মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

স্বামীর ৫ বছরের জেল

১০ হাজার টাকা জরিমানা, পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

১০ হাজার টাকা জরিমানা, পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
ছবি: চেকপোস্ট

সুনামগঞ্জের ছাতকে নববধূ রুকসানা বেগমকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তার স্বামী আলী হোসেনকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. হাবিবুর রহমান চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আলী হোসেন (৩২) আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আলী হোসেন ছাতক উপজেলার খুরমা উত্তর ইউনিয়নের বড়বিহাই গ্রামের সফর আলীর ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের নানকার গ্রামের মৃত আমিরুল ইসলামের মেয়ে রুকসানা বেগমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে আলী হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সময় রুকসানার পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র এনে দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। একপর্যায়ে আলী হোসেন তাকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করতেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

বিয়ের সাড়ে তিন মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই সকালে আলী হোসেনের বসতঘরে বৈদ্যুতিক সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে রুকসানা আত্মহত্যা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় রুকসানার বোন নাজমা বেগম বাদী হয়ে ২৪ জুলাই ছাতক থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। পরে পুলিশ আলী হোসেনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পলাতক হন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছাতক থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) রঞ্জন কুমার ঘোষ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর পেনাল কোডের ৩০৬ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আলী হোসেনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী নাজমা বেগম বলেন, তারা দীর্ঘদিন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন। দ্রুত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করে রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. চান মিয়া বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত ন্যায়সঙ্গত রায় দিয়েছেন।

#ছাতক #আদালতের_রায় #আত্মহত্যায়_প্ররোচনা

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


১০ হাজার টাকা জরিমানা, পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের ছাতকে নববধূ রুকসানা বেগমকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তার স্বামী আলী হোসেনকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. হাবিবুর রহমান চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আলী হোসেন (৩২) আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আলী হোসেন ছাতক উপজেলার খুরমা উত্তর ইউনিয়নের বড়বিহাই গ্রামের সফর আলীর ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের নানকার গ্রামের মৃত আমিরুল ইসলামের মেয়ে রুকসানা বেগমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে আলী হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সময় রুকসানার পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র এনে দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। একপর্যায়ে আলী হোসেন তাকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করতেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

বিয়ের সাড়ে তিন মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই সকালে আলী হোসেনের বসতঘরে বৈদ্যুতিক সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে রুকসানা আত্মহত্যা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় রুকসানার বোন নাজমা বেগম বাদী হয়ে ২৪ জুলাই ছাতক থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। পরে পুলিশ আলী হোসেনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পলাতক হন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছাতক থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) রঞ্জন কুমার ঘোষ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর পেনাল কোডের ৩০৬ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আলী হোসেনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী নাজমা বেগম বলেন, তারা দীর্ঘদিন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন। দ্রুত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করে রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. চান মিয়া বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত ন্যায়সঙ্গত রায় দিয়েছেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত