হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। দেড় মাসের ব্যবধানে একই স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে বন্যার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার সকালে পাহাড়ি ঢলের পানির তীব্র চাপে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। মুহূর্তেই প্রবল স্রোতে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে কয়েকটি গ্রামের রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা ১১টার দিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অতিরিক্ত পানির চাপ সামলাতে না পেরে কালীগঞ্জ বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়।
এরই মধ্যে সুঘর, চরহামুয়া, বনগাঁও, আদ্যপাশসহ কয়েকটি গ্রামের সড়ক ও কৃষিজমি পানিতে ডুবে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, রাতের মধ্যে আরও ২০ থেকে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। অনেকে ঘরবাড়ির মালামাল সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে শুরু করেছেন।
এর আগে গত ৯ জুলাই রাতে একই বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। তখন মাছের ঘের, ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
ওই ঘটনার পর হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করে। তবে দীর্ঘ ৪৩ দিনেও কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ, মেরামত কাজে ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই আবারও বাঁধ ভেঙেছে।
সুঘর গ্রামের বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, “সময়মতো বাঁধ মেরামত না হওয়ায় আমাদের আবারও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। হাওরের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।”
চরহামুয়া গ্রামের আব্দুল হক বলেন, গত বন্যার ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এর মধ্যেই আবার বাঁধ ভেঙে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।
বনগাঁও গ্রামের শফিক মিয়া বলেন, বাঁধ মেরামতের কাজে আরও দ্রুততা দরকার ছিল। এখন মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় যাচ্ছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, ভারতের ত্রিপুরায় অতিবৃষ্টির কারণে দ্রুত গতিতে পানি নেমে এসেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই খোয়াই নদীতে পানির চাপ বেড়ে বাঁধ ভেঙে যায়। পানি কমলে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাঁধ মেরামতে অনিয়ম ও ধীরগতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। বর্ষার অতিবৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। দেড় মাসের ব্যবধানে একই স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে বন্যার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার সকালে পাহাড়ি ঢলের পানির তীব্র চাপে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। মুহূর্তেই প্রবল স্রোতে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে কয়েকটি গ্রামের রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা ১১টার দিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অতিরিক্ত পানির চাপ সামলাতে না পেরে কালীগঞ্জ বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়।
এরই মধ্যে সুঘর, চরহামুয়া, বনগাঁও, আদ্যপাশসহ কয়েকটি গ্রামের সড়ক ও কৃষিজমি পানিতে ডুবে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, রাতের মধ্যে আরও ২০ থেকে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। অনেকে ঘরবাড়ির মালামাল সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে শুরু করেছেন।
এর আগে গত ৯ জুলাই রাতে একই বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। তখন মাছের ঘের, ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
ওই ঘটনার পর হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করে। তবে দীর্ঘ ৪৩ দিনেও কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ, মেরামত কাজে ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই আবারও বাঁধ ভেঙেছে।
সুঘর গ্রামের বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, “সময়মতো বাঁধ মেরামত না হওয়ায় আমাদের আবারও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। হাওরের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।”
চরহামুয়া গ্রামের আব্দুল হক বলেন, গত বন্যার ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এর মধ্যেই আবার বাঁধ ভেঙে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।
বনগাঁও গ্রামের শফিক মিয়া বলেন, বাঁধ মেরামতের কাজে আরও দ্রুততা দরকার ছিল। এখন মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় যাচ্ছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, ভারতের ত্রিপুরায় অতিবৃষ্টির কারণে দ্রুত গতিতে পানি নেমে এসেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই খোয়াই নদীতে পানির চাপ বেড়ে বাঁধ ভেঙে যায়। পানি কমলে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাঁধ মেরামতে অনিয়ম ও ধীরগতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। বর্ষার অতিবৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
