সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

বিশ্ব

দুই দেশের অবস্থান এখনো দূরে

সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান, ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান, ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করলেও আগামী সপ্তাহে তেহরানের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসার আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ফের সামরিক হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

রোববার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে তেহরানের প্রস্তাবিত চুক্তি তার প্রত্যাশিত নয় বলে জানান তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের একটি চুক্তি হয়তো এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করতে পারত।

অন্যদিকে, কাতারসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সোমবার থেকেই নতুন দফার পরোক্ষ আলোচনা শুরু হতে পারে।

ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে নিজেদের শর্তে অটল রয়েছে। তেহরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল করলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করা হতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান কূটনীতি ও আলোচনার পথ বন্ধ করেনি। তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নিজেদের অবস্থান থেকেও সরে আসবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। মার্কিন প্রশাসন আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড়কে গুরুত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালি ও নৌ অবরোধকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে চাইছে।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ইরানের প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ সম্পদে প্রবেশাধিকারের মতো বিষয়গুলোকে আলোচনায় বসার পূর্বশর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করতে রাজি নয়।

এর আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় হরমুজ প্রণালি চালু করা এবং পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। চলমান সংঘাতে এই জলপথের নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের শর্ত পূরণ না হলে প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক করার বিষয়ে তারা ছাড় দেবে না।

ফলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কাতারসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পথ খুঁজতে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। 

#ইরান #হরমুজপ্রণালি #ট্রাম্প

চেকপোস্ট

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান, ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করলেও আগামী সপ্তাহে তেহরানের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসার আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ফের সামরিক হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

রোববার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে তেহরানের প্রস্তাবিত চুক্তি তার প্রত্যাশিত নয় বলে জানান তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের একটি চুক্তি হয়তো এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করতে পারত।

অন্যদিকে, কাতারসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সোমবার থেকেই নতুন দফার পরোক্ষ আলোচনা শুরু হতে পারে।

ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে নিজেদের শর্তে অটল রয়েছে। তেহরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল করলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করা হতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান কূটনীতি ও আলোচনার পথ বন্ধ করেনি। তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নিজেদের অবস্থান থেকেও সরে আসবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। মার্কিন প্রশাসন আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড়কে গুরুত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালি ও নৌ অবরোধকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে চাইছে।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ইরানের প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ সম্পদে প্রবেশাধিকারের মতো বিষয়গুলোকে আলোচনায় বসার পূর্বশর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করতে রাজি নয়।

এর আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় হরমুজ প্রণালি চালু করা এবং পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। চলমান সংঘাতে এই জলপথের নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের শর্ত পূরণ না হলে প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক করার বিষয়ে তারা ছাড় দেবে না।

ফলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কাতারসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পথ খুঁজতে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। 


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত