বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

রাস্ট্রায়ত্ত ২৫ টি পাটকলসহ ৪৪ শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি

রাস্ট্রায়ত্ত ২৫ টি পাটকলসহ ৪৪ শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি
ছবি : চেকপোস্ট

রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকলসহ ৪৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল এবং বন্ধ থাকা পাটকলগুলো পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ, খুলনা।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সুতপা বেতজ্ঞা লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০২০ সালের ২ জুলাই লোকসানের অজুহাতে দেশের ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হলে প্রায় ৯০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন।

তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর লোকসানের জন্য সরকারি প্রশাসনের অদক্ষতা, লাল ফিতার জটিলতা, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)-এর দুর্নীতি এবং স্থানীয় ব্যবস্থাপনাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেওয়াই মূলত দায়ী।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলসহ ৪৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের পরিকল্পনার বিরোধিতা করা হয়। বক্তারা বলেন, অতীতে বেসরকারিকরণের পর অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান সচল রাখা সম্ভব হয়নি।

তারা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করে। এসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হলে শ্রমিক শোষণ বাড়তে পারে এবং করপোরেট প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে।

পাট শিল্প সংকটের কারণ তুলে ধরা

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা পাট শিল্পের বর্তমান সংকটের জন্য সরকারের অবহেলা, বিজেএমসির পরিকল্পনাহীনতা ও দুর্নীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর নীতিগত ভূমিকার সমালোচনা করেন।

তারা বলেন, ২০১০ সালে প্রণীত ‘ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে দেশে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার ও চাহিদা আরও বাড়ত।

১০ দফা দাবি ঘোষণা

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো—

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসহ সব রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল।

বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকল, নিউজপ্রিন্ট ও হার্ডবোর্ড মিল দক্ষ ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু।

লোকসানের কারণ অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিজেএমসিসহ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক পুনর্গঠন।

পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার সৃষ্টি।

ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট বাস্তবায়ন।

বন্ধ পাটকল ও ছয়টি চিনিকলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ।

বেসরকারি পাটকল শ্রমিকদের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের সমপরিমাণ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সংবাদ সম্মেলনে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা, সদস্য সচিব, যুগ্ম আহ্বায়কসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার দ্রুত রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং বন্ধ পাটকল চালুর উদ্যোগ না নিলে শ্রমিকদের নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে সংগঠনটি।

#খুলনা_সংবাদ #পাটকলরক্ষা #শ্রমিকআন্দোলন

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


রাস্ট্রায়ত্ত ২৫ টি পাটকলসহ ৪৪ শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকলসহ ৪৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল এবং বন্ধ থাকা পাটকলগুলো পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ, খুলনা।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সুতপা বেতজ্ঞা লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০২০ সালের ২ জুলাই লোকসানের অজুহাতে দেশের ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হলে প্রায় ৯০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন।

তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর লোকসানের জন্য সরকারি প্রশাসনের অদক্ষতা, লাল ফিতার জটিলতা, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)-এর দুর্নীতি এবং স্থানীয় ব্যবস্থাপনাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেওয়াই মূলত দায়ী।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলসহ ৪৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের পরিকল্পনার বিরোধিতা করা হয়। বক্তারা বলেন, অতীতে বেসরকারিকরণের পর অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান সচল রাখা সম্ভব হয়নি।

তারা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করে। এসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হলে শ্রমিক শোষণ বাড়তে পারে এবং করপোরেট প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে।

পাট শিল্প সংকটের কারণ তুলে ধরা

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা পাট শিল্পের বর্তমান সংকটের জন্য সরকারের অবহেলা, বিজেএমসির পরিকল্পনাহীনতা ও দুর্নীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর নীতিগত ভূমিকার সমালোচনা করেন।

তারা বলেন, ২০১০ সালে প্রণীত ‘ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে দেশে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার ও চাহিদা আরও বাড়ত।

১০ দফা দাবি ঘোষণা

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো—

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসহ সব রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল।

বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকল, নিউজপ্রিন্ট ও হার্ডবোর্ড মিল দক্ষ ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু।

লোকসানের কারণ অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিজেএমসিসহ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক পুনর্গঠন।

পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার সৃষ্টি।

ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট বাস্তবায়ন।

বন্ধ পাটকল ও ছয়টি চিনিকলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ।

বেসরকারি পাটকল শ্রমিকদের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের সমপরিমাণ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সংবাদ সম্মেলনে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা, সদস্য সচিব, যুগ্ম আহ্বায়কসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার দ্রুত রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং বন্ধ পাটকল চালুর উদ্যোগ না নিলে শ্রমিকদের নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে সংগঠনটি।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত