নাবালক ছেলেকে জোর করে বিয়ে, কমলনগরে আদালতে মামলা
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে এক নাবালক ছেলেকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া, বয়স জালিয়াতি, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।আদালত সূত্রে জানা যায়, কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা পান্না বেগম সম্প্রতি বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, কমলনগরে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, তার ছেলে তানজিদ হোসেন শাওনের প্রকৃত জন্ম তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ এবং ঘটনার সময় সে নাবালক ছিল।মামলার অভিযোগে বলা হয়, পূর্ব বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে নাবালক শাওনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। গত ২৯ এপ্রিল রাতে নোয়াখালীর সদর উপজেলার আন্ডাচর এলাকার বুদ্ধিনগরে তার গতিরোধ করে জোরপূর্বক একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, পরদিন একটি কক্ষে নাবালক ছেলে ও এক কিশোরীকে একসঙ্গে আটকে রেখে তাদের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে ৩ মে লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে নিয়ে গিয়ে উভয়ের প্রকৃত বয়স গোপন করে সাবালক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এরপর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহের এফিডেভিট এবং কাজীর মাধ্যমে কাবিননামা সম্পাদন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এসব নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।বাদী আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে পরিবারটি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।মামলায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর বিভিন্ন ধারা ছাড়াও অবৈধ আটক, জালিয়াতি, প্রতারণা, মারধর, চুরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।বাদীপক্ষের দাবি, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।বর্তমানে মামলাটি আদালতের বিচারাধীন রয়েছে।