বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

জাতীয়

কর্তৃপক্ষের ভিন্ন দাবি

১৩ লাখে চাকরির নিশ্চয়তার অভিযোগ, জাতীয় জাদুঘরে ফিরলেন সুমন

১৩ লাখে চাকরির নিশ্চয়তার অভিযোগ, জাতীয় জাদুঘরে ফিরলেন সুমন
মো. সুমন মিয়া। ছবি : কোলাজ

তেরো লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় আসা জাতীয় জাদুঘরের কর্মচারী মো. সুমন মিয়া আবারও জাতীয় জাদুঘরে ফিরেছেন। এর আগে ফোনালাপ ফাঁসের পর তাকে আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে বদলি করা হয়েছিল।

জাতীয় জাদুঘরের রেজিস্ট্রেশন সহকারী এবং কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সুমন ওই ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তের মুখেও পড়েন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাকে ফের জাতীয় জাদুঘরের রেজিস্ট্রেশন শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত ১২ আগস্ট জাতীয় জাদুঘরের প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে সুমন মিয়ার একটি ফোনালাপ ফাঁস হলে ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডে ৪৮ জনের নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। ওই ফোনালাপে চাকরির জন্য ‘১৩ লাখ’ টাকা দেওয়ার কথা বলা এবং পরীক্ষায় পাস করার প্রয়োজন নেই—এমন বক্তব্যের অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার পর ৩০ এপ্রিল জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অভিযোগগুলোকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের কথা জানানো হয় এবং সুমন মিয়াকে আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে বদলি করা হয়।

তবে প্রায় সাড়ে তিন মাসের মধ্যে কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়াই তাকে আবার জাতীয় জাদুঘরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

বোনের নিয়োগ নিয়েও অভিযোগ

অভিযোগ ওঠা ৪৮ নিয়োগের মধ্যে সুমন মিয়ার বোন মোছা. তাসলিমা আক্তারের নামও রয়েছে। তাকে টেলিফোন অপারেটর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার অনলাইন আবেদনপত্রে সুমনের ইমেইল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে তাসলিমা আক্তারকে ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালায় বদলি করা হয়। সেখানে টেলিফোন অপারেটরের কোনো পদ না থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

নারী কর্মীকে বদলির অভিযোগ

ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় জুয়েল রানা নামের এক ব্যক্তিকে চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে বদলি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তার স্ত্রী ও আউটসোর্সিংয়ে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত সোনিয়া আক্তারকেও আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে বদলি করা হয়। ওই সময় সোনিয়া আক্তার অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুমন মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

যা বলছে কর্তৃপক্ষ

সুমনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জাতীয় জাদুঘরের কিপার (পরিচালক) মো. মনিরুল ইসলাম। কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মালেক মিলন এবং সদস্য ছিলেন ঊর্ধ্বতন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সমিরন রায়।

তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে কমিটির সদস্যরা আহ্বায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। মো. মনিরুল ইসলাম এ বিষয়ে মহাপরিচালক ও সচিবের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সুমনকে ফেরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্তে তার ব্যাপারে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলেই তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে আরও তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।

#জাতীয়জাদুঘর #চাকরিঘুষ #সুমনমিয়া

চেকপোস্ট

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১৩ লাখে চাকরির নিশ্চয়তার অভিযোগ, জাতীয় জাদুঘরে ফিরলেন সুমন

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

তেরো লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় আসা জাতীয় জাদুঘরের কর্মচারী মো. সুমন মিয়া আবারও জাতীয় জাদুঘরে ফিরেছেন। এর আগে ফোনালাপ ফাঁসের পর তাকে আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে বদলি করা হয়েছিল।

জাতীয় জাদুঘরের রেজিস্ট্রেশন সহকারী এবং কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সুমন ওই ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তের মুখেও পড়েন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাকে ফের জাতীয় জাদুঘরের রেজিস্ট্রেশন শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত ১২ আগস্ট জাতীয় জাদুঘরের প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে সুমন মিয়ার একটি ফোনালাপ ফাঁস হলে ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডে ৪৮ জনের নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। ওই ফোনালাপে চাকরির জন্য ‘১৩ লাখ’ টাকা দেওয়ার কথা বলা এবং পরীক্ষায় পাস করার প্রয়োজন নেই—এমন বক্তব্যের অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার পর ৩০ এপ্রিল জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অভিযোগগুলোকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের কথা জানানো হয় এবং সুমন মিয়াকে আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে বদলি করা হয়।

তবে প্রায় সাড়ে তিন মাসের মধ্যে কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়াই তাকে আবার জাতীয় জাদুঘরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

বোনের নিয়োগ নিয়েও অভিযোগ

অভিযোগ ওঠা ৪৮ নিয়োগের মধ্যে সুমন মিয়ার বোন মোছা. তাসলিমা আক্তারের নামও রয়েছে। তাকে টেলিফোন অপারেটর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার অনলাইন আবেদনপত্রে সুমনের ইমেইল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে তাসলিমা আক্তারকে ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালায় বদলি করা হয়। সেখানে টেলিফোন অপারেটরের কোনো পদ না থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

নারী কর্মীকে বদলির অভিযোগ

ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় জুয়েল রানা নামের এক ব্যক্তিকে চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে বদলি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তার স্ত্রী ও আউটসোর্সিংয়ে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত সোনিয়া আক্তারকেও আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে বদলি করা হয়। ওই সময় সোনিয়া আক্তার অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুমন মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

যা বলছে কর্তৃপক্ষ

সুমনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জাতীয় জাদুঘরের কিপার (পরিচালক) মো. মনিরুল ইসলাম। কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মালেক মিলন এবং সদস্য ছিলেন ঊর্ধ্বতন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সমিরন রায়।

তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে কমিটির সদস্যরা আহ্বায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। মো. মনিরুল ইসলাম এ বিষয়ে মহাপরিচালক ও সচিবের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সুমনকে ফেরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্তে তার ব্যাপারে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলেই তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে আরও তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত