শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

বৃষ্টির আশায় স্বস্তি খুঁজছেন উপকূলবাসী

কক্সবাজারে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন ২০ তারিখের পর বৃষ্টির আভাস

কক্সবাজারে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন ২০ তারিখের পর বৃষ্টির আভাস
ছবি: চেকপোস্ট

কক্সবাজারসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে তীব্র ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা মাঝারি পর্যায়ে থাকলেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে গরমের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।

মঙ্গলবার ১৬ মে দুপুরে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ। আবহাওয়াবিদদের মতে, অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ঘাম স্বাভাবিকভাবে শুকাতে না পারায় মানুষের কাছে গরম আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে।

শহরের প্রধান সড়ক, পর্যটন এলাকা ও বাজারগুলোতে দুপুরের পর মানুষের চলাচল কমে যায়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

লিংক রোড এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ফ্যানের বাতাসও গরম লাগছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।

কলাতলী এলাকার ব্যবসায়ী নুরুল হুদা জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে দুপুরের পর দোকানে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকায় বিকেলের আগে পর্যটকদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম দেখা গেছে। পর্যটকরা দুপুরের গরম এড়িয়ে হোটেলেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিন একই ধরনের আবহাওয়া থাকতে পারে। তবে ২০ তারিখের পর বঙ্গোপসাগরে মেঘের প্রবণতা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে স্বস্তি ফিরতে পারে।

আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, বর্তমানে সাগর থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প প্রবেশ করায় বাতাসে আর্দ্রতা বেড়েছে। এ কারণেই গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।

চিকিৎসকরাও এই গরমে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও দুর্বলতার ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির।

তিনি সবাইকে বেশি বেশি পানি পান, দুপুরে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় এমন অস্বাভাবিক আবহাওয়া পরিস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। তাই পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ জরুরি হয়ে উঠেছে।

#আবহাওয়া #কক্সবাজার #ভ্যাপসা_গরম

চেকপোস্ট

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


কক্সবাজারে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন ২০ তারিখের পর বৃষ্টির আভাস

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে তীব্র ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা মাঝারি পর্যায়ে থাকলেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে গরমের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।

মঙ্গলবার ১৬ মে দুপুরে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ। আবহাওয়াবিদদের মতে, অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ঘাম স্বাভাবিকভাবে শুকাতে না পারায় মানুষের কাছে গরম আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে।

শহরের প্রধান সড়ক, পর্যটন এলাকা ও বাজারগুলোতে দুপুরের পর মানুষের চলাচল কমে যায়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

লিংক রোড এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ফ্যানের বাতাসও গরম লাগছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।

কলাতলী এলাকার ব্যবসায়ী নুরুল হুদা জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে দুপুরের পর দোকানে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকায় বিকেলের আগে পর্যটকদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম দেখা গেছে। পর্যটকরা দুপুরের গরম এড়িয়ে হোটেলেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিন একই ধরনের আবহাওয়া থাকতে পারে। তবে ২০ তারিখের পর বঙ্গোপসাগরে মেঘের প্রবণতা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে স্বস্তি ফিরতে পারে।

আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, বর্তমানে সাগর থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প প্রবেশ করায় বাতাসে আর্দ্রতা বেড়েছে। এ কারণেই গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।

চিকিৎসকরাও এই গরমে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও দুর্বলতার ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির।

তিনি সবাইকে বেশি বেশি পানি পান, দুপুরে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় এমন অস্বাভাবিক আবহাওয়া পরিস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। তাই পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ জরুরি হয়ে উঠেছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত