সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে করুণ পরিণতি

রংপুর মেডিকেলের মর্গে ৫ বছর ধরে ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ

রংপুর মেডিকেলের মর্গে ৫ বছর ধরে ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নিমচা মৈত্রী স্ট্রিটের বাসিন্দা প্রবীর মন্ডল। ছবি : সংগৃহীত

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রমেক) মর্গে প্রায় ৫ বছর ধরে পড়ে আছে ভারতীয় নাগরিক প্রবীর মন্ডলের মরদেহ। আইনি জটিলতা ও মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় এখন সেটি কঙ্কালসদৃশ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান।

পুলিশ জানায়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশের ময়মনসিংহের এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা প্রবীর মন্ডলের। একই বছরের নভেম্বরে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে দহগ্রামে আসেন তিনি।

সেখানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থানকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ১০ নভেম্বর ২০২১ একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে বিজিবির মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে মরদেহটি ভারতে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।

তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হিমঘরে রাখার জন্য নিয়মিত বিল পরিশোধের ব্যবস্থা না থাকায় মরদেহটি বর্তমানে হিমঘরের পাশের একটি ট্রলিতে রাখা হয়েছে। বৈদ্যুতিক সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে মরদেহে পচন ধরেছে এবং বর্তমানে তা কঙ্কালসদৃশ হয়ে গেছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল বসুনিয়া বলেন, মরদেহটি হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে এবং এতে পচন ধরেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রবীর মন্ডলের মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এরপরও অগ্রগতি না হওয়ায় চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর আবারও চিঠি দেওয়া হয়।

পাটগ্রাম থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশে এসে অসুস্থ হয়ে প্রবীর মন্ডলের মৃত্যু হয়। অপমৃত্যু মামলা ও ময়নাতদন্তের পর পাটগ্রামে হিমঘর না থাকায় মরদেহ রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়। আইনি জটিলতার কারণে এতদিনেও মরদেহটি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। তিনি দ্রুত বিষয়টির সমাধান চান।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ২০২১ সাল থেকে মরদেহটি হাসপাতালে রয়েছে এবং পুলিশের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে সুজনের রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যাপক ফখরুল আনাম বেঞ্জু এবং আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ মরদেহটির দ্রুত হস্তান্তর অথবা প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সৎকারের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন মরদেহ পড়ে থাকা মানবিক ও আইনগত—দুই দিক থেকেই দ্রুত সমাধানের দাবি রাখে।

#রংপুরমেডিকেলকলেজ #প্রবীরমন্ডল #ভারতীয়নাগরিক

চেকপোস্ট

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রংপুর মেডিকেলের মর্গে ৫ বছর ধরে ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রমেক) মর্গে প্রায় ৫ বছর ধরে পড়ে আছে ভারতীয় নাগরিক প্রবীর মন্ডলের মরদেহ। আইনি জটিলতা ও মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় এখন সেটি কঙ্কালসদৃশ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান।

পুলিশ জানায়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশের ময়মনসিংহের এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা প্রবীর মন্ডলের। একই বছরের নভেম্বরে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে দহগ্রামে আসেন তিনি।

সেখানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থানকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ১০ নভেম্বর ২০২১ একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে বিজিবির মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে মরদেহটি ভারতে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।

তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হিমঘরে রাখার জন্য নিয়মিত বিল পরিশোধের ব্যবস্থা না থাকায় মরদেহটি বর্তমানে হিমঘরের পাশের একটি ট্রলিতে রাখা হয়েছে। বৈদ্যুতিক সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে মরদেহে পচন ধরেছে এবং বর্তমানে তা কঙ্কালসদৃশ হয়ে গেছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল বসুনিয়া বলেন, মরদেহটি হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে এবং এতে পচন ধরেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রবীর মন্ডলের মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এরপরও অগ্রগতি না হওয়ায় চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর আবারও চিঠি দেওয়া হয়।

পাটগ্রাম থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশে এসে অসুস্থ হয়ে প্রবীর মন্ডলের মৃত্যু হয়। অপমৃত্যু মামলা ও ময়নাতদন্তের পর পাটগ্রামে হিমঘর না থাকায় মরদেহ রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়। আইনি জটিলতার কারণে এতদিনেও মরদেহটি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। তিনি দ্রুত বিষয়টির সমাধান চান।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ২০২১ সাল থেকে মরদেহটি হাসপাতালে রয়েছে এবং পুলিশের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে সুজনের রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যাপক ফখরুল আনাম বেঞ্জু এবং আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ মরদেহটির দ্রুত হস্তান্তর অথবা প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সৎকারের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন মরদেহ পড়ে থাকা মানবিক ও আইনগত—দুই দিক থেকেই দ্রুত সমাধানের দাবি রাখে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত