হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মারধর, হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও একাধিক আইফোনসহ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে জেলা ছাত্রদল। অভিযোগে ১০ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার
সরাত ১১টায় হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগটি দাখিল করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রোকন।
লিখিত
অভিযোগে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন নীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, শোকসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে
যোগ দিতে কোর্ট মসজিদ এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় উত্তর
দিক থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম, আবু রেজা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিনসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
অভিযোগে
দাবি করা হয়, এনসিপির নেতাকর্মীরা উসকানিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও কয়েক দফা
সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রদলের
একাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।
ছাত্রদলের
দাবি, সংঘর্ষ চলাকালে সারজিস আলম হামলাকারীদের আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযোগে বলা হয়, লোহার রড, ইট ও দেশীয় অস্ত্রের
আঘাতে কয়েকজন নেতাকর্মীর মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন
স্থানে গুরুতর জখম হয়। আহতদের পরে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে
আরও উল্লেখ করা হয়, সংঘর্ষের সুযোগে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে একটি আইফোন-১৩, ১১, ১৪, ১৫ এবং একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস-২২ স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া একজনের কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগ
অনুযায়ী, ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনগুলোর আনুমানিক মূল্য কয়েক লাখ টাকা। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রতিক্রিয়া জানান এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
তিনি
লিখেছেন, "আওয়ামী লীগ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি ভাঙচুরের মামলা দিয়েছিল। গতকাল হবিগঞ্জের সন্ত্রাসীদের
আশ্রয়স্থল গউস এমপির নির্দেশে তার পালিত ছাত্রদল আমাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা দিয়েছে! সেই পুরনো অভ্যাস। নিজেদের মতো সবাইকে ভাবলে তো হবে না! বি এ লিটল ডিগনিফাইড, প্লিজ!"
সারজিস
আলম তার পোস্টে অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ইঙ্গিত করেন এবং তা প্রত্যাখ্যান করেন।
হবিগঞ্জ
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, অভিযোগটি এখনও মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য,
সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপি ও ছাত্রদলের কর্মসূচিকে
কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনার জের ধরেই এবার থানায় লিখিত অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এলো।
এদিকে
ছাত্রদল তাদের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে সারজিস আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
বলে দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো পক্ষের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মারধর, হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও একাধিক আইফোনসহ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে জেলা ছাত্রদল। অভিযোগে ১০ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার
সরাত ১১টায় হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগটি দাখিল করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রোকন।
লিখিত
অভিযোগে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন নীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, শোকসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে
যোগ দিতে কোর্ট মসজিদ এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় উত্তর
দিক থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম, আবু রেজা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিনসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
অভিযোগে
দাবি করা হয়, এনসিপির নেতাকর্মীরা উসকানিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও কয়েক দফা
সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রদলের
একাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।
ছাত্রদলের
দাবি, সংঘর্ষ চলাকালে সারজিস আলম হামলাকারীদের আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযোগে বলা হয়, লোহার রড, ইট ও দেশীয় অস্ত্রের
আঘাতে কয়েকজন নেতাকর্মীর মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন
স্থানে গুরুতর জখম হয়। আহতদের পরে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে
আরও উল্লেখ করা হয়, সংঘর্ষের সুযোগে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে একটি আইফোন-১৩, ১১, ১৪, ১৫ এবং একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস-২২ স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া একজনের কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগ
অনুযায়ী, ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনগুলোর আনুমানিক মূল্য কয়েক লাখ টাকা। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রতিক্রিয়া জানান এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
তিনি
লিখেছেন, "আওয়ামী লীগ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি ভাঙচুরের মামলা দিয়েছিল। গতকাল হবিগঞ্জের সন্ত্রাসীদের
আশ্রয়স্থল গউস এমপির নির্দেশে তার পালিত ছাত্রদল আমাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা দিয়েছে! সেই পুরনো অভ্যাস। নিজেদের মতো সবাইকে ভাবলে তো হবে না! বি এ লিটল ডিগনিফাইড, প্লিজ!"
সারজিস
আলম তার পোস্টে অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ইঙ্গিত করেন এবং তা প্রত্যাখ্যান করেন।
হবিগঞ্জ
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, অভিযোগটি এখনও মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য,
সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপি ও ছাত্রদলের কর্মসূচিকে
কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনার জের ধরেই এবার থানায় লিখিত অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এলো।
এদিকে
ছাত্রদল তাদের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে সারজিস আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
বলে দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো পক্ষের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
