শেবাচিম হাসপাতালে ওষুধের তীব্র সংকট: রোগীকে নার্সদের সাফ জবাব, প্রশ্ন উঠছে সরকারি ওষুধ যায় কোথায়।
বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা সত্ত্বেও সামান্য স্যালাইন কিংবা ক্যানুলা পর্যন্ত মিলছে না সরকারি স্টক থেকে। নার্স ও হাসপাতাল স্টাফরা রোগীদের সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছেন—"ওষুধ স্টকে নেই, বাইরে থেকে কিনে আনুন।
এই চরম অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছেন ঝালকাঠি সাথে যুক্ত থাকা গণমাধ্যমকর্মী মোঃ মিঠুন। তীব্র অসুস্থতা নিয়ে গত ১ নভেম্বর থেকে তিনি হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি আছেন। আজ ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কিছু ওষুধ লিখে দিলে তিনি সেগুলো হাসপাতালের নার্সদের (সিস্টার) রুমে নিয়ে যান এবং জানতে চান সরকারি কোনো ওষুধ দেওয়া হবে কি না।
উত্তরে ডিউটিরত নার্সরা তাকে সাফ জানিয়ে দেন, "আমাদের কাছে এই ওষুধগুলো স্টকে নেই। স্টকে না থাকার কারণেই ডাক্তার সাহেব আপনাকে বাইরে থেকে কেনার জন্য লিখে দিয়েছেন।
হাসপাতাল স্টাফদের এমন দায়সারা জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ মিঠুন প্রশ্ন তোলেন—"সরকারি হাসপাতালে যদি কোনো ওষুধই না থাকে, তবে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার যে সরকারি ওষুধ বরাদ্দ আসে, সেগুলো যায় কোথায়? অসহায় ও সাধারণ রোগীরা কেন প্রতিটি ওষুধ, এমনকি হাতের ক্যানুলা পর্যন্ত বাইরে থেকে চড়া দামে কিনতে বাধ্য হবে
ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভেতরে সরকারি ওষুধের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাইরের ফার্মেসিগুলোকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। শুধু ওষুধই নয়, চিকিৎসকদের অবহেলা এবং রোগীদের শারীরিক ক্ষত স্থান ভালোমতো পরীক্ষা না করেই ঢালাওভাবে পরীক্ষা (টেস্ট) লিখে দেওয়ার কারণেও প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ।
এই সার্জারি ওয়ার্ডে ২০ থেকে ২৫ দিন ধরে ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগীরাও একই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এখানে সরকারি সুবিধার নামে শুধু বেডটুকু ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। এই তীব্র ওষুধ সংকট ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
শেবাচিম হাসপাতালে ওষুধের তীব্র সংকট: রোগীকে নার্সদের সাফ জবাব, প্রশ্ন উঠছে সরকারি ওষুধ যায় কোথায়।
বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা সত্ত্বেও সামান্য স্যালাইন কিংবা ক্যানুলা পর্যন্ত মিলছে না সরকারি স্টক থেকে। নার্স ও হাসপাতাল স্টাফরা রোগীদের সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছেন—"ওষুধ স্টকে নেই, বাইরে থেকে কিনে আনুন।
এই চরম অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছেন ঝালকাঠি সাথে যুক্ত থাকা গণমাধ্যমকর্মী মোঃ মিঠুন। তীব্র অসুস্থতা নিয়ে গত ১ নভেম্বর থেকে তিনি হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি আছেন। আজ ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কিছু ওষুধ লিখে দিলে তিনি সেগুলো হাসপাতালের নার্সদের (সিস্টার) রুমে নিয়ে যান এবং জানতে চান সরকারি কোনো ওষুধ দেওয়া হবে কি না।
উত্তরে ডিউটিরত নার্সরা তাকে সাফ জানিয়ে দেন, "আমাদের কাছে এই ওষুধগুলো স্টকে নেই। স্টকে না থাকার কারণেই ডাক্তার সাহেব আপনাকে বাইরে থেকে কেনার জন্য লিখে দিয়েছেন।
হাসপাতাল স্টাফদের এমন দায়সারা জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ মিঠুন প্রশ্ন তোলেন—"সরকারি হাসপাতালে যদি কোনো ওষুধই না থাকে, তবে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার যে সরকারি ওষুধ বরাদ্দ আসে, সেগুলো যায় কোথায়? অসহায় ও সাধারণ রোগীরা কেন প্রতিটি ওষুধ, এমনকি হাতের ক্যানুলা পর্যন্ত বাইরে থেকে চড়া দামে কিনতে বাধ্য হবে
ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভেতরে সরকারি ওষুধের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাইরের ফার্মেসিগুলোকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। শুধু ওষুধই নয়, চিকিৎসকদের অবহেলা এবং রোগীদের শারীরিক ক্ষত স্থান ভালোমতো পরীক্ষা না করেই ঢালাওভাবে পরীক্ষা (টেস্ট) লিখে দেওয়ার কারণেও প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ।
এই সার্জারি ওয়ার্ডে ২০ থেকে ২৫ দিন ধরে ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগীরাও একই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এখানে সরকারি সুবিধার নামে শুধু বেডটুকু ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। এই তীব্র ওষুধ সংকট ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
