ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’।
প্রতিবেদনে ভারতের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে।
ভারতের কর্মকর্তাদের মতে, আদালতের মূল বিবেচনার বিষয় হবে—বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত কি না।
এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর আইনি শ্রেণিবিন্যাস এবং দুই দেশের আইনের সামঞ্জস্য পর্যালোচনা করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা নিজেও আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।
গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস, তাই আমি ডিসেম্বরেই ফিরে যেতে চাই।’
শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আহ্বানের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বিষয়টি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য থাকলে পরবর্তীতে জানানো হবে।
ভারতের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পাঠানো প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র যুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দিল্লির একটি সুরক্ষিত স্থানে অবস্থান করে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন শেখ হাসিনা।
এছাড়া তিনি নিয়মিত টেবিল টেনিস খেলে নিজেকে সক্রিয় রাখছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হলে ভারতের আদালতে বিষয়টি আইনিভাবে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা।
২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, আদালতে সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট শর্তে হস্তান্তরের সুযোগ রয়েছে।
তবে চুক্তির একটি ধারা অনুযায়ী রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধ সাধারণত প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে থাকতে পারে। যদিও হত্যা, নরহত্যা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে।
প্রত্যর্পণ আবেদনের বিষয়টি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং আদালতের নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
তবে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা এই রায়ের বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তুলতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’।
প্রতিবেদনে ভারতের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে।
ভারতের কর্মকর্তাদের মতে, আদালতের মূল বিবেচনার বিষয় হবে—বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত কি না।
এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর আইনি শ্রেণিবিন্যাস এবং দুই দেশের আইনের সামঞ্জস্য পর্যালোচনা করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা নিজেও আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।
গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস, তাই আমি ডিসেম্বরেই ফিরে যেতে চাই।’
শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আহ্বানের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বিষয়টি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য থাকলে পরবর্তীতে জানানো হবে।
ভারতের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পাঠানো প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র যুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দিল্লির একটি সুরক্ষিত স্থানে অবস্থান করে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন শেখ হাসিনা।
এছাড়া তিনি নিয়মিত টেবিল টেনিস খেলে নিজেকে সক্রিয় রাখছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হলে ভারতের আদালতে বিষয়টি আইনিভাবে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা।
২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, আদালতে সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট শর্তে হস্তান্তরের সুযোগ রয়েছে।
তবে চুক্তির একটি ধারা অনুযায়ী রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধ সাধারণত প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে থাকতে পারে। যদিও হত্যা, নরহত্যা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে।
প্রত্যর্পণ আবেদনের বিষয়টি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং আদালতের নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
তবে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা এই রায়ের বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তুলতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
