বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

উন্নয়নের আড়ালে বাড়ছে ক্ষোভ ও বেকারত্ব

কক্সবাজারে শিক্ষিত বেকার সংকট: এনজিও-হোটেলে বঞ্চিত স্থানীয়রা

কক্সবাজারে শিক্ষিত বেকার সংকট: এনজিও-হোটেলে বঞ্চিত স্থানীয়রা
ছবি: চেকপোস্ট

পর্যটন নগরী কক্সবাজার এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। মেগা প্রকল্প, পর্যটন শিল্পের বিস্তার এবং অসংখ্য এনজিওর কার্যক্রমে মুখর এই জেলা। তবে এই চাকচিক্যের আড়ালে চাপা পড়ে আছে হাজার হাজার শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ তরুণের দীর্ঘশ্বাস।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন এনজিওতে অন্তত এক থেকে দেড় হাজার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়োগের বড় অংশে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না। ফলে জেলার শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা।

স্থানীয়দের মতে, দাতা সংস্থা বা উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত অল্প কয়েকজন স্থানীয় কর্মকর্তা নিজের অবস্থান ধরে রাখতেই ব্যস্ত; নতুনদের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা বা উদ্যোগ নেই।

জেলায় একাধিক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য থাকলেও স্থানীয় কর্মসংস্থানের এই সংকট নিরসনে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। সচেতন মহলের দাবি, জনপ্রতিনিধিদের কঠোর নির্দেশনা ও তদারকি থাকলে এনজিওগুলোকে স্থানীয় জনবল নিয়োগে বাধ্য করা যেত। কিন্তু ‘লোকালাইজেশন’ নীতি এখনো কাগজেই সীমাবদ্ধ।

কক্সবাজারে প্রায় এক হাজার হোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৮০ শতাংশ কর্মী স্থানীয় হওয়ার কথা। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে বাইরের জেলার কর্মচারীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

একটি আধুনিক রেস্তোরাঁয় দেখা গেছে, সব কর্মচারী পার্বত্য অঞ্চল থেকে আসা, যেখানে মালিক ও গ্রাহকদের বড় অংশই স্থানীয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ।

সম্প্রতি কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হলেও স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিয়ে কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে। এতে শিক্ষিত সমাজের মধ্যে হতাশা আরও গভীর হয়েছে।

চাকরিপ্রত্যাশী মুরাদ হাসান বলেন, আমরা উচ্চশিক্ষিত, অভিজ্ঞ, তবু বেকার। প্রতিদিন হাজার হাজার পদে নিয়োগ হয়, কিন্তু আমাদের জন্য কোনো সুযোগ নেই। মনে হয়, নিজ জেলাতেই আমরা পরবাসী।

বিশিষ্ট নাগরিক ফলজুল কাদের চৌধুরী বলেন, স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই বৈষম্য অব্যাহত থাকলে সামাজিক ও পরিবেশগত সংকট তৈরি হতে পারে।

কক্সবাজারের শিক্ষিত যুবসমাজ আর আশ্বাস নয়, চায় বাস্তব পদক্ষেপ। স্থানীয়দের জন্য কোটা বা অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা না হলে এই ক্ষোভ ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

#কক্সবাজার #বেকারত্ব #চাকরিবঞ্চনা

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


কক্সবাজারে শিক্ষিত বেকার সংকট: এনজিও-হোটেলে বঞ্চিত স্থানীয়রা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

পর্যটন নগরী কক্সবাজার এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। মেগা প্রকল্প, পর্যটন শিল্পের বিস্তার এবং অসংখ্য এনজিওর কার্যক্রমে মুখর এই জেলা। তবে এই চাকচিক্যের আড়ালে চাপা পড়ে আছে হাজার হাজার শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ তরুণের দীর্ঘশ্বাস।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন এনজিওতে অন্তত এক থেকে দেড় হাজার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়োগের বড় অংশে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না। ফলে জেলার শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা।

স্থানীয়দের মতে, দাতা সংস্থা বা উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত অল্প কয়েকজন স্থানীয় কর্মকর্তা নিজের অবস্থান ধরে রাখতেই ব্যস্ত; নতুনদের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা বা উদ্যোগ নেই।

জেলায় একাধিক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য থাকলেও স্থানীয় কর্মসংস্থানের এই সংকট নিরসনে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। সচেতন মহলের দাবি, জনপ্রতিনিধিদের কঠোর নির্দেশনা ও তদারকি থাকলে এনজিওগুলোকে স্থানীয় জনবল নিয়োগে বাধ্য করা যেত। কিন্তু ‘লোকালাইজেশন’ নীতি এখনো কাগজেই সীমাবদ্ধ।

কক্সবাজারে প্রায় এক হাজার হোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৮০ শতাংশ কর্মী স্থানীয় হওয়ার কথা। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে বাইরের জেলার কর্মচারীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

একটি আধুনিক রেস্তোরাঁয় দেখা গেছে, সব কর্মচারী পার্বত্য অঞ্চল থেকে আসা, যেখানে মালিক ও গ্রাহকদের বড় অংশই স্থানীয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ।

সম্প্রতি কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হলেও স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিয়ে কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে। এতে শিক্ষিত সমাজের মধ্যে হতাশা আরও গভীর হয়েছে।

চাকরিপ্রত্যাশী মুরাদ হাসান বলেন, আমরা উচ্চশিক্ষিত, অভিজ্ঞ, তবু বেকার। প্রতিদিন হাজার হাজার পদে নিয়োগ হয়, কিন্তু আমাদের জন্য কোনো সুযোগ নেই। মনে হয়, নিজ জেলাতেই আমরা পরবাসী।

বিশিষ্ট নাগরিক ফলজুল কাদের চৌধুরী বলেন, স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই বৈষম্য অব্যাহত থাকলে সামাজিক ও পরিবেশগত সংকট তৈরি হতে পারে।

কক্সবাজারের শিক্ষিত যুবসমাজ আর আশ্বাস নয়, চায় বাস্তব পদক্ষেপ। স্থানীয়দের জন্য কোটা বা অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা না হলে এই ক্ষোভ ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত