুসারে, আবরাহার বাহিনী মক্কার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি তাদের ওপর উপস্থিত হয়। পাখিগুলো পাথরখণ্ড নিক্ষেপ করে, যার ফলে বাহিনী ধ্বংস হয়ে যায়।

পবিত্র কোরআনের সুরা ফিলে এ ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ রয়েছে। আল্লাহ বলেন, তিনি কি হাতিওয়ালাদের কৌশল ব্যর্থ করে দেননি? তিনি তাদের বিরুদ্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়েছিলেন, যারা তাদের ওপর পোড়ামাটির পাথর নিক্ষেপ করেছিল। অতঃপর তিনি তাদের ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেন।

সূত্র: পবিত্র কোরআন, সুরা ফিল, আয়াত ১–৫।

আবরাহার পরিণতি নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা

তাফসির ও ইসলামী ইতিহাসের বিভিন্ন গ্রন্থে আবরাহার পরিণতি নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। কোনো কোনো বর্ণনায় বলা হয়েছে, তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান। তবে এসব বিবরণের ক্ষেত্রে গ্রন্থভেদে বর্ণনার পার্থক্য রয়েছে।

ইবনে কাসিরের তাফসিরসহ বিভিন্ন ইসলামী গ্রন্থে পাখিগুলোর রং, আকৃতি ও পাথর নিক্ষেপের বিবরণও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অতিরিক্ত বিবরণকে মূল কোরআনিক বক্তব্য থেকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

‘আসহাবুল ফিল’ ও মহানবী (সা.)-এর জন্ম

কাবাঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আবরাহার হস্তীবাহিনীর অভিযানের ঘটনাটি ইসলামী ঐতিহ্যে ‘আসহাবুল ফিল’ নামে পরিচিত। আরবের ইতিহাসে ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রচলিত ঐতিহাসিক মত অনুযায়ী, এ ঘটনার কাছাকাছি সময়েই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন।

সুরা ফিলের মূল শিক্ষা হলো অহংকার, অন্যায় ও শক্তির দম্ভের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং আল্লাহর ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রতি বিশ্বাস রাখা।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত