হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা অবশ হয়ে আসা কিংবা শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া এসব স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই আতঙ্কে ভুল সিদ্ধান্ত নেন। কেউ পানি খাওয়ান, কেউ ঘরোয়া চিকিৎসা শুরু করেন, আবার কেউ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন।
কিন্তু স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময় নষ্ট করা বিপজ্জনক হতে পারে। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে যত দেরি হয়, তত বেশি কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সবচেয়ে জরুরি।
স্ট্রোক শনাক্ত করার সহজ উপায় হলো FAST।
Face (মুখ): হাসতে বলুন। মুখের এক পাশ বেঁকে গেছে কি না দেখুন।
Arms (হাত): দুই হাত তুলতে বলুন। একটি হাত নিচে নেমে যাচ্ছে কি না লক্ষ্য করুন।
Speech (কথা): সহজ বাক্য বলতে বলুন। কথা জড়িয়ে যাচ্ছে কি না বা বলতে সমস্যা হচ্ছে কি না দেখুন।
Time (সময়): এসব লক্ষণের যেকোনো একটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।
এর পাশাপাশি হঠাৎ দৃষ্টির সমস্যা, মাথা ঘোরা, হাঁটতে সমস্যা বা তীব্র মাথাব্যথাও স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।
স্ট্রোকের চিকিৎসায় সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগী কিছুক্ষণ পর ভালো বোধ করছেন কি না, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়।
রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। সম্ভব হলে জরুরি চিকিৎসা সুবিধা আছে এমন হাসপাতালে নেওয়া ভালো। রোগীকে কখনো নিজে গাড়ি চালাতে দেওয়া যাবে না।
স্ট্রোকের চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে।
তাই মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা হাত-পা দুর্বল হওয়ার সময়টি মনে রাখুন। রোগী ঘুম থেকে ওঠার পর লক্ষণ দেখা দিলে শেষ কখন তাকে স্বাভাবিক দেখা গেছে, সেটিও চিকিৎসকদের জানানো প্রয়োজন।
স্ট্রোকের পর অনেক রোগীর গিলতে সমস্যা হয়। এ অবস্থায় পানি, খাবার বা অন্য কোনো তরল খাওয়ালে তা শ্বাসনালিতে ঢুকে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তাই হাসপাতালে নেওয়ার আগে রোগীকে মুখে কিছু না দেওয়াই নিরাপদ।
স্ট্রোক দুই ধরনের হতে পারে—রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ।
রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক হলে অ্যাসপিরিন বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ বিপজ্জনক হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেওয়া উচিত নয়।
কখনো স্ট্রোকের মতো লক্ষণ কয়েক মিনিট পর চলে যেতে পারে। এটিকে অনেকেই স্বাভাবিক মনে করেন। কিন্তু এটি ট্রান্সিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ) হতে পারে, যা বড় স্ট্রোকের আগাম সতর্কবার্তা।
তাই লক্ষণ চলে গেলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রোগী সচেতন থাকলে তাকে শান্ত ও নিরাপদ অবস্থায় রাখুন। অযথা হাঁটাচলা করতে দেবেন না।
অচেতন হলে এবং শ্বাস চললে এক পাশে কাত করে রাখুন, যাতে বমি হলে শ্বাসনালিতে না যায়। একই সঙ্গে দ্রুত জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।
স্ট্রোকের সময় মনে রাখুন
লক্ষণ চিনুন
সময় লিখে রাখুন
মুখে পানি-খাবার দেবেন না
দ্রুত হাসপাতালে নিন
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ দেবেন না
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে কয়েক মিনিটের দেরিও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই আতঙ্ক নয়, দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্তই পারে রোগীর জীবন ও ভবিষ্যৎ সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়াতে।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা অবশ হয়ে আসা কিংবা শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া এসব স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই আতঙ্কে ভুল সিদ্ধান্ত নেন। কেউ পানি খাওয়ান, কেউ ঘরোয়া চিকিৎসা শুরু করেন, আবার কেউ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন।
কিন্তু স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময় নষ্ট করা বিপজ্জনক হতে পারে। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে যত দেরি হয়, তত বেশি কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সবচেয়ে জরুরি।
স্ট্রোক শনাক্ত করার সহজ উপায় হলো FAST।
Face (মুখ): হাসতে বলুন। মুখের এক পাশ বেঁকে গেছে কি না দেখুন।
Arms (হাত): দুই হাত তুলতে বলুন। একটি হাত নিচে নেমে যাচ্ছে কি না লক্ষ্য করুন।
Speech (কথা): সহজ বাক্য বলতে বলুন। কথা জড়িয়ে যাচ্ছে কি না বা বলতে সমস্যা হচ্ছে কি না দেখুন।
Time (সময়): এসব লক্ষণের যেকোনো একটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।
এর পাশাপাশি হঠাৎ দৃষ্টির সমস্যা, মাথা ঘোরা, হাঁটতে সমস্যা বা তীব্র মাথাব্যথাও স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।
স্ট্রোকের চিকিৎসায় সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগী কিছুক্ষণ পর ভালো বোধ করছেন কি না, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়।
রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। সম্ভব হলে জরুরি চিকিৎসা সুবিধা আছে এমন হাসপাতালে নেওয়া ভালো। রোগীকে কখনো নিজে গাড়ি চালাতে দেওয়া যাবে না।
স্ট্রোকের চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে।
তাই মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা হাত-পা দুর্বল হওয়ার সময়টি মনে রাখুন। রোগী ঘুম থেকে ওঠার পর লক্ষণ দেখা দিলে শেষ কখন তাকে স্বাভাবিক দেখা গেছে, সেটিও চিকিৎসকদের জানানো প্রয়োজন।
স্ট্রোকের পর অনেক রোগীর গিলতে সমস্যা হয়। এ অবস্থায় পানি, খাবার বা অন্য কোনো তরল খাওয়ালে তা শ্বাসনালিতে ঢুকে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তাই হাসপাতালে নেওয়ার আগে রোগীকে মুখে কিছু না দেওয়াই নিরাপদ।
স্ট্রোক দুই ধরনের হতে পারে—রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ।
রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক হলে অ্যাসপিরিন বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ বিপজ্জনক হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেওয়া উচিত নয়।
কখনো স্ট্রোকের মতো লক্ষণ কয়েক মিনিট পর চলে যেতে পারে। এটিকে অনেকেই স্বাভাবিক মনে করেন। কিন্তু এটি ট্রান্সিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ) হতে পারে, যা বড় স্ট্রোকের আগাম সতর্কবার্তা।
তাই লক্ষণ চলে গেলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রোগী সচেতন থাকলে তাকে শান্ত ও নিরাপদ অবস্থায় রাখুন। অযথা হাঁটাচলা করতে দেবেন না।
অচেতন হলে এবং শ্বাস চললে এক পাশে কাত করে রাখুন, যাতে বমি হলে শ্বাসনালিতে না যায়। একই সঙ্গে দ্রুত জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।
স্ট্রোকের সময় মনে রাখুন
লক্ষণ চিনুন
সময় লিখে রাখুন
মুখে পানি-খাবার দেবেন না
দ্রুত হাসপাতালে নিন
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ দেবেন না
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে কয়েক মিনিটের দেরিও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই আতঙ্ক নয়, দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্তই পারে রোগীর জীবন ও ভবিষ্যৎ সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়াতে।
