মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

সন্তানের প্রতারণা ও অত্যাচারে দিশেহারা এক শিক্ষক পরিবার!

সন্তানের প্রতারণা ও অত্যাচারে দিশেহারা এক শিক্ষক পরিবার!

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক বখে যাওয়া সন্তানের অভিনব প্রতারণা ও মাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের বেলাপুর গ্রামের সাবেক শিক্ষক তইয়ব আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক প্রায় ১২ কানি জমি কৌশলে নিজের নামে দানপত্র করে নেয় সে।

জানা যায়, একটি মামলা জটিলতার কারণে ক্যান্সারে আক্রান্ত ওই শিক্ষক ২০১৪ সালে তার ছেলে রিপনের নামে সম্পত্তি দানপত্র করে দেন। শিক্ষক তইয়ব আলীর ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ে রয়েছে। তবে পরবর্তীতে একটি কুচক্রী মহলের প্রলোভন ও মাদকাসক্তির প্রভাবে রিপন পরিবার থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে এবং সম্পত্তি আর ফেরত দেয়নি।

এদিকে, গত ৮ এপ্রিল রিপন তার মা শামসুন্নাহার বেগমকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি হত্যার চেষ্টাও করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে আদালত থেকে সমন জারি হয়েছে।

অসহায় ওই মা বর্তমানে তার মেয়ের বাড়ি, তুলসীপুর গ্রামে অবস্থান করছেন। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, যৌথ মালিকানাধীন জমির গাছ ও বালু বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন রিপন।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার এনামুল হক জানান, দানপত্রের সময় জমিটি ব্যাংকে বন্ধক ছিল। নিয়ম অনুযায়ী বন্ধকী সম্পত্তি দানপত্র বা বিক্রি করা আইনসম্মত নয়। বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে দানপত্র বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বিশ্বাসভঙ্গ দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ভুক্তভোগী মা শামসুন্নাহার বেগম বলেন, “কুচক্রী মহলের প্রভাবে আমার ছেলে বখে গেছে। সে প্রতারণার মাধ্যমে পুরো সম্পত্তি নিজের নামে নিয়ে আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম রিপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হবিগঞ্জ মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজেদুল হাসান বলেন, “মাদকাসক্ত সন্তানেরা অনেক সময় এমন উশৃঙ্খল আচরণ করে। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা ওই ছেলের ডোপ টেস্টসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারি।”

মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


সন্তানের প্রতারণা ও অত্যাচারে দিশেহারা এক শিক্ষক পরিবার!

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক বখে যাওয়া সন্তানের অভিনব প্রতারণা ও মাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের বেলাপুর গ্রামের সাবেক শিক্ষক তইয়ব আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক প্রায় ১২ কানি জমি কৌশলে নিজের নামে দানপত্র করে নেয় সে।

জানা যায়, একটি মামলা জটিলতার কারণে ক্যান্সারে আক্রান্ত ওই শিক্ষক ২০১৪ সালে তার ছেলে রিপনের নামে সম্পত্তি দানপত্র করে দেন। শিক্ষক তইয়ব আলীর ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ে রয়েছে। তবে পরবর্তীতে একটি কুচক্রী মহলের প্রলোভন ও মাদকাসক্তির প্রভাবে রিপন পরিবার থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে এবং সম্পত্তি আর ফেরত দেয়নি।


এদিকে, গত ৮ এপ্রিল রিপন তার মা শামসুন্নাহার বেগমকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি হত্যার চেষ্টাও করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে আদালত থেকে সমন জারি হয়েছে।

অসহায় ওই মা বর্তমানে তার মেয়ের বাড়ি, তুলসীপুর গ্রামে অবস্থান করছেন। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, যৌথ মালিকানাধীন জমির গাছ ও বালু বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন রিপন।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার এনামুল হক জানান, দানপত্রের সময় জমিটি ব্যাংকে বন্ধক ছিল। নিয়ম অনুযায়ী বন্ধকী সম্পত্তি দানপত্র বা বিক্রি করা আইনসম্মত নয়। বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে দানপত্র বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বিশ্বাসভঙ্গ দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ভুক্তভোগী মা শামসুন্নাহার বেগম বলেন, “কুচক্রী মহলের প্রভাবে আমার ছেলে বখে গেছে। সে প্রতারণার মাধ্যমে পুরো সম্পত্তি নিজের নামে নিয়ে আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম রিপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হবিগঞ্জ মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজেদুল হাসান বলেন, “মাদকাসক্ত সন্তানেরা অনেক সময় এমন উশৃঙ্খল আচরণ করে। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা ওই ছেলের ডোপ টেস্টসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারি।”

মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত