শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

১৭ বছরে তহবিলে কোটি টাকার প্রশ্ন

মাধবপুরে পূজা উদযাপন পরিষদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মাধবপুরে পূজা উদযাপন পরিষদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
ছবি: চেকপোস্ট

হবিগঞ্জের মাধবপুরে পূজা উদযাপন পরিষদের তহবিলে থাকা অর্থের উৎস, বৈধতা ও হিসাব নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গত প্রায় ১৭ বছর ধরে উপজেলার শতাধিক সার্বজনীন মন্দিরে দুর্গাপূজার জন্য সরকারি বরাদ্দ হিসেবে আসা চাল বা অর্থের একটি অংশ বিধিবহির্ভূতভাবে পরিষদের তহবিলে জমা রাখা হতো।

বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে অডিট প্রতিবেদন দাবি করেছেন পূজা উদযাপন ফ্রন্টের মাধবপুর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রায় ১১৪টি সার্বজনীন মন্দির থেকে প্রতি বছর ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে সংগ্রহ করা হতো। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তবে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা দাবি করেছেন, সংগঠনের নামে গঠিত ফান্ডে বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ টাকা জমা রয়েছে, যা এবি ব্যাংকে সংরক্ষিত আছে।

মাধবপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন রায় বলেন, “যে টাকা রয়েছে তা কমিটির কাছেই জমা আছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই।”

মাধবপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক হিরো ভট্টাচার্য বলেন, “আমাদের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত দুর্গা উৎসবে কোনো কমিশন রাখা হয়নি। তবে বিগত কমিটির বিরুদ্ধে অনুদানের টাকা থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পুরো হিসাব প্রকাশ করা এখন সময়ের দাবি।”

অন্যদিকে, অনেক পূজারী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সংগঠনটির মূল দায়িত্ব ছিল পূজারীদের স্বার্থ রক্ষা ও ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু বিভিন্ন ঘটনায়, যেমন মণ্ডপে সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়া বা একটি মণ্ডপে পূজা স্থগিত হওয়া, এসব ক্ষেত্রে সংগঠনটির কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি।

সচেতন মহল ও ধর্মীয় নেতাদের প্রশ্ন— মন্দিরের জন্য সরকারি বরাদ্দ হিসেবে আসা অর্থ বা চালের অংশ কেন পূজা উদযাপন পরিষদের তহবিলে জমা হবে? এটি স্বেচ্ছা অনুদান নাকি অঘোষিত চাঁদা— তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। পাশাপাশি এ অর্থের ব্যয়, হিসাব ও জবাবদিহিতা নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক।

এদিকে, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে— সুরমা বাগানের ৯ নম্বর ডিভিশনের একটি মন্দিরে ২০২৪ সালের দুর্গাপূজার বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্ধারিত টাকার চেয়ে কম দেওয়া হয়েছে। এমন আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে যে, মন্দিরের বরাদ্দ থেকে একটি অংশ কমিশন হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

#মাধবপুর #দুর্গাপূজা #অর্থ_আত্মসাৎ

চেকপোস্ট

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


মাধবপুরে পূজা উদযাপন পরিষদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের মাধবপুরে পূজা উদযাপন পরিষদের তহবিলে থাকা অর্থের উৎস, বৈধতা ও হিসাব নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গত প্রায় ১৭ বছর ধরে উপজেলার শতাধিক সার্বজনীন মন্দিরে দুর্গাপূজার জন্য সরকারি বরাদ্দ হিসেবে আসা চাল বা অর্থের একটি অংশ বিধিবহির্ভূতভাবে পরিষদের তহবিলে জমা রাখা হতো।

বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে অডিট প্রতিবেদন দাবি করেছেন পূজা উদযাপন ফ্রন্টের মাধবপুর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রায় ১১৪টি সার্বজনীন মন্দির থেকে প্রতি বছর ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে সংগ্রহ করা হতো। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তবে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা দাবি করেছেন, সংগঠনের নামে গঠিত ফান্ডে বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ টাকা জমা রয়েছে, যা এবি ব্যাংকে সংরক্ষিত আছে।

মাধবপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন রায় বলেন, “যে টাকা রয়েছে তা কমিটির কাছেই জমা আছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই।”

মাধবপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক হিরো ভট্টাচার্য বলেন, “আমাদের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত দুর্গা উৎসবে কোনো কমিশন রাখা হয়নি। তবে বিগত কমিটির বিরুদ্ধে অনুদানের টাকা থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পুরো হিসাব প্রকাশ করা এখন সময়ের দাবি।”

অন্যদিকে, অনেক পূজারী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সংগঠনটির মূল দায়িত্ব ছিল পূজারীদের স্বার্থ রক্ষা ও ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু বিভিন্ন ঘটনায়, যেমন মণ্ডপে সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়া বা একটি মণ্ডপে পূজা স্থগিত হওয়া, এসব ক্ষেত্রে সংগঠনটির কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি।

সচেতন মহল ও ধর্মীয় নেতাদের প্রশ্ন— মন্দিরের জন্য সরকারি বরাদ্দ হিসেবে আসা অর্থ বা চালের অংশ কেন পূজা উদযাপন পরিষদের তহবিলে জমা হবে? এটি স্বেচ্ছা অনুদান নাকি অঘোষিত চাঁদা— তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। পাশাপাশি এ অর্থের ব্যয়, হিসাব ও জবাবদিহিতা নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক।

এদিকে, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে— সুরমা বাগানের ৯ নম্বর ডিভিশনের একটি মন্দিরে ২০২৪ সালের দুর্গাপূজার বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্ধারিত টাকার চেয়ে কম দেওয়া হয়েছে। এমন আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে যে, মন্দিরের বরাদ্দ থেকে একটি অংশ কমিশন হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত