বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

বিসিক শিল্পনগরীতে চাঞ্চল্য

সৈয়দপুর বিসিকে জব্দ ৯৯ টন নিষিদ্ধ কীটনাশক উধাও, শীলগালা গোডাউন ফাঁকা

সৈয়দপুর বিসিকে জব্দ ৯৯ টন নিষিদ্ধ কীটনাশক উধাও, শীলগালা গোডাউন ফাঁকা
গোডাউন। ছবি : চেকপোস্ট

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর শীলগালা করা একটি গোডাউন থেকে প্রশাসনের জব্দ করা প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ৯৯ মেট্রিক টন নিষিদ্ধ কীটনাশক উধাও হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ওই মালামাল ধ্বংস করতে গিয়ে দেখা যায়, তালা ও সিল অক্ষত থাকলেও গোডাউনের ভেতরে নেই বিপুল পরিমাণ জব্দকৃত পণ্য।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে। নীলফামারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নিষিদ্ধ বালাইনাশক ধ্বংস করতে সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীতে যান। পরে পুলিশ ও শিল্পনগরী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শীলগালা করা গোডাউন খুললে ভেতরে মাত্র ১২৩টি ছেঁড়া-ফাটা কীটনাশকের প্যাকেট পাওয়া যায়।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিসিক শিল্পনগরীর ওই গোডাউন থেকে এসিআই কোম্পানির সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘বিফার-৫ জি’ বালাইনাশক জব্দ করা হয়। অভিযানে পুলিশ, র‌্যাব ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। পরে ৯৯ মেট্রিক টন মালামাল জব্দ করে গোডাউনটি শীলগালা করা হয় এবং চাবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের হলে মালামালের মালিক মেসার্স মনোয়ার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. মনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটি বর্তমানে নীলফামারী বিশেষ আদালতে চলমান।

গোডাউন খুলে মালামাল না পাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, গোডাউন খোলার পর এমন দৃশ্য দেখে তিনি নিজেও বিস্মিত হয়েছেন। তার দাবি, গোডাউনের ভেতরের একটি দেয়ালে নতুন করে প্লাস্টারের চিহ্ন দেখা গেছে। সেখান দিয়ে মালামাল সরানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করেন তিনি।

তিনি বলেন, গোডাউন তদারকির মূল দায়িত্ব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশের। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা তার জানা নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ জানান, মামলার বাদি হওয়ায় তার কাছে গোডাউনের চাবি রাখা ছিল। তবে গোডাউন পাহারা বা তদারকির দায়িত্ব তার ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। শীলগালা করার সময় তিনি ৯৯ মেট্রিক টন মালামাল দেখেছেন বলেও জানান।

অন্যদিকে মালামালের মালিক মো. মনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তার ভাষ্য, মালগুলো বৈধভাবে এসিআই কোম্পানি থেকে কেনা হয়েছিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষণার আগেই তিনি তা সংগ্রহ করেন। তিনি নিজের মাল ফেরত অথবা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংরক্ষিত শিল্প এলাকায় শীলগালা করা গোডাউন থেকে এত বিপুল পরিমাণ মালামাল উধাও হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয়। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় প্রশাসনের নজরদারি, জব্দ মালামালের নিরাপত্তা এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এখন আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তেই বেরিয়ে আসবে ৯৯ মেট্রিক টন নিষিদ্ধ কীটনাশকের প্রকৃত রহস্য।

#সৈয়দপুর_বিসিক #নিষিদ্ধ_কীটনাশক_উধাও #প্রশাসনের_জব্দ_মালামাল

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


সৈয়দপুর বিসিকে জব্দ ৯৯ টন নিষিদ্ধ কীটনাশক উধাও, শীলগালা গোডাউন ফাঁকা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর শীলগালা করা একটি গোডাউন থেকে প্রশাসনের জব্দ করা প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ৯৯ মেট্রিক টন নিষিদ্ধ কীটনাশক উধাও হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ওই মালামাল ধ্বংস করতে গিয়ে দেখা যায়, তালা ও সিল অক্ষত থাকলেও গোডাউনের ভেতরে নেই বিপুল পরিমাণ জব্দকৃত পণ্য।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে। নীলফামারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নিষিদ্ধ বালাইনাশক ধ্বংস করতে সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীতে যান। পরে পুলিশ ও শিল্পনগরী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শীলগালা করা গোডাউন খুললে ভেতরে মাত্র ১২৩টি ছেঁড়া-ফাটা কীটনাশকের প্যাকেট পাওয়া যায়।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিসিক শিল্পনগরীর ওই গোডাউন থেকে এসিআই কোম্পানির সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘বিফার-৫ জি’ বালাইনাশক জব্দ করা হয়। অভিযানে পুলিশ, র‌্যাব ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। পরে ৯৯ মেট্রিক টন মালামাল জব্দ করে গোডাউনটি শীলগালা করা হয় এবং চাবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের হলে মালামালের মালিক মেসার্স মনোয়ার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. মনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটি বর্তমানে নীলফামারী বিশেষ আদালতে চলমান।

গোডাউন খুলে মালামাল না পাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, গোডাউন খোলার পর এমন দৃশ্য দেখে তিনি নিজেও বিস্মিত হয়েছেন। তার দাবি, গোডাউনের ভেতরের একটি দেয়ালে নতুন করে প্লাস্টারের চিহ্ন দেখা গেছে। সেখান দিয়ে মালামাল সরানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করেন তিনি।

তিনি বলেন, গোডাউন তদারকির মূল দায়িত্ব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশের। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা তার জানা নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ জানান, মামলার বাদি হওয়ায় তার কাছে গোডাউনের চাবি রাখা ছিল। তবে গোডাউন পাহারা বা তদারকির দায়িত্ব তার ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। শীলগালা করার সময় তিনি ৯৯ মেট্রিক টন মালামাল দেখেছেন বলেও জানান।

অন্যদিকে মালামালের মালিক মো. মনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তার ভাষ্য, মালগুলো বৈধভাবে এসিআই কোম্পানি থেকে কেনা হয়েছিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষণার আগেই তিনি তা সংগ্রহ করেন। তিনি নিজের মাল ফেরত অথবা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংরক্ষিত শিল্প এলাকায় শীলগালা করা গোডাউন থেকে এত বিপুল পরিমাণ মালামাল উধাও হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয়। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় প্রশাসনের নজরদারি, জব্দ মালামালের নিরাপত্তা এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এখন আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তেই বেরিয়ে আসবে ৯৯ মেট্রিক টন নিষিদ্ধ কীটনাশকের প্রকৃত রহস্য।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত