রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূর ওপর নির্মম নির্যাতন

হালখাতার টাকার লোভে তাণ্ডব! বড়াইগ্রামে বাড়িতে হামলা, রক্তাক্ত নারী-শিশু

হালখাতার টাকার লোভে তাণ্ডব! বড়াইগ্রামে বাড়িতে হামলা, রক্তাক্ত নারী-শিশু
ছবি: চেকপোস্ট

বড়াইগ্রাম উপজেলার পারবাগডোব গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হামলা, লুটপাট এবং এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ একটি সশস্ত্র দল ভোররাতে একটি বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে, পাশাপাশি গর্ভবতী নারীকে মারধর করে গর্ভপাত ঘটায় এবং এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস আলীর বাড়িতে ১০–১২ জনের একটি দল অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং চারটি কক্ষের তালা ভেঙে মালামাল তছনছ করে।

ঘটনার আগে ইদ্রিস আলীর দোকানে হালখাতা অনুষ্ঠিত হয়। ওই হালখাতার বিক্রির নগদ প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা একটি টিনের বাক্সে সংরক্ষিত ছিল, যা ভেঙে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পাশাপাশি পরিবারের ব্যবহৃত প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার—যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা—লুট করা হয়।

ঘটনার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, ইদ্রিস আলীর পুত্রবধূ জুলেখা খাতুন (৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা) বাধা দিতে গেলে তাকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুক ও তলপেটে আঘাতের ফলে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে এবং পরে গর্ভপাত ঘটে।

এদিকে হামলাকারীদের নিষ্ঠুরতা এখানেই থেমে থাকেনি। জুলেখার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে জুবায়েরের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়, যাওয়ার সময় প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।

স্থানীয়দের মতে, অভিযুক্তদের সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। তবে পরিকল্পিতভাবে ভোরবেলা হামলা চালিয়ে এমন সহিংসতা ঘটানোয় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গুরুতর আহত জুলেখা খাতুন ও তার শিশুপুত্রকে প্রথমে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল–এ স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

বড়াইগ্রাম থানা–র ওসি মো. আব্দুস সালাম জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

#অপরাধ_সংবাদ #নাটোর_হামলা #বড়াইগ্রাম_সংবাদ

চেকপোস্ট

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


হালখাতার টাকার লোভে তাণ্ডব! বড়াইগ্রামে বাড়িতে হামলা, রক্তাক্ত নারী-শিশু

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বড়াইগ্রাম উপজেলার পারবাগডোব গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হামলা, লুটপাট এবং এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ একটি সশস্ত্র দল ভোররাতে একটি বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে, পাশাপাশি গর্ভবতী নারীকে মারধর করে গর্ভপাত ঘটায় এবং এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস আলীর বাড়িতে ১০–১২ জনের একটি দল অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং চারটি কক্ষের তালা ভেঙে মালামাল তছনছ করে।

ঘটনার আগে ইদ্রিস আলীর দোকানে হালখাতা অনুষ্ঠিত হয়। ওই হালখাতার বিক্রির নগদ প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা একটি টিনের বাক্সে সংরক্ষিত ছিল, যা ভেঙে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পাশাপাশি পরিবারের ব্যবহৃত প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার—যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা—লুট করা হয়।

ঘটনার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, ইদ্রিস আলীর পুত্রবধূ জুলেখা খাতুন (৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা) বাধা দিতে গেলে তাকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুক ও তলপেটে আঘাতের ফলে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে এবং পরে গর্ভপাত ঘটে।

এদিকে হামলাকারীদের নিষ্ঠুরতা এখানেই থেমে থাকেনি। জুলেখার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে জুবায়েরের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়, যাওয়ার সময় প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।

স্থানীয়দের মতে, অভিযুক্তদের সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। তবে পরিকল্পিতভাবে ভোরবেলা হামলা চালিয়ে এমন সহিংসতা ঘটানোয় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গুরুতর আহত জুলেখা খাতুন ও তার শিশুপুত্রকে প্রথমে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল–এ স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

বড়াইগ্রাম থানা–র ওসি মো. আব্দুস সালাম জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত